শ্ৰীশ্ৰীপুণ্ডরীক বিদ্যানিধি





 শ্ৰীশ্ৰীপুণ্ডরীক বিদ্যানিধি

শ্রীগৌরসুন্দর পুণ্ডরীককে বাপ বলে ডাকতেন। বিদ্যানিধি মহাশয় প্রেমনিধি বা আচার্যনিধি নামে পরিচিত ছিলেন। শ্রীমদ কবিকর্ণপুর তাকে বৃষভানু রাজা বলতেন। “বৰভানু-তয়াখ্যাতঃ পুরা যে ব্রজমণ্ডলে। অধুন" পুণ্ডরীকাক্ষেবিদ্যানিধি মহাশয়ঃ । (গৌরগণােদ্দেশ দাপিক। ৫. সংখ্যা) পূৰ্ব্বে ব্রজমণ্ডলে যিনি বৃষভানু রাজা ছিলেন অধুনা তিনি শ্রীপুণ্ডরীক বিদ্যানিধি মহাশয়। তিনি শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীপাদের শিষ্য ছিলেন। শ্রীগদাধর পণ্ডিত তাকে গুরু পদে বরণ করেছিলেন। তার পিতার নাম বানেশ্বর (মতান্তরে শুক্লাম্বর) ব্রহ্মচারী ও মাতার নাম–গঙ্গাদেবী। তঁর পত্নীর নাম রত্নাবতী। তার পিত” বারেন্দ্র শ্ৰেণীৰ ব্ৰাহ্মণ ছিলেন। চট্টগ্রাম সহরের ছয়ক্রোশ উত্তরে হাট হাজারী থানার একক্রোশ পূৰ্ব্বে মেখলা গ্রামে তার শ্রীপাট ছিল। বিদ্যানিধি মহাশয়ের ভজন মন্দিরটি বর্তমান জীর্ণ অবস্থা প্রাপ্ত হয়েছে। শ্রীমদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর পুণ্ডরীক বিদ্যানিধির বিশেষ বিবরণ দিয়েছেন-
চাটি গ্রামে জন্ম বিপ্র পরম পণ্ডিত।
পরম-স্বধর্ম সৰ্ব্ব-লােক-আপেক্ষিত ।
কৃষ্ণভক্তিসিন্ধু-মাঝে ভাসে নিরন্তর।
অশ্রু-কম্প-পুলক-বেষ্টিত কলেবর।
গঙ্গাস্নান না করেন পদ স্পর্শভয়ে ।
গঙ্গা দরশন করে নিশার সময়ে।
গঙ্গায় যে-সব লােক করে অনাচার।
কল্লোল, দন্তধাবন, কেশ-সংস্কার ||
এ সকল দেখিয়া পায়েন মনে ব্যথা।
এতেক দেখেন গঙ্গা নিশায় সথা ।
বিচিত্র বিশ্বাস আর এক শুন তান।
দেবার্চন-পূর্বে করে গঙ্গাজল পান ।।
– শ্রীচৈঃ ভাঃ মধ্য ৭২৩-২৮)
ভগবান শ্রীগৌরসুন্দর নবদ্বীপে মহাভাব প্রকাশ করে
বিদ্যানিধি নাম নিয়ে ক্রন্দন করেছিলেন—
নৃত্য করি, উঠিয়া বসিলা গৌর-রায়।
পুণ্ডরীক বাপ' বলি কান্দে উভরায় ।।
পুণ্ডরীক আরে মাের বাপরে বন্ধুরে ।
কবে তােমা দেখিব, আরে রে বাপরে ।
হেন চৈতন্যের প্রিয়পাত্র বিদ্যানিধি ।
হেন সব ভক্ত প্রকাশিলা গৌরনিধি ।।
(চৈঃ ভাঃ মধ্য ৭/২৩-২৮)
ঐবিদ্যানিধি মহাশয় বিষয়ীর মত অবস্থান করতেন। শ্রীনবদ্বীপ নগরেও তার এক বসত বাটী ছিল। মুকুন্দ বেজ মূল্যবান্ খাট। ওঝা তার দেশের লােক ছিলেন। তিনি নবদ্বীপ মায়াপুরে এলে শ্ৰীমুকুন্দ তাঁকে কীৰ্ত্তন শুনাতেন। একবার শ্রীমুকুন্দ গদাধর পণ্ডিতকে সঙ্গে নিয়ে পুণ্ডরীক বিদ্যানিধির বাটীতে এসেছিলেন। পদাধর পণ্ডিত বিদ্যানিধিকে প্রনাম করলেন। বিদ্যানিধি মহাশয় তাকে বসতে বললেন। বিদ্যানিধি মহাশয় মূকন্দের নিকট গদাধর পণ্ডিতের পরিচয় পেলেন। গদাধর পণ্ডিত দেখতে পেলেন বিদ্যানিধি মহাশয় বাহ্য়ত রাজপুত্রের ন্যায়। তাঁর মূল্যবান খাট তাতে দিব্য শয্যা ও পট্ট নেতের বালিশ, উপরে দিব্যচন্দ্রাতপ । পাশে জলের ঝারি ও তাম্বুলসজ্জিত পিতলের বাটা। আলবাটীর সম্মুখে বিশাল আয়না। দুই পাশে দুইজন ভৃত্য ময়ুরের পাখা নিয়ে ব্যজন করছে। ললাটে চন্দনের উৰ্দ্ধপুও তার মধ্যে ফাগুবিন্দু শােভা পাচ্ছে। এসব দেখে গদাধর পণ্ডিতের সশয় হল। তিনি মনে মনে বললেন-
“ভাল ত বৈষ্ণব, সব বিষয়ীর বেষ।
দিব্যভােগ, দিব্যবাস, দিব্যগন্ধ কেশ ।।
শুনিয়া ত ভাল ভক্তি আছিল ইহানে।
আছিল যে ভক্তি, সেই গেল দরশনে ।।
( চৈঃ ভাঃ ৭/৬৯-৭০)
গদাধর পণ্ডিত শিশুকাল থেকেই বৈরাগ্যশীল। শ্ৰীমুকুন্দ বুঝতে পারলেন পদাধরের মনে কোন সংশয় হয়েছে। মুকুন্দ ভাগবতের এক শ্লোক সুস্বরে গাইতে লাগলেন যাতে বিদ্যানিধির স্বরূপ প্রকাশ পায়।
অহহ কী যং স্তনকালকূটং
জিঘাংসয়াপায়য়দপ্যসাধ্বী।
লেভে গতিং ধাত্রচিতাং ততোকন্য
কং বা দয়ালুং শরণং ব্রজেম ।।
( ভাঃ ৩/২/২৩ )
পূতন লােকরালক্ষ্মী রাক্ষসী রুধিরাশনা।
জিঘাংসয়াপি হরয়ে স্তনং দাপ সদ্গতিম্ ।
(ভা ১০/৬/৩৫)
ভক্তিযােগের এই বর্ণন শ্রবণ করে বিদ্যানিধি মহাশয় প্রেমে পাগলপ্রায় হয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন।
নয়নে অপূর্ব বহে আনন্দধার।
যেন গঙ্গাদেবীর হইল অবতার ।
অশ্রু, কম্প, স্বেদ, মূচ্ছ, পুলক, হুঙ্কার।
এককালে হৈল সবার অবতার।
‘বােল, বােল, বলি মহা লাগিল গজ্জিতে।
স্থির হইতে না পারিলা পড়িলা ভূমিতে।
--( শ্রীচৈঃ ভাঃ ৭/৭৯/৮১)
ভূতলে পড়ে বিদ্যনিধি মহাশয় উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করতে করতে বললেন—মাের প্রাণের ঠাকুর কোথায় গেল? কোথায় কৃষ্ণ । হায়! হায়! আমি বঞ্চিত হলাম। তার নয়নের জলে ধরণী সিক্ত হতে লাগল। কি মহাকম্প এক এক বার হচ্ছিল। দশজন সেবকও ধরে রাখতে পারছিলেন না। বিদ্যানিধির অত্যক্তৃত কৃষ্ণ-ভক্তি প্রেম-বিকার সকল দর্শন করে গদাধর পণ্ডিত বিস্ময়ান্বিত হলেন। তিনি বললেন-
“হেন মহাশয়ে আমি অবজ্ঞা করিলু।
কোন্ বা অশুভক্ষণে দেখিতে আইলু।”
গদাধর পণ্ডিত মুকুন্দকে বলতে লাগলেন-
“মুকুন্দ, আমার তুমি কৈলে বন্ধুকাব্য ।
দেখাইলে ভক্ত বিদ্যানিধি ভট্টাচার্য।
এমত বৈষ্ণব কিবা আছে ত্রিভুবনে।
ত্রিলােক পবিত্র হয় ভক্তি-দরশনে।”
চৈঃ ভ মধ্য ৭/৯৭-৯৮)
গদাধর পণ্ডিত বললেন,—মুকুন্দ ! আমি যখন এর কাছে অপরাধ করেছি তখন এর থেকে মদীক্ষা নেব মুকুন্দ বললেন —বেশ , ভাল কথা। অতঃপর মুকুন্দ বিদ্যানিধির কাছে গদাধর পণ্ডিত সম্বন্ধে সমস্ত কথা বললেন। গদাধরের কথা শুনে বিদ্যানিধি পরম সুখী হলেন। তারপর শুক্লপক্ষের দ্বাদশীর দিন বিদ্যানিধি গদাধর পণ্ডিতকে মন্ত্রদীক্ষা দিলেন। একদিন শ্রীপুণ্ডরীক বিদ্যানিধি মহাশয় রাত্রে অলক্ষিতে শ্রীগৌরসুন্দরের কাছে এলেন এবং আনন্দে প্রভুর চরণতলে মূচ্ছিত হয়ে পড়লেন। অবশেষে ক্রন্দন করে বলতে লাগলেন—হে কৃষ্ণ! হে বাপ! আমি অপরাধী। আমায় আর কত দুঃখ দিবে? তুমি সমস্ত জগতকে উদ্ধার করলে, কেবল আমায় বাদ দিলে । গৌরসুন্দর তৎক্ষণাৎ বিদ্যানিধিকে কোলে তুলে নিলেন। এবার ভক্তগণ বিদ্যানিধিকে চিনতে পারলেন । গৌরসুন্দর বিদ্যানিধিকে বলতে লাগলেন।
“আজি কৃষ্ণ বা-সিদ্ধি করিলা আমার ।
আজ পাইলাম সন-মনােরথ-পার।
নিদ্ৰা হৈতে আজি উঠিলাম শুভক্ষণে
দেখিলাম প্রেমনিধি সাক্ষাৎ নয়নে ॥”
(শ্রীচৈঃ ভা মধ্য ৭/১৩৮, ১৪৩)
ভক্তগণ আনন্দে 'হরি' 'হরি' ধ্বনি করতে লাগলেন। অতঃপর বিদ্যানিধি মহাশয় অদ্বৈতাদি ভক্তগণের চরণ বন্দনা করলেন। বিদ্যানিধির সঙ্গে সমস্ত ভক্তের মিলন হল। মহাপাপী জগাই ও মাধাইকে উদ্ধার করে মহাপ্রভু যখন ভক্তসঙ্গে গঙ্গাতে জলকেলি করছিলেন তখন তথায় বিদ্যানিধিও ছিলেন। প্রভুর নদীয়া সংকীর্তন বিলাসের সময় বিদ্যানিধি প্রধান সহচর ছিলেন । মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণের পর যখন পুরীধামে অবস্থান করতেন, প্রতিবৎসর গৌড়ীয় ভক্তগণের সঙ্গে পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি মহাশযও পুরীধামে যেতেন। পুরীধামে মহাপ্রভুর চন্দন যাত্রার সময় নরেন্দ্র সরোবরে ভক্তসঙ্গে জলকেলি কালে বিদ্যানিধি মহাশয় স্বরূপ-দামােদরের সঙ্গে জলকেলি করতেন।
“দুই সখা—বিদ্যানিধি, স্বরূপদামােদর।
হাসিয়া আনন্দে জল দেন পরস্পর।”
( শ্রী চৈঃ ভাঃ অন্তঃ ৮/১২৪)
একদিন পুরীধামে শ্রীগদাধর পণ্ডিত মহাপ্রভুকে বললেন আমার ইষ্টমন্ত্র সুষ্ঠুভাবে উচ্চারিত হচ্ছে না। মনে হয় মন্ত্রটি কারও কাছে প্রকাশ করেছি। মহাপ্রভু বললেন তােমার গুরু বিদ্যানিধি তিনি অল্পকালের মধ্যে এখানে আসবেন। তখন তুমি তার সঙ্গে আলােচনা করতে পারবে। ঠিক এমন সময় বিদ্যানিধি মহাশয় পুরী ধামে এসে হাজির। তঁাকে পেয়ে ভক্তগণের আনন্দের সীমা রইল না। শ্রীগদাধর পণ্ডিতের ইচ্ছা পূর্ণ হল। বিদ্যানিধি মহাশয়ের থাকবার স্থান হল সমুদ্রতীরে যমেশ্বরে। তিনি স্বরূপ-দামােদর প্রভুর বড় প্রিয় মিত্র ছিলেন। দুইজনে সর্বদা ইষ্টগােষ্ঠী করতেন এবং জগন্নাথ দর্শন করতেন। এমন সময় ক্ষেত্রে ওড়ন ষষ্ঠী পৰ্ব্ব-যাত্রা আরম্ভ হল । জগন্নাথ নববস্ত্রাদি ধারণ করছিলেন। ভগবানের নববস্ত্র হল-মান্ডুয়া বস্ত্র । মান্ডুয়া বস্ত্র অশুচি হলেও ভগবানের ইচ্ছানুযায়ী তার সেবকগণ তাঁকে এ বস্ত্র পরিয়ে থাকেন। এইদিন নব মান্ডুয়া বস্ত্র ধারণ লীলা উৎসবটি খুব জাঁকজমকের সঙ্গে হচ্ছিল। শ্রীগৌরসুন্দর ভক্তগণসহ বস্ত্রধারণ লীলা দর্শন করছিলেন, জগন্নাথ দেব শুক্ল-পীত-নীল রঙের বিবিধ পট্টবস্ত্র ধারণ করে পুষ্প মাল্যাদি দ্বারা সুসজ্জিত হচ্ছিলেন। কত রকমের বাজনা যাত্রাকালে বাদিত হচ্ছিল। কিছু রাত পর্যন্ত মহাপ্রভু এ যাত্রা কৌতুক আনন্দ-চিত্তে দর্শন করলেন। তারপর ভক্তসঙ্গে নিজ স্থানে বিজয় এমন সময় দুই বন্ধু স্বরূপ দামােদর প্রভু ও বিদ্যানিধি 'মহাশয় বিবিধ নর্মালাপ করতে করতে মান্ডুয়া বস্ত্রের কথা তুললেনমাগুয়া বস্ত্র ঈশ্বর পরেন, এতে সন্দেহযুক্ত হয়ে বিদ্যানিধি মহাশয় স্বরূপদামােদর প্রভুকে বলতে লাগলেন—এদেশে শ্রুতি ও স্মৃতির প্রভূত বিচার আছে। তথাপি ঈশ্বর অপবিত্র মান্ডুয়া বস্ত্র ধারণ করেন কেন ? স্বরূপদামােদর প্রভু বললেন—ইহাই বােধ হয় এদেশের আচার । দেশাচার যদি হয়, ইথে দোষ কি? ঈশ্বরের ইচ্ছা না থাকলে রাজা নিষেধ করতেন। বিদ্যানিধি বললেন ঈশ্বর যা ইচ্ছা তিনি করতে পারেন। কিন্তু সেবক পাণ্ডাগণ সে অপবিত্র মাণ্ডয় বস্ত্র ধারণ করে কেন? মাওয়া বস্ত্র এত অপবিত্র যে স্পর্শ করলেও হাত ধুতে হয়। রাজপাত্রগণ অবুধ, এর বিচার করেন না। রাজাও দেখি এই দিন মান্ডুয়া বস্ত্র শিরে ধারণ করেন। স্বরূপদামােদর প্রভু বললেন—ভাই ? বােধ হয় ওড়নষষ্ঠীর দিন এ বস্ত্র সম্বন্ধে কোন দোষ নাই । কারণ সাক্ষাৎ পরব্রহ্ম জগন্নাথৰূপে অবতীর্ণ। জন্য এখানে বিধি নিষেধের
কোন বিচার নাই । বিদ্যানিধি মহাশয় বললেন—জগন্নাথদেব ঈশ্বর—সব কিছু ধারণ করতে পারেন। তাই বলে কি এগুলাও ব্ৰহ্ম হ’ল ? এরাও কি বিধি নিষেধের অতীত হল ? এই সব কথা বলে হাস্য করতে করতে দুই মিত্র নিজ নিজ বাসস্থানে এলেন এবং শয়ন করলেন। অনন্তর বিদ্যানিধি মহাশয় স্বপ্ন দেখলেন যে শ্রীজগন্নাথ ও বলরাম দুইজনে ক্রোধে অধীর হয়ে বিদ্যানিধির দুই গালে দুই চড় লাগিয়ে বলতে লাগলেন
মাের জাতি, মাের সেবকের জাতি নাই।
সকল জানি তুমি রহি' এই ঠাঞি
তবে কেনে রহিয়াছ জাতিনাশা-স্থানে।
জাতি রাখি চল তুমি আপন-ভবনে ॥
আমি যে করিয়া আছি যাত্রার নির্বন্ধ ।
হাত ভাব অনাচারের সম্বন্ধ ॥
—(শ্রীচৈঃ ভাঃ অন্ত্যঃ ১০/১৩২-১৩৪)
শ্রীপুণ্ডরীক বিদ্যানিধি ক্রন্দন করতে করতে জগন্নাথের চরণে মাথা রেখে বলতে লাগলেন—হে নাথ ! যেমন অপরাধ করেছিলাম, তেমনি শাস্তি পেলাম। আজ আমার পরম শুভদিন। তােমার শ্রীহস্ত আমার কপােল লাগল । জানি না কোন জন্মে কি সুকৃতি করেছিলাম। তাই তােমার হস্ত স্পর্শ অনুভব করলাম । ভগবান শ্রীবিদ্যানিধির প্রতি স্বপ্নে এইরূপ কৃপা করে অন্তর্ধান করলেন। বিদ্যানিধি প্রভাতে গাত্রাপান করে দেখলেন জগন্নাথ ও বলরামের চপেটাঘাতে তার দুই গাল ফুলে গেছে। স্বপ্ন-বিবরণ স্মরণ করে তিনি লজ্জিত হলেন। প্রতিদিন স্বরূপদামােদর প্রভু প্রাতে তার নিকট আগমন করতেন এবং উভয়ে জগন্নাথ মন্দিরে ঠাকুর দর্শন করতে যেতেন। দিনের মত এদিনও স্বরূপ দামােদর প্রভু বিদ্যানিধির বাসস্থানে এলেন। দেখলেন বিদ্যানিধি তখনও শায়িত আছেন। সেদিন এতক্ষণ পর্যন্ত শয্যায় থাকবার কারণ জানতে চাইলে বিদ্যানিধি মহাশয় স্বরূপ দামােদর প্রভুকে নিকটে ডেকে রাত্রের অলৌকিক স্বপ্ন বিবরন দিলেন। বিদ্যানিধির মুখে সবকিছু শ্রবণ করে এবং তার দুই গাল ফোলা দেখে স্বরূপদামােদর প্রভু আনন্দ সাগরে ভাসতে লাগলেন। তিনি বললেন—স্বপ্নে এসে ভগবান কাহাকেও শাস্তি প্রদান করেন, এইকথা কখনও শুনি নাই। কিন্তু আজ তা প্রত্যক্ষ করলাম । আপনার সমান ভাগ্যবান্ ত্রিলােকে কে আছে। সাক্ষাৎ ভগবানের করস্পর্শ লাভ করেছেন। স্বরূপদামােদর আনন্দভরে বিদ্যানিধি প্রভুর প্রশংসা করলেন । সখার সম্পদ দেখে যেমন সখার আনন্দ হয় সেরূপ পুণ্ডরীক বিদ্যানিধির সৌভাগ্য দেখে দামােদর প্রভু নিজেকে ভাগ্যবান্ মনে করতে লাগলেন ভগবান্ শ্রীগৌরসুন্দরের অতি প্রিয়পাত্র ছিলেন
বিদ্যানিধি মহাশয়। গৌরসুন্দর তাকে বাপ ডাকতেন। বিদ্যানিধি প্রভু শ্রীগৌরসুন্দরের লীলা-সহচর ছিলেন। অত:পর বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের উক্তি উল্লেখ করে এবং শ্রীবিদ্যানিধি প্রভুর চরণ বন্দনা করে প্রবন্ধ শেষ করছি ।
পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি-চরিত্র শুনিলে ।
অবশ্য হারে কৃষ্ণ পাদপদ্ম মিলে ।
—(চৈঃ ভা; ৩/১০/১৮১)








SHARE

Milan Tomic

Hi. I’m Designer of Blog Magic. I’m CEO/Founder of ThemeXpose. I’m Creative Art Director, Web Designer, UI/UX Designer, Interaction Designer, Industrial Designer, Web Developer, Business Enthusiast, StartUp Enthusiast, Speaker, Writer and Photographer. Inspired to make things looks better.

  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment