শ্রীকাশীশ্বর পণ্ডিত ছিলেন শ্রীঈশ্বরপুরীপাদের শিষ্য। পিতার নাম শ্রীবাসুদেব ভট্টাচাৰ্য। তাঁদের রাজ-উপাধি চৌধুরী । শ্রীরামপুর ষ্টেশন থেকে এক মাইল দূরে চাতরা গ্রামে শ্রীকাশীশ্বর পণ্ডিত শ্রীগৌরাঙ্গ ও শ্রীরাধাগােবিন্দ গ্রিহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ঈশ্বরপুরীর শিষ্য—ব্রহ্মচারী কাশীশ্বর।
শ্রীগােবিন্দ নাম তার প্রিয় অনুচর।
তার সিদ্ধি-কালে দোহে তার আজ্ঞা পাঞ।
নীলাচলে প্রভুস্থানে মিলিল আসিয়া।
গুরুর সম্বন্ধে মান্ত কৈল দুহাকারে।
তাঁর আজ্ঞা মানি সেবা দিলেন দোহারে।
অঙ্গসেবা গােবিন্দের দিলেন ঈশ্বর।
জগন্নাথ দেখিতে আগে চলে কাশীশ্বর।
অপরশ যায় গােসাঞি মনুষ্য-গহনে।
মনুষ্য ঠেলি পথ করে কাশী বলবানে।
—(চৈঃ চঃ আদি ১০/১৩৮-১৪২)
ব্রহ্মচারী শ্রীকাশীশ্বর পণ্ডিত ও শ্রীগােবিন্দ—দু’জন শ্ৰীঈশ্বরপুরীর প্রিয় শিষ্য ছিলেন। অন্তর্ধান কালে ঈশ্বরপুরী দু’জনকে শ্রীচৈতন্য-গােসাঞির সেবা করবার আদেশ দিয়ে যান। ঈশ্বরপুরী অপ্রকট হলে দু’জন নীলাচলে মহাপ্রভুর সন্নিধানে আগমন করেন। গুরুর প্রিয় শিষ্য ছিলেন তারা। তাই সম্মানার্হ।তথাপি শ্রীগুরুর আজ্ঞা জেনে মহাপ্রভু তাদের সেবা গ্রহণ কলেন। শ্রীগােবিন্দের উপর পড়ল মহাপ্রভুর অঙ্গ-সেবার ভার। শ্রীকাশীশ্বর পণ্ডিতের উপর পড়ল জগন্নাথ দর্শন-কালে লােকের ভিড় ঠেলে সাবধানে মহাপ্রভুকে মন্দিরে নিয়ে যাওয়ার ভার। কাশীশ্বর পণ্ডিত খুব বলবান ছিলেন । কবিকর্ণপুর গােস্বামী লিখেছেন-
পুরা বৃন্দাবনে চেটো স্থিতে ভূঙ্গার ভঙ্গুরে।
কাশীশ্বর গােবিন্দো তো জাতে প্রভু সেবকে
— শ্রীগৌর গণােদ্দেশ দীপিকা )
পূৰ্বে ব্রজে যারা ভৃঙ্গার ও ভঙ্গুর নামে শ্রীকৃষ্ণের চেট সেবক { জল আনয়নকারী সেবক ) ছিলেন, অধুনা তারা কাশীশ্বর ও গোবিন্দ নামে মহাপ্রভুর সেবক হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীকাশীশ্বর পণ্ডিত পুরীধামে মহাপ্রভুর সঙ্গে বহুকাল অবস্থান করেছিলেন। কীর্তনান্তে ভক্তগণের মধ্যে তিনি প্রসাদ বিতরণ করতেন।
চাতরা গ্রামে তাঁর সেবিত যে বিগ্রহগণ আছেন তাঁদের পরবর্তী সেবক হন— শিবচন্দ্র চৌধুরী। তিনি শ্রীকাশীশ্বর পণ্ডিত গােস্বামীর ভ্রাতৃবংশীয়। পূৰ্বে নয় সের চালের ভােগ হত। বর্তমানে ভােগের কোন ভাল ব্যবস্থা নাই। কাশীশ্বর পণ্ডিত গােস্বামীর শিষ্য শ্রীগােবিন্দ গােসাঞি। তিনি শ্রীগােবিন্দদেবের শ্রেষ্ঠ সেবক ছিলেন।
শ্রীরূপগােস্বামী বৃন্দাবনে শ্রীগােবিন্দদেবের সেবা প্রবর্তন করেছিলেন—শুনে সুখী হয়ে মহাপ্রভু পুরীর থেকে শ্রীকাশীশ্বর পণ্ডিতকে শীঘ্র বৃন্দাবন যাবার আদেশ দিলেন। কিন্তু শ্রীকাশীশ্বর শ্রীগৌরসুন্দরকে ত্যাগ করে যেতে চাইলেন না। অন্তর্যামী গৌরসুন্দর তখন একটী স্বরূপ বিগ্রহ তাকে দিলেন ও সে বিগ্রহের সঙ্গে ভােজন করলেন, তখন কাশীশ্বরের বিশ্বাস হল। এ সম্বন্ধে শ্রীনরহরি চক্রবর্তী ঠাকুর বর্ণন করছেন—
কাশীশ্বর কহে প্রভু তােমারে ছাড়িতে
বিদরে হৃদয়, যে উচিত কর ইথে ।
কাশীশ্বর হৃদয় বুঝিয়া গৌরহরি ।
দিলেন নিজ স্বরূপ-বিগ্রহ যত্ন করি ।
প্রভু সে বিগ্রহসহ অন্নাদি ভুলি ।
দেখি কাশীশ্বরের পরমানন্দ হৈল ॥
গৌর-গােবিন্দ নাম প্রভু জানাই।
তারে লৈয়া কাশীশ্বর বৃন্দাবনে আইলা ।
শ্রীগােবিন্দ দক্ষিণে প্রভুরে বসাইয়া ।
করেন অদ্ভুত সেবা প্রমাবিষ্ট হইয়া ।
(ভঃ রঃ ২য় তরঙ্গ)
মহাপ্রভু বললেন এ বিগ্রহের নাম হবে গৌর-গােবিন্দ কাশীশ্বর পণ্ডিত বিগ্রহ নিয়ে বৃন্দাবন গেলেন এবং গােবিন্দ- দেবের দক্ষিণ পাশে সে বিগ্রহ স্থাপন করে প্রেমভরে সেবা করতে লাগলেন। কাশীশ্বর পণ্ডিত গােস্বামীর মহিমা অনন্ত ও অপার। তার তিরােভাব তিথি উৎসব আশ্বিন পূর্ণিমার শ্রীরাধা গােবিন্দের মহারাস মহােৎসবের দিন।
ধন্যবাদ

0 comments:
Post a Comment