শ্রীউদ্ধব দাস একজন বিখ্যাত পদকর্তা ছিলেন। তাঁর জন্ম স্থান 'টেঞা বৈদ্যপুর'। ইনি অম্বষ্ট কুলে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ইনি শ্রীনিবাস আচার্য্যের প্রপৌত্র শ্রীরাধামোহন ঠাকুরের শিষ্য ছিলেন। তাঁর সম্বন্ধে শ্রীযুত জগাবন্ধু বাবু গৌরপদ তরঙ্গিণীর ভূমিকায় লিখেছেন “এক উদ্ধব দাস শ্রীগদাধর পণ্ডিতের শাখা। কিন্তু পদাবলী রচয়িতা উদ্ধব দাস স্বতন্ত্র ব্যক্তি।” এই উদ্ধব দাসের নাম—কৃষ্ণকান্ত মজুমদার। ইনি পদকল্পতরু গ্রন্থের সঙ্কলয়িতা বৈষ্ণব দাস বা গোকুলানন্দ সেনের বন্ধু ছিলেন।
এ পরিচয় দিয়েছেন দীনেশ সেন। শ্রীরাধামোহন ঠাকুর পদামৃত সমুদ্রের মধ্যে কোথাও উদ্ধব দাসের নাম উল্লেখ করেন নাই। পদামৃত সমুদ্রের পরেই উদ্ধব দাস পদকর্তা রচনা আরম্ভ করেছেন। শ্রীউদ্ধব দাস স্বয়ং এক জায়গায় নিজ গুরু শ্রীরাধামোহন ঠাকুরের পরিচয় এইরূপ দিয়াছেন—
“শ্রীরাধামোহন পদ যার ধন সম্পদ
নাম গায় এ উদ্ধব দাস।”
শ্রীউদ্ধব দাসের কবিত্বশক্তি অদ্ভুত, শ্রীগোবিন্দ দাসের বা রায় শেখরের ন্যায়। ইনি পূর্ব্বরাগ, মান আক্ষেপানুরাগ বাল্যলীলা, পোষ্য এবং শ্রীকৃষ্ণের বিবিধ লীলাবিষয়ক বহু কীর্তন রচনা করেছেন।
পদ কীর্ত্তন শ্রীগৌরাঙ্গ বিষয়ক—
চৈতন্য কল্পতরু অদ্বৈত যে শাখা শুরু
কীৰ্ত্তন কুসুম পরকাশ।
ভকত ভ্রমরগণ মধুলোভে অনুক্ষণ
হরি বলি ফিরে চারি পাশ ।।
গদাধর মহাপাত্র শীতল অভয় ছত্র
গোলক অধিক সুখ তায়।
তিন যুগে জীব যত প্রেম বিনু তাপিত
তার তলে বসিয়া জুড়ায় ।।
নিত্যানন্দ নাম ফল প্রেম রস ঢলঢল
খাইতে অধিক লাগে মীঠ ।
শ্রীগুরুদেবের মনে মহিমা ফলের জ্ঞানে
উদ্ধব দাস তার কীট।।
হিন্দোল লীলা বর্ণন :-
রাধাকুণ্ড সন্নিধানে, হর্ষদ বর্ষদ বলে,
বকুল কদম্ব তরু শ্রেণী।
বান্ধিয়াছে দুই ডালে রক্ত পট্ট ডোরি ভালে
মাঝে মাঝে মুকুতা খিচনি ।।
পুষ্প দল চূর্ণ করি সূক্ষ্মবস্তু মাঝে ভরি
সুকোমল তুলী নিরক্ষিয়া।
পাটার উপরে মঢ়ি ভুরি বন্ধ কোণা চারি
কৃষ্ণ আগে উঠিলেন গিয়া ।।
রাইকর আকর্ষণ করি অতি হর্ষ মন
তুলিলেন হিন্দোলা উপরি।
কর পুটে আটি ভোরি দোলা পাটে পদ ধরি
সমুখা সমুখি মুখ হেরি।।
হেন কালে সখীগণে করি নানা রাগ গানে
পুষ্পের আরতি দুহে কৈল ।
এ উদ্ধব দাস ভণে সবে কৈল নির্মঞ্জুনে
অতিশয় আনন্দ বাড়িল ।।
শ্রী গৌরচন্দ্র :-
মধু ঋতু বিহরই গৌর কিশোর।
শ্রীগৌরচন্দ্রঃ গদাধর মুখহেরি আনন্দে নরহরি
পুরব প্রেমে ভেল ভোর।।
নবীন লতা নব পল্লব তরুকুল
নঙল নবদ্বীপ ধাম ।
ফুল্ল কুসুমচয় ঝঙ্কৃত মধুকর
সুখদ এ ঋতুপতি নাম ।।
মুকুলিত চুত গহন অতি সুললিত
কোকিল কাকলি রাব।
সুরধুনি তীর সমীর গন্ধিত
ঘরে ঘরে মঙ্গল গাব ।।
মনমথ রাজ সাজ লেহ ফীরয়ে
বন ফুল ফল অতিশোভা।
সময় বসন্ত নদিয়া পুর সুন্দর
উদ্ধব দাস মনলোভা ।।
নাগরি নাগর অরুণ বসন ধর
শ্রমভরে ঝরঝর ঘাম।
দুহু মুখ ইন্দু বিন্দু বিন্দু চুয়ত
অরুণিত মুকুতা দাম ।।
দুহুঁ মন আনন্দ পুঞ্জে।
বহুবিধ খেলি হেলি দুহুঁ দুহুঁ তনু
বৈঠল নিরজন কুঞ্জে।।ধ্রু।।
রতন সিংহাসন আসন মণিময়
ফুলচয় রচিত সুঠান ।
সকল সখীগণ করতহি সেবন
সময়োচিত যত জান ।।
ঝারি ঝারি ভরি দেই গুণ মঞ্জরী
কোন সখী চামর ঢুলায় ৷
সুরঙ্গ অধরে কোই তাম্বুল যোগায়ই
উদ্ধব দাস বলি যায় ।।
0 comments:
Post a Comment