“হুঙ্কার করি উঠে বলে হরি হরি।
প্রেমাবেশে নৃত্য করে উর্দ্ধ বাহু করি।”
( চৈঃ চঃ মধ্যাঃ ১৮-১৭৭)
সেই মধুর হরি হরি ধ্বনি শুনে ম্লেচ্ছগণ চমৎকৃত হল । ভীত হয়ে ভক্তগণকে সত্বর মুক্ত করে দিল। তারপর বিলি খান প্রভুকে নমস্কার করে বললেন—যতিবর। এ চার ঠগ, আপনাকে ধুতুরা খাওয়ায়ে সব হরণ করে নিয়েছে। প্রভু বললেন-আমি সন্ন্যাসী, আমার কোন অর্থ-কড়ি নাই। মুরু ব্যাধিতে কোন কোন সময় অচৈতন্য হলে এরা আমায় রক্ষা
বিজলি খানের সঙ্গে একজন মৌলবী ছিলেন। তিনি হিন্দু ও ইসলাম শাস্ত্রে পারঙ্গত ছিলেন। তিনি বললেন—আপনাকে পেয়ে আমরা বড় প্রত হয়েছি। আপনার কাছে কিছু শুনতে চাই ! প্রভু বললেন—স্বচ্ছন্দে জিজ্ঞাসা করুন। মৌলবী বললেন—নিৰ্বিশেষ-বাদ ও সবিশেষ-বাদ কি ? আমাদের শাস্ত্রেও অদ্বৈতবাদের কথা আছে। দুই বাদের তাৎপর্য ভালভাবে শুনতে ইচ্ছা করি।
মহাপ্রভু বললেন—আপনাদের শাস্ত্রে ঈশ্বরকে নিৰ্বিশেষ বলেছেন। আবার সবিশেষও বলেছেন। আপনাদের শাস্ত্রে • ঈশ্বর এক—তিনি সর্বৈশ্বৰ্যময়, পূর্ণ। তার অঙ্গকান্তি শ্যামবর্ণ। “সর্বৈশ্বয্যপূর্ণ তেহে শ্যাম কলেবর।”
(চৈঃ চঃ মধ্যঃ ১৮১৯) সেই ভগবানের সেবার দ্বারা সংসার বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ হয়। তার চরণ সেবাই বা প্রীতিই পরম পুরুষার্থ ।
মহাপ্রভুর মুখে এরূপ তত্ত্বকথা শুনে মৌলবী এবং বিজলি খান পরম সুখী হলেন। মৌলবী প্রভুর চরণ বন্দনা করে বলতে লাগলেন।
প্রভু কহে—উঠ কৃষ্ণ নাম তুমি লইলা।
কোট জন্মের পাপ গেল, পবিত্র হৈলা।
'কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কহ কৈলা উপদেশ ।
সবে কুফ কহে সবার হৈল প্রেমাবেশ।
( চৈঃ চঃ মধ্যঃ ১৮২১-২৬)
পরিশেষে মহাপ্রভু মৌলবী সাহেবের নাম দিলেন রামদাস। এ সমস্ত তত্ত্ব সিদ্ধান্ত শুনে রাজকুমার বিজলি খান কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে প্রভুর চরণে পড়লেন। প্রভু তাকে অনেক উপদেশ করলেন। প্রভুর কৃপায় পাঠানগঃ বৈষ্ণব হলেন।
“সেইত পাঠান সব বৈরাগী হইলা ৷
পাঠান বৈষ্ণৰ বলি হৈল তাঁর খ্যাতি ।
সৰ্ব্বত্র গাহিয়া বুলে মহাপ্রভুর কীত্তি ৷
সেই বিজলি খাঁন হইল মহাভাগবত ।
সতীর্থে হৈল তার পরম মহত্ত্ব।
(চৈঃ চঃ মধ্যঃ ১৮ পরিচ্ছেদ )
0 comments:
Post a Comment