বৈষ্ণব কে ?
দুষ্ট মন! তুমি কিসের বৈষ্ণব ?
প্রতিষ্ঠার তরে, নির্জনের ঘরে,
তব ‘হরিনাম’ কেবল ‘কৈতব’ ॥ ১ ॥
জড়ের প্রতিষ্ঠা, শূকরের বিষ্ঠা,
জান না কি তাহা ‘মায়ার বৈভব’ ।
কনক-কামিনী, দিবস-যামিনী,
ভাবিয়া কি কাজ, অনিত্য সে সব ॥ 2 ॥
তোমার কনক,ভোগের জনক,
কনকের দ্বারে সেবহ ‘মাধব’ ।
কামিনীর কাম, নহে তব ধাম,
তাহার মালিক কেবল ‘যাদব’ ॥ ৩ ॥
জড়-মায়া-মরু,প্রতিষ্ঠাশা-তরু,
না পেল ‘রাবণ’ যুঝিয়া ‘রাঘব’ ।
বৈষ্ণবী প্রতিষ্ঠা,তাতে কর নিষ্ঠা,
তাহা না ভজিলে লভিবে রৌরব ॥ ৪॥
হরিজন-দ্বেষ, প্রতিষ্ঠাশা-ক্লেশ,
কর কেন তবে তাহার গৌরব ।
বৈষ্ণবের পাছে, প্রতিষ্ঠাশা আছে,
তা’তে, কভু নহে ‘অনিত্য-বৈভব' ॥ ৫ ॥
সে হরি-সম্বন্ধ, শূন্য-মায়াগন্ধ,
তাহা কভু নয় ‘জড়ের কৈতব' ।
প্রতিষ্ঠা-চণ্ডালী,নির্জনতা-জালি,
উভয়ে জানিহ মায়িক রৌরব ॥ ৬ ॥
উভয়ে জানিহ মায়িক রৌরব ॥ ৬ ॥
'কীর্তন ছাড়িব প্রতিষ্ঠা মাখিব,
কি কাজ ঢুড়িয়া তাদৃশ গৌরব ।
মাধবেন্দ্র পুরী,ভাব-ঘরে চুরি,
না করিল কভু সদাই জানব ॥ ৭ ॥
তোমার প্রতিষ্ঠা,—‘শূকরের বিষ্ঠা,
তার-সহ সম কভু না মানব !
মৎসরতা-বশে,তুমি জড়রসে,
মজেছ ছাড়িয়া কীর্তন-সৌষ্ঠব ॥ ৮ ॥
তাই দুষ্ট মন,‘নির্জন ভজন’,
প্রচারিছ ছলে‘ কুযোগী-বৈভব' ।
প্রভু সনাতনে,পরম যতনে,
শিক্ষা দিল যাহা, চিন্ত সেই সব ॥ ৯ ॥
সেই দু'টি কথা, ভুল' না সর্বথা,
না করিল কভু সদাই জানব ॥ ৭ ॥
তোমার প্রতিষ্ঠা,—‘শূকরের বিষ্ঠা,
তার-সহ সম কভু না মানব !
মৎসরতা-বশে,তুমি জড়রসে,
মজেছ ছাড়িয়া কীর্তন-সৌষ্ঠব ॥ ৮ ॥
তাই দুষ্ট মন,‘নির্জন ভজন’,
প্রচারিছ ছলে‘ কুযোগী-বৈভব' ।
প্রভু সনাতনে,পরম যতনে,
শিক্ষা দিল যাহা, চিন্ত সেই সব ॥ ৯ ॥
সেই দু'টি কথা, ভুল' না সর্বথা,
উচ্চৈঃস্বরে কর ‘হরিনাম-রব' ।
‘ফল্গু', আর 'যুক্ত', ‘বদ্ধ’ আর ‘মুক্ত’,
কভু না ভাবিহ, একাকার সব ॥ ১০ ॥
‘কনক-কামিনী’, ‘প্রতিষ্ঠা-বাঘিনী’,
ছাড়িয়াছে যারে, সেই ত' বৈষ্ণব ।
সেই ‘অনাসক্ত’,সেই ‘শুদ্ধ ভক্ত’,
সংসার তথা পায় পরাভব ॥ ১১ ॥
যথাযোগ্য ভোগ, নাহি তথা রোগ,
‘অনাসক্ত' সেই, কি আর কহব ।
‘আসক্তি-রহিত’,‘সম্বন্ধ-সহিত’
বিষয়সমূহ সকলি ‘মাধব' ॥ ১২ ॥
সে ‘যুক্তবৈরাগ্য’, তাহা ত' সৌভাগ্য,
তাহাই জড়েতে হরির বৈভব ।
কীর্তনে যাহার, ‘প্রতিষ্ঠা-সম্ভার’,
তাহার সম্পত্তি কেবল ‘কৈতব’ ৷৷ ১৩ ॥
“বিষয়-মুমুক্ষু’ ‘ভোগের বুভুক্ষু',
দু'য়ে ত্যজ মন, দুই ‘অবৈষ্ণব’ ।
‘কৃষ্ণের সম্বন্ধ’,অপ্রাকৃত-স্কন্ধ,
কভু নহে তাহা জড়ের সম্ভব ৷ ১৪ ॥
‘মায়াবাদী জন’, কৃষ্ণেতর মন,
মুক্ত অভিমানে সে নিন্দে বৈষ্ণব ।
বৈষ্ণবের দাস, তব ভক্তি-আশ,
কেন বা ডাকিছ নির্জন-আহব ॥ ১৫ ॥
যে ‘ফল্গু-বৈরাগী’, কহে নিজে ‘ত্যাগী’,
সে না পারে কভু হইতে ‘বৈষ্ণব' ।
‘নির্জনতা বাড়ি’, হরিপদ ছাড়ি',
লভিয়া কি ফল, ‘ফল্গু’ সে বৈভব ॥ ১৬ ॥
রাধাদাস্যে রহি', ছাড়ি ‘ভোগ-অহি’,
‘প্রতিষ্ঠাশা' নহে ‘কীর্তন গৌরব' ।
‘রাধা-নিত্যজন’, তাহা ছাড়ি' মন,
কেন বা নির্জন-ভজন-কৈতব ॥ ১৭ ॥
ব্রজবাসীগণ, প্রচারক-ধন,
প্রতিষ্ঠা-ভিক্ষুক তা’রা নহে ‘শব’ ।
প্রাণ আছে তাঁ'র,সেহেতু প্রচার,
প্রতিষ্ঠাশাহীন-‘কৃষ্ণগাথা' সব ॥ ১৮ ॥
শ্রীদয়িতদাস, কীর্তনেতে আশ,
স্মরণ স্বভাবে,কীর্তন-প্রভাবে,
কর উচ্চৈঃস্বরে ‘হরিনাম-রব’ ।
সে কালে ভজন-নির্জন সম্ভব ॥ ১৯ ॥
0 comments:
Post a Comment