যে কারণে আমি গৌড়ীয় বৈষ্ণব নই?

একজন বাঙালি রুদ্র সম্প্রদায়ের অভিমত 

বর্তমান গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ অনেক গুলি ভিন্ন ধারায় বিভক্ত ,

এই ধারাগুলির প্রায় প্রত্যেকটা ধারাই শ্রীমদ ভাগবতমের থেকে অধিক গুরুত্ব তাদের আচার্যদের দিয়ে থাকেন। আচার্য গণ তাদের সময়ে ভক্ত তৈরীর বিভিন্ন কৌশল নিয়েছিলেন যে কৌশল গুলো সেই সময়ের উপযোগী ছিল কিন্তু বর্তমানে সেই গুলো আঁকড়ে ধরে থাকলে বিধর্মী যবনদের কাছে হারতে হবে।

ভাগবতমের সিধান্ত সমস্ত যুগের অনান্য সমস্ত অবতারেরা অংশ কলা পুংস কিন্তু স্বয়ম ভগবান একমাত্র কৃষ্ণ (শ্রীমদ ভাগবতম স্কন্ধ 1অধ্যায় 3)।

ভাগবতমের সিধান্ত যেহেতু ভাগবতম পড়লে তৎক্ষণাপৎ ঈশ্বর হৃদয়ে অবরুদ্ধ হন তাই অন্য ধর্ম গ্রন্থ পাঠের প্রয়োজন নেই  (শ্রীমদ ভাগবতম1.1.2)। কিন্তু গৌড়ীয় বৈষ্ণবীরা ভাগবত ছাড়াও অন্যান্য পুরাণ বা অন্যান্য গ্রন্থ অধ্যায়ন করেন এবং অনুশীলন করেন। 

ভাগবতমে গোমাংস ছাড়া অন্য কোনো খুর যুক্ত পশুর মাংস খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা নেই যদি না সেই পশু পরিবারের সাথে পালিত হয়ে থাকে। পরিবারের সাথে পালিত পশু ভক্ষণ করা যাবে না।



ভাগবতমে তিলক মালা ধারণ বাধ্যতা মুলক নয়।

ভাগবতমে তিথি নক্ষত্রের বিধান পালন বাধ্যতামুলক নয় । কেউ চাইলে পালন করতে পারে কেউ চাইলে নাও পারে।

ভাগবতমের মুল বিষয় কৃষ্ণ ভক্তি।
ভাগবতমের প্রথম শ্লোকেই বলা হয়েছে আদি কবির হৃদয়ে ব্রহ্মজ্ঞান প্রদানের বিষয় তাই ভাগবতম একটা কাব্য গ্রন্থ এবং এটাকে কাব্য গ্রন্থ রুপে প্রচার করলে বৈজ্ঞানিক ভুলের যুক্তিতে হারতে হবে না।
শ্রুতি ও স্মৃতি শাস্ত্রের বিধি নিষেধ পরিত্যাগের কথা পরিস্কার বলছে শ্রীমদ ভাগবতম 11.12.14-15
হে উদ্ধব ! অতএব তুমি শ্রুতি ও স্মৃতিশাস্ত্রেরবিধি,নিষেধ পরিত্যাগ করে নিখিল জীবের অন্তর্য্যামি স্বরুপ একমাত্র আমারই শরণ গ্রহণ কর।তাহলে মৎ কর্ত্তৃকই অভয় লাভ করবে।
কিন্তু গৌড়ীয় বৈষ্ণব দের হরিভক্তিবিলাস বলছে ,
শ্রুতিস্মৃতি পুরাণাদি পঞ্চরাত্রিকি বিধিং বিনা ঐকান্তিক হরির ভক্তি উৎপাতৈব কল্পতে।
এই কথা সম্পূর্ণ রুপে ভাগবতম বিরোধী। এবং এটা একটা ফাঁদ। শ্রুতি বলছে না তস্য প্রতিমা অস্তি,স্মৃতি বলছে বেদ অখিল ধর্ম মুলম,
এবার যদি কেউ প্রশ্ন করে আপনি মূর্তি পূজা কেন করেন? উত্তরে গোঁজামিল।কিন্তু যদি ভাগবতম কে মানেন তো শ্রীমদ ভাগবতম 1.3.39-43 বলছে কলি যুগের একমাত্র পথ ভগবানের গ্রন্থ অবতার শ্রীমদ ভাগবতম,সেই ভাগবতমে একাদশ স্কন্ধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মূর্তি পূজার বিধান দিয়েছেন তাই মূর্তি পূজা করি।তাহলে কেউ আপনাকে ফাঁদে ফেলতে পারবে না।বেদব্যাস পরিস্কার বলেছেন ভাগবত ধর্ম বিষয়ে পূর্বে রচিত কোনো গ্রন্থে আমি কিছুই লিখিনি(ভাগবতম 1.4.31),এই উক্তি প্রমাণ করে ভাগবত ধর্মের একমাত্র গ্রন্থ শ্রীমদ ভাগবতম।আপনাকে কেউ যদি প্রশ্ন করে শ্রুতিতে গোমেধ যজ্ঞের উল্লেখ আছে তো আপনি গোমাংস খেন খান না?শ্রুতি স্মৃতি মানলে আপনার উত্তর হবে গোঁজামিল।কিন্তু একমাত্র ভাগবতমের আশ্রয় নিলে আপনি সহজেই বলতে পারবেন,যেহেতু ভাগবতম প্রথম স্কন্ধে কলি গাভী ও বৃষের ওপর অত্যাচার করছিল এবং পরিক্ষীৎ মহারাজ কলিকে এই কারণে দণ্ড দেন তাই কলির অনুগামীদের সাথে পৃথক থাকতে সনাতনীরা গোমাংস খায় না।তাহলে কেউ আপনাকে হারাতে পারবে না।
এই সব নানাবিধ কারণে আমি গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতের অনুগামী না ,আমি অমল পুরাণ শ্রীমদ ভাগবতমের অনুগামী।

SHARE

Milan Tomic

Hi. I’m Designer of Blog Magic. I’m CEO/Founder of ThemeXpose. I’m Creative Art Director, Web Designer, UI/UX Designer, Interaction Designer, Industrial Designer, Web Developer, Business Enthusiast, StartUp Enthusiast, Speaker, Writer and Photographer. Inspired to make things looks better.

  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment