গীতা চতুর্থ অধ্যায় জ্ঞান যোগ
শ্রীভগবানুবাচ
ইমং বিবস্বতে যােগং প্রােক্তনহমব্যয়ম্।
বিবস্বান্ মনবে প্রাহ মনুরিক্ষাকবেইব্রবীৎ॥১॥
অনুবাদ—শ্রীভগবান্ বলিলেন, আমি
সূর্যকে পূৰ্বে এই অব্যয়-যােগ বলিয়াছিলাম। সূৰ্য মনুকে বলিয়াছিলেন এবং
মনু নিজ পুত্র ইক্ষাকুকে ইহা
বলিয়াছিলেন ।
১।
এবং পরম্পরাপ্রাপ্তমিমং রাজর্ষয়াে বিদ্যুঃ।
স কালেনেই মহতা যােগাে নষ্টঃ পরন্তপ ।
২।
অনুবাদ—হে
শত্রুতাপন! এই
প্রকারে পরম্পরাপ্রাপ্ত এই জ্ঞানযােগ রাজর্ষিগণ অবগত ছিলেন।সুদীর্ঘকালবশে ইহলােকে উহা বিনষ্ট হইয়াছে। ২।
স এবায়ং ময়া তেই
যােগঃ প্রােক্তঃ পুরাতনঃ।
ভক্তোহসি মে
সখা চেতি রহস্যং হেতদুত্তমম্ ॥
৩॥
অনুবাদ—তুমি আমার ভক্ত এবং সখা
এই জন্য এই
সেই পুরাতন যােগ অন্য আমি
তােমাকে বলিলাম কারণ ইহা
উত্তম রহস্য | ৩ |
অর্জুন উবাচ
অপরং ভবতাে জন্ম পরং জন্ম বিবস্বতঃ।
কথমেতদ্বিজানীয়াং ত্বমাদৌ প্রােক্তবানিতি।৪।
অনুবাদ—অর্জুন বলিলেন, সূর্য পূৰ্ব্বকালে জন্মিয়াছিলেন এবং তােমার জন্ম ইদানীন্তন, সুতরাং তুমি যে পুরাকালে তাহাকে এই
যােগ বলিয়াছিলে, ইহা
কি প্রকারে জানিতে পারা যায় | ৪ |
শ্রীভগবানুবাচ
বহুনি মে
ব্যতীতানি জম্মানি তব চার্জুন।
তাহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেখ পরন্তপ । ৫।
অনুবাদ—শ্রীভগবান্ কহিলেন, হে
শত্রুতাপন অর্জুন! আমার এবং
তােমার অনেক জন্ম বিগত হইয়াছে, আমি
সে সকল অবগত আছি কিন্তু তুমি তাহা জান না
| ৫ ||
অজোইপি সনব্যয়াত্মা ভূতানামীশ্বরােহপি সন্।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবামাত্মমায়য়া। ৬।
অনুবাদ—আমি
জন্মরহিত, অব্যয়াত্মা, সৰ্ব্বভূতগণের ঈশ্বর হইয়াও স্বীয় শুদ্ধা সত্ত্বাত্মিকা প্রকৃতিকে স্বীকার পূর্বক আত্মমায়ার আশ্রয়ে আবিভূত হই ৬
|
যদা যদা
হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ ॥৭॥
অনুবাদ—হে
ভারত! যখন যখন
ধৰ্ম্মের গ্লানি এবং অধৰ্ম্মের প্রাদুর্ভাব হয়,
তখন তখন আমি
আমাকে প্রকট করি ॥
৭ |
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ
দুষ্কৃতাম্।
ধৰ্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে ৷ ৮
অনুবাদ—সাধুগণের রক্ষার নিমিত্ত ও দুষ্কৃতগণের বিনাশের জন্য এবং ধৰ্ম্মসংস্থাপনাৰ্থ আমি প্রতি যুগে আবিভূত হই ।
৮।
জন্ম কর্ম চ
মে দিব্যমেবং যাে
বেত্তি তত্ত্বতঃ।
ত্যক্ত। দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সাের্জুন। ৯।
অনুবাদ—হে
অর্জুন! যিনি আমার এইরূপ দিব্য জন্ম এবং কর্ম তত্ত্বতঃ জানেন, তিনি দেহত্যাগ-অন্তে আর
পুনর্জন্ম লাভ
করেন না। অধিকন্তু আমাকেই লাভ
করিয়া থাকেন ৷ ৯
৷
বীতরাগভয়ক্রোধা মন্ময়া মামুপাশ্রিতাঃ।
বহবাে জ্ঞানতপসা পূতা মদ্ভাবমাগতাঃ ॥ ১০
|
অনুবাদ—রাগ,
ভয় ও ক্রোধশূন্য, আমাতে একাগ্রচিত্ত ও শরণাগত হইয়া জ্ঞান। তপস্যা দ্বারা পবিত্র হইয়া, অনেকে আমার ভাব লাভ
করিয়াছেন ।
১০ |
যে যথা মাং
প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।
মম বত্মানুবৰ্ত্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ॥১১।
অনুবাদ—যাহারা যেভাবে আমাকে ভজনা করে
আমি তাহাদিগকে সেই
ভাবেই ভজনা করিয়া থাকি। হে পার্থ ! মনুষ্যগণ সর্বপ্রকারে আমায় পথ
অনুবর্তন করে
॥ ১১ |
কাঙক্ষন্ত কৰ্ম্মণং সিদ্ধিং যজন্ত ইহ দেবতাঃ।
ক্ষিপ্রং হি
মানুষে লােকে সিদ্ধির্ভবতি কৰ্ম্মজা। ১২।
অনুবাদ-কৰ্ম্মফলের আকাঙ্ক্ষাকারিগণ এই
মনুষ্যলােকে দেবগণের যজন করিয়া থাকে, যেহেতু কৰ্ম্মজনিত ফল
শীঘ্রই লাভ
হয় ॥ ১২
॥
চাতুবৰ্ণং ময়া সৃষ্টং গুণকৰ্ম্মবিভাগশঃ।
তস্য কর্তারমপি মাং
বিদ্ধকৰ্ত্তারমব্যয়ম্ ॥১৩।
অনুবাদ—আমার দ্বারা গুণ
ও কর্মের বিভাগ অনুসারে চারিবর্ণের বিষয় প্রবর্তিত হইয়াছে, তাহার স্রষ্টা হইলেও অব্যয় আমাকে অস্রষ্টাই জানিবে । ১৩
|
ন মাং কৰ্ম্মাণি লিম্পন্তি ন
মে কৰ্ম্মফলে স্পৃহা।
ইতি মাং যােহভিজানাতি কৰ্ম্মতিন স
বধ্যতে ॥১৪।
অনুবাদ-কৰ্ম্মসমূহ আমাকে লিপ্ত বা আসক্ত করিতে পারে না। কৰ্ম্ম-ফলে আমার স্পৃহা নাই। এইরূপে আমাকে যিনি জানেন, তিনি কর্মসমূহের দ্বারা আবদ্ধ হন না
। ১৪।
এবং জ্ঞাত্বা কৃতং কর্ম পূৰ্বৈরপি মুমুক্ষুভিঃ।
কুরু কৰ্মৈৰ তস্মাত্ত্বং পূর্বৈঃ পূর্বতরং কৃতম্ ॥
১৫।
অনুবাদ—এইরূপে আমাকে জানিয়া প্রাচীন জনকাদি মহাজনগণও লােক-প্রবর্তনার্থ কৰ্ম্ম করিয়াছেন। সেইহেতু তুমি পূর্ব-পূৰ্ব্ব যুগযুগান্তরে মহাজন কর্তৃক কৃত কৰ্ম্মই কর। ১৫
|
তত্তে কৰ্ম্ম প্রবক্ষ্যামি যজজ্ঞাত্বা মােক্ষ্যসেইশুভাৎ ॥
১৬।
অনুবাদ—কৰ্ম্ম কি ? এবং
অকৰ্ম্ম কি
?—এবিষয়ে বিবেকিগণ ও মােহিত হন। অতএব যাহা অবগত হইলে অশুভরূপ সংসার হইতে মুক্ত হইতে পারিবে সেই
কৰ্ম্ম তােমাকে উপদেশ করিতেছি। ১৬ |
কৰ্মগাে পি
বােদ্ধব্যং বােদ্ধব্যঞ্চ বিকৰ্মণঃ।
অকর্মণশ্চ বােদ্ধব্যং গহনা কৰ্ম্মণণা গতিঃ ॥১৭।অনুবাদ—কৰ্ম্মের, বিকৰ্ম্মের ও
অকর্মের তত্ত্ব জ্ঞাতব্য ; যেহেতু কর্মের তত্ত্ব দুর্গম। (কর্তব্য আচরণই কৰ্ম্ম, নিষিদ্ধ আচরণই বিকৰ্ম্ম, কর্মের অকরণই অকৰ্ম্ম ) ॥ ১৭
|
কৰ্ম্মণ্যকৰ্ম্ম যঃ
পশ্যেকৰ্ম্মণি চ
কৰ্ম্ম যঃ।
স বুদ্ধিমান্ মনুষ্যেষু স যুক্তঃ কৃৎস্নককৃৎ ॥১৮।
জানুবাদ যিনি কর্মে মকৰ্ম্ম এবং অকর্মে কর্ম দর্শন করেন, তিনিই মনুষ্যগণের মধ্যে বুদ্ধিমান, যুক্ত এবং সম্পূর্ণ কৰ্ম্মের অনুষ্ঠাতা ॥ ১৮
॥
যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ কামসংকল্পবর্জিতাঃ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকৰ্মাণং তমাহুঃ পণ্ডিতং বুধাঃ ॥ ১৯।
অনুবাদ—যাহার সকল কৰ্ম্মই, কাম ও
সংকল্পশূন্য, জ্ঞানাগ্নির দ্বারা ভস্মীকৃত-কৰ্মা, সেই
ব্যক্তিকে ব্ৰহ্মবিঙ্গণ পণ্ডিত বলিয়া থাকেন। ১৯
।
ত্যক্ত। কৰ্ম্মফলাসঙ্গং নিত্যতৃপণ্ঠা নিরাশ্রয়ঃ ।
কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোহপি নৈৰ
কিঞ্চিৎ করােতি সঃ ॥
২০।
অনুবাদ—যিনি কৰ্ম্মফলাসক্তি ত্যাগ করিয়া নিজানন্দে নিত্য পরিতৃপ্ত এবং যােগক্ষেমের আশ্রয়-চেষ্টারহিত, তিনি কৰ্ম্মসমূহে প্রবৃত্ত হইলেও, কিছুই করেন না। অর্থাৎ কৰ্ম্মফলে আবদ্ধ হন না।
২০।
নিরাশীৰ্ষতচিত্তা ত্যক্তসর্বপরিগ্রহ।
শারীরং কেবলং কৰ্ম্ম কুৰ্ব্বাপপ্লাতি কিল্বিষম্ ॥
২১।
অনুবাদ—তিনি কামনাশূন্য, সংযত চিত্ত ও
সংযতেন্দ্রিয়, এবং
সর্বপ্রকার পরিগ্রহশূন্য, কেবল শরীরযাত্রা নির্বাহের জন্য কর্ম করিয়া থাকেন, তাহাতে তাহার পাপ
বা বন্ধন লাভ
হয় না ॥
২১ ||
যদৃচ্ছালাভসম্ভষ্টো দ্বন্দ্বতীতত বিমৎসরঃ।
সমঃ সিদ্ধাবসিদ্ধেী চ
কাপিন নিবধ্যতে। ২২।
অনুবাদ—যিনি অপ্রার্থিত লব্ধ-বস্তুতে সন্তুষ্ট, সুখ-দুঃখাদি দ্বন্দ্ব-বিষয়ের অবশীভূত, মৎসরতাশূন্য, সিদ্ধি ও
অসিদ্ধিতে সমজ্ঞান-বিশিষ্ট, তিনি ফর্ম করিলেও বন্ধনপ্রাপ্ত হন
না ॥২২ |
গতলঙ্গস্য মুক্তস্য জ্ঞানাবস্থিতচেতসঃ।
যজ্ঞায়াচরতঃ কৰ্ম্ম সমগ্রং প্রবিলীয়তে।২৩।অনুবাদ—নিষ্কাম, মুক্ত, জ্ঞানাবস্থিত চিত্ত পুরুষের, যজ্ঞের নিমিত্ত যে কৰ্ম আচরণ করা
হয়, তাহা সমগ্র লয় প্রাপ্ত হয়। (অর্থাৎ অকৰ্ম্ম ভাব
লাভ করে)।
২৩ |
ব্ৰহ্মাৰ্পণং ব্রহ্মহবিব্রহ্মাগ্নৌ ব্ৰহ্মণা হুতম্।
ব্ৰহ্মৈব তেন
গন্তব্যং ব্ৰহ্মকৰ্ম্মসমাধিনা। ২৪।
অনুবাদ—অর্পণ—বাদি ব্ৰহ্ম, ঘৃতাদি ব্ৰহ্ম, ব্ৰহ্মরূপ হােত কর্তৃক ব্ৰহ্মরূপ অগ্নিতে হােমও ব্রহ্ম, ব্ৰহ্মরূপ কৰ্ম্মে একাগ্রচিত্ত সেই ব্যক্তির দ্বারা ব্রহ্মই গন্তব্য বা
প্রাপ্য। ২৪
|
দৈবমেবাপরে যজ্ঞং যােগিনঃ পর্যােসতে।
ব্ৰহ্মাগ্লাবপরে যজ্ঞং যজ্ঞেনৈবােপজুতি। ২৫।
অনুবাদ—অন্য কর্মযােগিগণ দেবপূজারূপ দৈব্যজ্ঞই প্রকৃষ্টরূপে উপাসনা করেন, আর অপর
জ্ঞানযােগিগণ ব্ৰহ্মরূপ অগ্নিতে যজ্ঞের দ্বারা যজ্ঞরূপ সমগ্র কর্মকে আহুতি প্রদান করেন। অর্থাৎ বিলয় সাধন করেন। ২৫
|
শ্ৰোত্ৰাদীতীন্দ্রিয়াণ্যন্যে সংযমাগ্নিযু জুতি।
শব্দাদী বিষয়ান ইন্দ্রিয়াগ্নিযু জুতি। ২৬।
অনুবাদ—নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারিগণ মনঃসংযমরূপ অগ্নিতে শ্রোত্রাদি-ইন্দ্রিয়গণকে আহুতি দেন এবং
গৃহস্থগণ ইন্দ্রিয়রূপ অগ্নিতে শব্দাদি-বিষয়সমূহকে আহুতি প্রদান করিয়া থাকেন। ২৬||
সর্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি প্ৰাণকৰ্ম্মাণি চাপরে।
আত্মসংযমযােগাগ্নৌ জুতি জ্ঞানদীপিতে। ২৭।
অনুবাদ—অন্য যােগিগণ জ্ঞানদীপ্ত হইয়া চিত্তসংযমরূপ যােগাগ্নিতে সমগ্র ইন্দ্রিয়কর্ম ও
প্রাণকৰ্ম্মকে আহুতি প্রদান করিয়া থাকেন ॥
২৭ |
দ্রব্যজ্ঞাস্তপােযজ্ঞা যােগযজ্ঞাস্তথাপরে।
স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতয় সংশিতব্রতাঃ ॥২৮।
অনুবাদ—কেহ
কেহ দ্রব্যযজ্ঞপরায়ণ, কেহ
কেহ তপােযজ্ঞপরায়ণ, কেহ
কেহ যােগযজ্ঞপরায়ণ, অপর
কেহ কেহ বেদপাঠরূপ যজ্ঞপরায়ণ বা
বেদার্থজ্ঞান-রূপ
যজ্ঞপরায়ণ। এই
চারিপ্রকার যত্নশীল ব্যক্তি তীক্ষ্ণব্রতযতি ॥ ২৮
|
অপানে জুতি প্রাণং প্রাণেইপানং তথাপরে।
প্রাণাপানগতী রুদ্ধা প্রাণায়ামপরায়ণাঃ।
অপরে নিয়তাহারাঃ প্রাণান্ প্রাণেষু জুতি। ২৯।
অনুবাদ—প্রাণায়ামনিষ্ঠগণ পূরককালে অপান বায়ুতে প্রাণবায়ুকে আহুতি প্রদান করেন, অর্থাৎ প্রাণকে অপানের সহিত একীভূত করেন, সেই-প্রকার রেচককালে প্রাণবায়ুতে অপানবায়ুকে আহুতি প্রদান করেন এবং
কুম্ভককালে প্রাণ ও অপানের গতি রােধ করিয়া প্রাণায়ামপরায়ণ হইয়া থাকেন। আবার কেহ
কেহ আহার-সংযমী হইয়া প্রাণেই প্রাণসমূহকে আহুতি দিয়া থাকেন। ২৯ |
সর্বেইপ্যেতে যজ্ঞবিদো যজ্ঞক্ষয়িতকল্মষাঃ।
যজ্ঞশিষ্টামৃতভুজো যান্তি ব্ৰহ্ম সনাতন। ৩০ |
অনুবাদ—ইহারা সকলেই যজ্ঞতত্ত্ববিৎ এবং যজ্ঞের দ্বারা বিনষ্ট-পাপ হইয়া যজ্ঞাবশেষরূপ অমৃতভােজন করত অবশেষে সনাতন ব্রহ্মকেই প্রাপ্ত হন
॥ ৩০ |
নায়ং লােকোহস্ত্যযজ্ঞস্য কুতােহঃ কুরুসত্তম। ৩১।
অনুবাদ—হে
কুরুশ্রেষ্ঠ অর্জুন! যজ্ঞবিহীন ব্যক্তির পক্ষে যখন
অল্প-সুখকর মনুষ্যলােক লাভ সম্ভব হয় না,
তখন দেবাদিলােক কিরূপে লাভ হইবে ? ॥ ৩১।
এবং বহুবিধা যজ্ঞা বিততা ব্ৰহ্মণে মুখে।
কৰ্ম্মজা বিদ্ধি তা সর্বানেৰং জ্ঞাত্বা বিমােক্ষ্যসে। ৩২।
অনুবাদ—বেদদ্বারে এই প্রকার বহুবিধ যজ্ঞ বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হইয়াছে, তুমি সেই সকলকে কৰ্ম্মজ বলিয়া জানিবে, এবং
এই প্রকার জানিতে পারিলে কৰ্ম্মবন্ধন হইতে মুক্ত হইবে।৩২|
শ্রেয়া দ্রব্যময়াদ্যজ্ঞাজ, জ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ ।
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে ॥
৩৩।
অনুবাদ—হে
পরন্তপ ! হে
পার্থ ! দ্রব্যময় যজ্ঞ অপেক্ষা জ্ঞানযজ্ঞ শ্রেষ্ঠ, যেহেতু সমস্ত কৰ্ম্ম অব্যর্থরূপে জ্ঞানে পরিসমাপ্ত হয়। ৩৩
|
তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া।
উপদেক্ষ্যন্তি তে
জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ ॥
৩৪।
অনুবাদ—তত্ত্বদর্শী-জ্ঞানিগণ তােমাকে তত্ত্বজ্ঞান উপদেশ করিবেন, তুমি তাঁহাদিগকে প্রণিপাতপূৰ্ব্বক পরিশ্ন ও
সেবাফলে সেই
তত্ত্বজ্ঞান অবগত হও | ৩৪
|
যজজ্ঞাত্বা ন
পুনর্মোহমেবং যাস্তসি পাণ্ডব।
যেন ভূতান্তশেষাণি ক্ষ্যাত্মন্যথাে ময়ি ৩৫।
অনুবাদ—হে
পাণ্ডব ! যে
তত্ত্বজ্ঞান জানিতে পারিলে পুনরায় এরূপ মােহ লাভ করিবে না, যে
জ্ঞান-দ্বারা ভূতসকলকে এক
জীবাত্মরূপ তত্ত্বে অবস্থিত (মাত্র উপাধি দ্বারা জড়ীয় তারতম্য ঘটিয়াছে ), এবং
এ-সমুদয়ই পরম-কারণরূপ ভগবৎস্বরূপ আমাতে আমার শক্তি কাৰ্যরূপে অবস্থিত দর্শন করিবে ।
৩৫ |
অপি চেদসি পাপেভ্যঃ সভ্যেঃ পাপকৃত্তমঃ।
সর্বং জ্ঞানপ্লবেনৈব বৃজিনং সরিষ্যসি। ৩৬
অনুবাদ—যদি
তুমি সমস্ত পাপী হইতেও অতিশয় পাপকারী হও,
তাহা হইলেও জ্ঞানরূপ নৌকার সাহায্যেই পাপরূপ সমুদ্র অনায়াসে উত্তীর্ণ হইবে ॥
৩৬ |
যথৈধাংসি সমিঘদ্ধাইগ্নিৰ্ভস্মসাৎ কুরুতেইৰ্জ্জুন।
জ্ঞানাগ্নিঃ সর্বকৰ্ম্মাণি ভস্মসাৎ কুরুতে তথা ॥
৩৭।
অনুবাদ—হে
অর্জুন! যে
প্রকার প্রজ্জ্বলিত অগ্নি কাষ্ঠসমূহকে ভস্মীভূত করে,
সেই প্রকার জ্ঞানরূপ অগ্নি কৰ্ম্ম সমূহকে ভস্মীভূত করিয়া থাকে ॥ ৩৭
|
নহি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্ৰমিহ বিদ্যতে।
তৎ স্বয়ং যােগসংসিদ্ধঃ কালনাত্মনি বিন্দতি। ৩৮।
অনুবাদ—ইহলােকে জ্ঞানের সদৃশ পবিত্র আর
কিছুই নাই। নিষ্কাম কৰ্ম্মযােগে সম্যক্ সিদ্ধ ব্যক্তি নিজ
হৃদয়ে স্বয়ংই তাহা লাভ
করেন। ৩৮
|
শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ।
জ্ঞানং লব্ধ। পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি ॥ ৩৯।
অনুবাদ—শ্রদ্ধাবান্, তৎপর এবং
সংযতেন্দ্রিয় ব্যক্তি জ্ঞান লাভ
করেন, এবং জ্ঞান লাভ করিয়া পরাশান্তি (অর্থাৎ সংসার নাশ)
প্রাপ্ত হন
॥ ৩৯।
অজ্ঞশ্চাদ্দ ধানশ্চ সংশয়াত্মা বিনতি।
নায়ং লােকোহস্তি ন পরােন সুখং সংশয়াত্মনঃ ॥ ৪০
|
অনুবাদ—অজ্ঞ, শ্রদ্ধারহিত ও
সংশয়াত্ম-ব্যক্তি বিনাশ প্রাপ্ত হয়। তন্মধ্যে সংশয়াত্ম-ব্যক্তির ইহলােক নাই,
পরলােক নাই,
আর সুখও নাই। ৪০ |
যােগসংন্যস্তকৰ্মাণং জ্ঞানসংছিন্নসংশয়।
আত্মবন্তং ন
কৰ্ম্মাণি নিবন্তি ধনঞ্জয় ॥
৪১।
অনুবাদ—হে
ধনঞ্জয় ! যিনি নিষ্কাম-কৰ্ম্মযােগ-দ্বারা কৰ্ম্ম সন্ন্যাস করেন, জ্ঞান-দ্বারা সংশয় ছেদন করেন এবং
আত্মস্বরূপ অবগত হন, তাহাকে কর্মসমূহ আবদ্ধ করিতে পারে না।৪১|
তন্মাদজ্ঞানসম্ভুতং হৃৎস্থাং জ্ঞানাসিনাত্মনঃ।
ছিলৈং সংশয়ং যােগমাতিষ্ঠোত্তিষ্ঠ ভারত৷ ৪২।
অনুবাদ—অতএব হে ভারত! তােমার হৃদগত অজ্ঞানজনিত এই
সংশয়কে, জ্ঞানরূপ খড়গদ্বারা ছেদন পূৰ্ব্বক নিষ্কামকৰ্ম্মযােগ আশ্রয়করতঃ যুদ্ধ, কর ।
৪২ ||
Hi. I’m Designer of Blog Magic. I’m CEO/Founder of ThemeXpose. I’m Creative Art Director, Web Designer, UI/UX Designer, Interaction Designer, Industrial Designer, Web Developer, Business Enthusiast, StartUp Enthusiast, Speaker, Writer and Photographer. Inspired to make things looks better.
0 comments:
Post a Comment