শ্রীমদ্ভগবদ গীতা প্রথম অধ্যায় মূল শ্লোক ও বাংলা অনুবাদ





শ্লোক: 1:

ধৃতরাষ্ট্র উবাচ

ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ ।

মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয় ॥১॥

অনুবাদ—ধৃতরাষ্ট্র বলিলেন, হে সঞ্জয় ! ধৰ্ম্মভূমিরূপ কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করিতে অভিলাষী আমার পুত্রগণ ও পাণ্ডুপুত্রগণ সমবেত হইবার পর কি করিলেন ? ॥ ১॥


শ্লোক: 2:

সঞ্জয় উবাচ

দৃষ্ট্বা তু পাণ্ডবানীকং ব্যূঢ়ং দুর্যোধনস্তদা ।

আচার্যমুপসঙ্গম্য রাজা বচনমব্রবীৎ॥২॥

অনুবাদ—সঞ্জয় কহিলেন, রাজা দুর্যোধন তখন পাণ্ডবগণের সৈন্য-দিগকে ব্যুহাকারে অবস্থিত অবলােকন করিয়াই দ্রোণাচার্যের সমীপে গমন পূৰ্ব্বক এইরূপ বলিলেন ॥ ২॥


শ্লোক: 3:

পশ্যৈতাং পাণ্ডুপুত্রাণামাচার্য মহতীং চমূম্ ।

ব্যূঢ়াং দ্রুপদপুত্রেণ তব শিষ্যেণ ধীমতা ॥৩॥

অনুবাদ—হে আচার্য্য ! আপনার বুদ্ধিমান্ শিষ্য দ্রুপদতনয়কর্তৃক ব্যুহ্য়রচনা-দ্বারা স্থাপিত পাণ্ডবদিগের এই বিশাল সৈন্যবলকে অবলােকন করুন। ॥ ৩॥


শ্লোক: 4-6:

অত্র শূরা মহেষ্বাসা ভীমার্জুনসমা যুধি ।

যুযুধানো বিরাটশ্চ দ্রুপদশ্চ মহারথঃ ॥৪॥

ধৃষ্টকেতুশ্চেকিতানঃ কাশিরাজশ্চ বীর্যবান্ ।

পুরুজিৎ কুন্তিভোজশ্চ শৈব্যশ্চ নরপুঙ্গবঃ ॥৫॥

যুধামন্যুশ্চ বিক্রান্ত উত্তমৌজাশ্চ বীর্যবান্ ।

সৌভদ্রো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্ব এব মহারথাঃ ॥৬॥

অনুবাদ—এই সেনানিচয়ের মধ্যে মহাধনুর্ধারী ভীম ও অর্জুন এবং তাঁহাদের সমকক্ষ বীর সকল উপস্থিত আছেন যথা সাত্যকি, বিরাটরাজ ও মহারথ দ্রুপদ, ধৃষ্টকেতু, চেকিতান, বীর্যবান্ কাশিরাজ,কাশিরাজ, পুরুজিৎ, কুস্তিভােজ, নরশ্রেষ্ঠ শৈব্য, বিক্রমশালী যুধামন্ত, বীর্যবান্ উত্তমৌজা, সুভদ্রা-তনয় অভিমন্যু এবং দ্রৌপদীর পুত্রগণ সকলেই মহারথ এই যুদ্ধে বিদ্যমান আছেন || ৪-৬ ||


শ্লোক: 7:

অস্মাকন্ত্ত বিশিষ্টা যে তান্নিবোধ দ্বিজোত্তম ।

নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থং তান্ ব্রবীমি তে ॥৭॥

অনুবাদ—হে দ্বিজশ্রেষ্ঠ ! আমাদের মধ্যেও যে সকল পরম উৎকৃষ্ট আমার সৈন্যের নেতা, তাহাদিগকেও অবগত হউন, আপনার অবগতির জন্য তাহাদিগের নাম বলিতেছি ॥ ৭ ॥ 


শ্লোক: 8-9:

ভবান্ ভীষ্মশ্চ কর্ণশ্চ কৃপশ্চ সমিতিঞ্জয়ঃ ।

অশ্বত্থামা বিকর্ণশ্চ সৌমদত্তিস্তথৈব চ ॥৮॥

অন্যে চ বহবঃ শূরাঃ মদর্থে ত্যক্তজীবিতাঃ।

নানাশস্ত্রপ্রহরণাঃ সর্বে যুদ্ধবিশারদাঃ ॥৯॥

অনুবাদ—আপনি স্বয়ং দ্রোণাচাৰ্য, পিতামহ ভীষ্ম, কর্ণ, সমরবিজয়ী কৃপাচার্য্য, অশ্বত্থামা, বিকর্ণ, সােমদত্তসুত ভূরিশ্রবা এবং জয়দ্রথ প্রভৃতি বীরগণ আমার পক্ষে আছেন। আমার নিমিত্ত প্রাণ দিতে কৃতনিশ্চয়, বহুবিধ অস্ত্রশস্ত্র সমন্বিত সকলে যুদ্ধে নিপুণ আরও অনেক বীর আছেন ॥৮-৯॥


শ্লোক: 10:

অপর্যাপ্তং তদস্মাকং বলং ভীষ্মাভিরক্ষিতম্ ।

পর্যাপ্তং ত্বিদমেতেষাং বলং ভীমাভিরক্ষিতম্ ॥১০॥

অনুবাদ—ভীষ্ম-কর্তৃক অভিরক্ষিত আমাদের সেই সৈন্যবল অপৰ্যাপ্ত, ভীম-কর্তৃক পরিক্ষিত পাণ্ডবদিগের সৈন্যবল কিন্তু পর্যাপ্ত ॥ ১০॥


শ্লোক: 11:

অয়নেষু চ সর্বেষু যথাভাগমবস্থিতাঃ ।

ভীষ্মমেবাভিরক্ষন্ত্ত ভবন্তঃ সর্ব এব হি ॥১১॥

অনুবাদ—অতঃপর আপনারা সকলে নিয়মিতরূপে বিভক্ত হইয়া সকল ব্যুহপ্রবেশপথে অবস্থান পূর্বক ভীষ্মকেই সৰ্ব্বতােভাবে রক্ষা করুন ॥১১৷৷


শ্লোক: 12:

তস্য সঞ্জনয়ন্ হর্ষং কুরুবৃদ্ধঃ পিতামহঃ ।

সিংহনাদং বিনদ্যোচ্চৈঃ শঙ্খং দধ্মৌ প্রতাপবান্ ॥১২॥

অনুবাদ—অনন্তর বিক্রমশালী কুরুবৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্ম দুর্যোধনের আনন্দ উৎপাদনের নিমিত্ত সিংহতুল্য গর্জনপূর্বক উচ্চরবে শঙ্খধ্বনি করিলেন ॥১২৷৷


শ্লোক: 13:

ততঃ শঙ্খাশ্চ ভের্যশ্চ পণবানকগোমুখাঃ ।

সহসৈবাভ্যহন্যন্ত স শব্দস্তুমুলোভবৎ ॥১৩॥

অনুবাদ—অনন্তর শঙ্খ, ভেরী, মাদল, পটহ, রণশিঙ্গা প্রভৃতি বিবিধ বাদ্যযন্ত্রসমূহ সহসা বাজিয়া উঠিলে তুমুল শব্দ উৎপন্ন হইল ॥১৩||


শ্লোক: 14:

ততঃ শ্বেতৈর্হয়ৈর্যুক্তে মহতি স্যন্দনে স্থিতৌ ।

মাধবঃ পান্ডবশ্চৈব দিব্যৌ শঙ্খৌ প্রদধ্মতুঃ ॥১৪॥

অনুবাদ—তারপর শ্বেতাশ্বযােজিত মহারথারূঢ় শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন দিব্য শঙ্খদ্বয় বাদন করিলেন ॥১৪||


শ্লোক: 15-18:

পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশো দেবদত্তং ধনঞ্জয়ঃ ॥

পৌন্ড্রং দধ্মৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃকোদরঃ ॥১৫॥

অনন্তবিজয়ং রাজা কুন্তীপুত্রো যুধিষ্ঠিরঃ ।

নকুলঃ সহদেবশ্চ সুঘোষমণিপুষ্পকৌ ॥১৬॥

কাশ্যশ্চ পরমেষ্বাসঃ শিখণ্ডী চ মহারথঃ ।

ধৃষ্টদ্যুম্নো বিরাটশ্চ সাত্যকিশ্চাপরাজিতঃ ॥১৭॥

দ্রুপদো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্বশঃ পৃথিবীপতে ।

সৌভদ্রশ্চ মহাবাহুঃ শঙ্খান্ দধ্মুঃ পৃথক্ পৃথক্ ॥১৮॥

অনুবাদ—হৃষীকেশ শ্রীকৃষ্ণ পাঞ্চজন্য, অর্জুন দেবদত্ত ও ঘােরকৰ্মা ভীমসেন পৌণ্ড নামক মহাশঙ্খ বাজাইলেন কুন্তীনন্দন রাজা যুধিষ্ঠির অনন্তবিজয় নামক, নকুল সুঘােষ নামক এবং সহদেব মণিপুষ্পক নামক শঙ্খ বাদন করিলেন। হে পৃথিবীনাথ ধৃতরাষ্ট্র! মহাধনুর্ধারী কাশীরাজ, মহারথ শিখণ্ডী, ধৃষ্টদ্যুম্ন, বিরাটরাজ, অপরাজিত সাত্যকি, দ্রুপদরাজ ও দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র এবং সুভদ্ৰাতনয় মহাবাহু অভিমন্যু সকলেই পৃথক পৃথক্‌ শঙ্খ বাদন করিলেন ॥১৫-১৮৷৷


শ্লোক: 19:

স ঘোষো ধার্তরাষ্ট্রাণাং হৃদয়ানি ব্যদারয়ৎ, ।

নভশ্চ পৃথিবীং চৈব তুমুলোহভ্যনুনাদয়ন্ ॥১৯॥

অনুবাদ—সেই তুমুল শব্দ আকাশ ও পৃথিবীকে আপূরিত করিয়া ধৃতরাষ্ট্র-পুত্রগণের অন্তর বিদীর্ণ করিতে লাগিল ॥১৯॥


শ্লোক: 20:

অথ ব্যবস্তিতান্ দৃষ্ট্বা ধার্তরাষ্ট্রান্ কপিধ্বজঃ ।

প্রবৃত্তে শস্ত্রসম্পাতে ধনুরুদ্যম্য পান্ডবঃ ।

হৃষীকেশং তদা বাক্যমিদমাহ মহীপতে ॥২০॥

অনুবাদ—হে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র! অনন্তর আপনার পুত্রদিগকে সমরার্থ অবস্থিত দেখিয়া কপিধ্বজ অর্জুন অস্ত্রপাতে উদ্যত হইলে পর গাণ্ডীব উত্তোলন পূর্বক শ্রীকৃষ্ণকে এই বাক্য কহিলেন ॥২০॥


শ্লোক: 21-23:

অর্জুন উবাচ

সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে রথং স্থাপয় মেহচ্যুত ।

যাবদেতান্নিরীক্ষেহহং যোদ্ধুকামানবস্থিতান্ ॥২১॥

কৈর্ময়া সহ যোদ্ধব্যমস্মিন্ রণসমুদ্যমে ॥২২॥

যোৎস্যমানানবেক্ষেহহং য এতেহত্র সমাগতাঃ ।

ধার্তরাষ্ট্রস্য দুর্বুদ্ধের্যুদ্ধে প্রিয়চিকীর্ষবঃ ॥২৩॥

অনুবাদ—হে অচ্যুত ! যে পর্যন্ত আমি যুদ্ধকামনায় অবস্থিত বীরগণকে নিরীক্ষণ করি এবং এই যুদ্ধোদ্যমে যাহাদিগের সহিত আমার সংগ্রাম করিতে হইবে এবং এই যুদ্ধে দুৰ্ব্বদ্ধি দুৰ্য্যোধনের প্রিয়কামনায় যুদ্ধোৎসুক যে সকল বীরগণ সমাগত হইয়াছেন, যতক্ষণ তাহাদিগকে আমি অবলােকন করি, সেইকাল পর্যন্ত তুমি উভয় সেনার মধ্যে রথ স্থাপন কর। ২১-২৩॥


শ্লোক: 24-25:

সঞ্জয় উবাচ:

এবমুক্তো হৃষীকেশো গুড়াকেশেন ভারত ।

সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে স্থাপয়িত্বা রথোত্তমম্ ॥২৪॥

ভীষ্মদ্রোণপ্রমুখতঃ সর্বেষাং চ মহীক্ষিতাম্ ।

উবাচ পার্থ পশ্যৈতান্ সমবেতান্ কুরূনিতি ॥২৫॥

অনুবাদ—সঞ্জয় বলিলেন। হে ভারত! গুড়াকেশ পার্থকর্তৃক এইরূপ কথিত হইয়া শ্রীকৃষ্ণ উভয়পক্ষীয় সৈন্যগণের মধ্যে সকল রাজগণের ও ভীষ্ম-দ্রোণাদির সম্মুখে উৎকৃষ্ট রথ স্থাপনপূর্বক কহিলেন—হে পার্থ ! এই সমবেত কৌরবগণকে নিরীক্ষণ কর॥২৪-২৫॥


শ্লোক: 26:

তত্রাপশ্যৎ স্থিতান্ পার্থঃ পিতৃনথ পিতামহান্ ।

আচার্যান্মাতুলান্ ভ্রাতৃন্ পুত্রান্ পৌত্রান্ সখীংস্তথা ।

শ্বশুরান্ সুহৃদশ্চৈব সেনয়োরুভয়োরপি ॥২৬॥

অনুবাদ—অনন্তর অর্জন সেই স্থানে উভয়পক্ষীয় সৈন্যগণের মধ্যে পিতৃব্য, পিতামহ, আচাৰ্য, মাতুল, ভ্রাতা, পুত্র, পৌত্র, তথা সখা, শ্বশুর এবং সুহৃদসমূহকেই দর্শন করিলেন॥২৬॥


শ্লোক: 27:

তান্ সমীক্ষ্য স কৌন্তেয়ঃ সর্বান্ বন্ধূনবস্থিতান্।

কৃপয়া পরয়াবিষ্টো বিষীদন্নিদমব্রবীৎ ॥২৭॥

অনুবাদ—কুন্তীতনয় অর্জুন সমুপস্থিত সেইসকল বন্ধুবৰ্গকে দেখিয়া অত্যন্ত কৃপাবিষ্ট ও বিষন্ন হইয়া বলিলেন ॥২৭।


শ্লোক: 28:

অর্জুন উবাচ

দৃষ্ট্বেমং স্বজনং কৃষ্ণ যুযুৎসুং সমুপস্থিতম্ ।

সীদন্তি মম গাত্রাণি মুখং চ পরিশুষ্যতি ॥২৮॥

অনুবাদ—অর্জুন বলিলেন, হে কৃষ্ণ! যুদ্ধাভিলাষী এই সকল আত্মীয়স্বজনকে সমবস্থিত দেখিয়া আমার অঙ্গসকল অবসন্ন ও মুখ বিশুষ্ক হইতেছে ॥২৮||


শ্লোক: 29:

বেপথুশ্চ শরীরে মে রোমহর্ষশ্চ জায়তে ।

গান্ডীবং স্রংসতে হস্তাৎ ত্বক্ চৈব পরিদহ্যতে ॥২৯॥

অনুবাদ—আমার দেহে কম্প ও রােমাঞ্চ হইতেছে, হস্ত হইতে গাণ্ডীব-ধনু স্মলিত হইতেছে এবং চৰ্ম্মও পরিদগ্ধ হইতেছে ॥২৯||


শ্লোক: 30:

ন চ শক্নোম্যবস্থাতুং ভ্রমতীব চ মে মনঃ ।

নিমিত্তানি চ পশ্যামি বিপরীতানি কেশব ॥৩০॥

অনুবাদ—হে কেশব! আমি আর স্থির থাকিতে পারিতেছি না, আমার মনও যেন ঘুরিতেছে। আমি কেবল বিপরীতভাবযুক্ত দুলক্ষণসমূহ দেখিতেছি ॥৩০ ||


শ্লোক: 31:

ন চ শ্রেয়োহনুপশ্যামি হত্বা স্বজনমাহবে ।

ন কাঙ্ক্ষে বিজয়ং কৃষ্ণ ন চ রাজ্যং সুখানি চ ॥৩১॥

অনুবাদ—হে কৃষ্ণ! যুদ্ধে আত্মীয়গণকে নিধন করিয়া কোন শ্রেয়ঃ দেখিতেছি না। আমি যুদ্ধে বিজয় এবং রাজ্য ও সুখ আকাঙ্ক্ষা করি না ॥৩১॥


শ্লোক: 32:

কিং নো রাজ্যেন গোবিন্দ কিং ভোগৈর্জীবিতেন বা ।

যেষামর্থে কাংক্ষিতং নো রাজ্যং ভোগাঃ সুখানি চ ॥৩২॥

ত ইমেহবস্থিতা যুদ্ধে প্রাণাংস্ত্যক্ত্বা ধনানি চ ।

আচার্যাঃ পিতরঃ পুত্রাস্তথৈব চ পিতামহাঃ ॥৩৩॥

মাতুলাঃ শ্বশুরাঃ পৌত্রাঃ শ্যালাঃ সম্বন্ধিনস্তথা ।

এতান্ন হন্তমিচ্ছামি ঘ্নতহপি মধুসূদন ॥৩৪॥

অনুবাদ—হে গােবিন্দ ! আমাদের আর রাজ্যের কি ফল? ভোগ বা জীবনধারণেই কি প্রয়ােজন? যাহাদের জন্য রাজ্য ও সুখভােগের আকাঙ্ক্ষিা করা হয়, সেই ইহারা অর্থাৎ আচাৰ্য, পিতৃব্য, পুত্র ও পিতামহ, মাতুল, শ্বশুর, পৌত্র, শ্যালক ও সম্বন্ধিবর্গ সকলেই প্রাণ ও ধন পরিত্যাগ করিয়া যুদ্ধার্থে অবস্থিত হইয়াছেন। অতএব হে মধুসূদন! ইহারা আমাদিগকে বধ করিলেও, ইহাদিগকে হনন করিতে ইচ্ছা করি না ॥ ৩২-৩৪॥


শ্লোক: 35:

অপি ত্রৈলোক্যরাজ্যস্য হেতোঃ কিং নু মহীকৃতে ।

নিহত্য ধার্তরাষ্ট্রান্নঃ কা প্রীতিঃ স্যাজ্জনার্দন ॥৩৫॥

অনুবাদ—হে জনার্দন! পৃথিবীর নিমিত্ত, এমন কি, ত্রিলােকের আধিপত্য পাইলেও দুৰ্য্যোধনাদিকে নিধন করিয়া আমাদের কি প্রীতিলাভ হইবে ? ৩৫ ||


শ্লোক: 36:

পাপমেবাশ্রয়েদস্মান্ হত্বৈতানাততায়িনঃ ।

তস্মান্নার্হা বয়ং হন্তুং ধার্তরাষ্ট্রান্ সবান্ধবান্ ।

স্বজনং হি কথং হত্বা সুখিনঃ স্যাম মাধব ॥৩৬॥

অনুবাদ—হে মাধব ! এই সকল আততায়ীদিগকে বধ করিয়া আমাদিগের পাপই আশ্ৰয় করিবে। সুতরাং সবান্ধব দুৰ্য্যোধনাদিকে বধ করা আমাদের উচিত নহে। যেহেতু আত্মীয়কে বিনাশ করিয়া আমরা কি প্রকারে সুখী হইব? ॥৩৬৷৷


শ্লোক: 37-38:

যদ্যপেতে ন পশ্যন্তি লোভোপহতচেতসঃ ।

কুলক্ষয়কৃতং দোষং মিত্রদ্রোহে চ পাতকম্ ॥৩৭॥

কথং ন জ্ঞেয়মস্মাভিঃ পাপাদস্মান্নিবর্তিতুম্ ।

কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্যদ্ভির্জনার্দন ॥৩৮॥

অনুবাদ—হে জনার্দন! রাজ্যলােভে হতবুদ্ধি হইয়া দুর্যোধনাদি কুলক্ষয়-জনিতদোষ ও মিত্রদ্রোহ-জনিত পাতক দেখিতেছেন না। কিন্তু আমরা কুলক্ষয়জনিত দোষ দর্শন করিয়াও এই পাপ হইতে কেন নিবৃত্ত হইব না ? ॥৩৭-৩৮॥


শ্লোক: 39:

কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ ।

ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নমধর্মোহভিভবত্যুত ॥৩৯॥

অনুবাদ—কুলক্ষয় হইলে পরম্পরাগত সনাতন কুলধৰ্ম্ম বিনষ্ট হয়। কুলধৰ্ম্ম বিনষ্ট হইলে অধৰ্ম্ম সমগ্র কুলকেও অভিভূত করে ॥৩৯||


শ্লোক: 40:

অধর্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্রদুষ্যন্তি কুলস্ত্রীয়ঃ ।

স্ত্রীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ ॥৪০॥

অনুবাদ—হে কৃষ্ণ! কুল অধৰ্ম্মদ্বারা অভিভূত হইলে কুলস্ত্রী-সকল ভ্ৰষ্টা হয়। স্ত্রীগণ ভ্ৰষ্টা হইলে, হে বৃষ্ণিবংশাবতংস ! বর্ণসঙ্করের উৎপত্তি হয় ॥৪০॥


শ্লোক: 41:

সঙ্করো নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ ।

পতন্তি পিতরো হ্যেষাং লুপ্তপিণ্ডোদকক্রিয়াঃ ॥৪১॥

অনুবাদ—বর্ণসঙ্করগণ কুলনাশকদিগকে এবং কুলকে নরকগামী করে। ইহাদের পিতৃপুরুষগণ পিণ্ড ও জলহীন হইয়া নিশ্চয়ই পতিত হয় ॥৪১।


শ্লোক: 42:

দোষৈরেতৈঃ কুলঘ্নানাং বর্ণসঙ্করকারকৈঃ ।

উৎসাদ্যন্তে জাতিধর্মাঃ কুলধর্মাশ্চ শাশ্বতাঃ ॥৪২॥

অনুবাদ—কুলনাশকদিগের এই সকল দোষ-দ্বারা সনাতন জাতিধর্ম ও কুলধৰ্ম্ম সকল উৎসন্ন হইয়া থাকে ॥৪২।


শ্লোক: 43:

উৎসন্ন কুলধর্মাণাং মনুষ্যাণাং জনার্দন ।

নরকে নিয়তং বাসো ভবতীত্যনুশুশ্রুম ॥৪৩॥

অনুবাদ—হে জনার্দন! কুলধৰ্ম্ম-রহিত মনুষ্যদিগের অনন্তকাল নরকে বাস হয়—এইরূপ শুনিয়াছি ॥৪৩॥


শ্লোক: 44:

অহো বত মহৎ পাপং কর্তুং ব্যাবসিতা বয়ম্ ।

যদ্ রাজ্যসুখলোভেন হন্তুং স্বজনমুদ্যতাঃ ॥৪৪॥

অনুবাদ—হায় ! কি কষ্ট! আমরা রাজ্যসুখের লােভে স্বজন-বিনাশে উদ্যত হইয়া মহাপাপ করিতে কৃতসংকল্প হইয়াছি ॥৪৪॥


শ্লোক: 45:

যদি মামপ্রতিকারমশস্ত্রং শস্ত্রপাণয়ঃ ।

ধার্তরাষ্ট্রা রণে হন্যুস্তন্মে ক্ষেমতরং ভবেৎ ॥৪৫॥

অনুবাদ—যদি অস্ত্রহীন, প্রতীকার-রহিত আমাকে অস্ত্রধারী ধৃতরাষ্টের পুত্রগণ যুদ্ধে নিহত করে, তাহা আমার পক্ষে অধিকতর মঙ্গলকর হইবে ॥৪৫||


শ্লোক: 46:

সঞ্জয় উবাচ

এবমুক্ত্বার্জুনঃ সংখ্যে রথোপস্থ উপাবিশৎ ।

বিসৃজ্য সশরং চাপং শোকসংবিগ্নমানসঃ ॥৪৬॥

অনুবাদ। সঞ্জয় বলিলেন শশাকাকুলচিত্ত অর্জন এই বলিয়া যুদ্ধস্থলে ধনুর্বাণ পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক রথের উপর উপবেশন করিলেন ॥৪৬॥













SHARE

Milan Tomic

Hi. I’m Designer of Blog Magic. I’m CEO/Founder of ThemeXpose. I’m Creative Art Director, Web Designer, UI/UX Designer, Interaction Designer, Industrial Designer, Web Developer, Business Enthusiast, StartUp Enthusiast, Speaker, Writer and Photographer. Inspired to make things looks better.

  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment