শ্রীমদ্ভগবদ গীতা তৃতীয় অধ্যায় মূল শ্লোক ও বাংলা অনুবাদ








গীতা তৃতীয় আধ্যায় কর্ম যোগ 


 অর্জুন উবাচ
জ্যায়সী চেৎ কৰ্ম্মণস্তে মত বুদ্ধিজনার্দন।
তৎ কিং কর্মণি ঘােরে মাং নিযােজয়সি কেশব। ১।
অনুবাদ—অর্জুন বলিলেন, হে জনার্দন! হে কেশব! যদি তােমার মতে কৰ্মাপেক্ষা ব্যবসায়াত্মিক গুণাতীত ভক্তি-বিষয়িণী-বুদ্ধি শ্রেষ্ঠা হয়, তাহা হইলে কি জন্য আমাকে ঘাের হিংসাত্মক যুদ্ধ-কর্মে নিযুক্ত করিতেছ? ॥১॥
ব্যামিশ্রেণেৰ বাক্যেন বুদ্ধিং মােহয়সীৰ মে।
তদেকং বদ নিশ্চিত যেন শ্রেয়ােহহমাপুয়াম্ ॥২॥
অনুবাদ—যেন ব্যামিবাক্যদ্বারা তুমি আমার বুদ্ধিকে মােহিত করিবার ন্যায় করিতেছ। অতএব যদ্বারা আমি মঙ্গল লাভ করিতে পারি এইরূপ একটী নিশ্চয় করিয়া বল ॥২॥
শ্রীভগবান্ উবাচ
লােকেইম্মি দ্বিবিধা নিষ্ঠা পুরা পােক্তা ময়ানঘ।
জ্ঞানযােগেন সাংখ্যানাং কৰ্ম্মযােগেন যােগিনা। ৩।
অনুবাদ—শ্রীভগবান্ বলিলেন—ইহলােকে দুইপ্রকার নিষ্ঠার কথা আমি পূৰ্বাধ্যায়ে প্রকৃষ্টরূপে বলিয়াছি। সাংখ্যবাদী জ্ঞানিগণের জ্ঞানযােগের দ্বারা এবং যােগিগণের কর্মযােগের দ্বারা নিষ্ঠা হইয়া থাকে । ৩।
ন কৰ্ম্মণামনারম্ভায়ৈঙ্কৰ্মং পুরুষােহশ্নতে।
ন চ সন্ন্যসনাদেব সিদ্ধিং সমধিগচ্ছতি ॥ ৪।
অনুবাদ—পুরুষ শাস্ত্রীয় কৰ্ম্ম অনুষ্ঠান না করিলে নৈষ্কৰ্ম্মরূপ জ্ঞানলাভ করিতে পারে না। আবার অশুদ্ধচিত্ত ব্যক্তি কেবল কৰ্ম্মত্যাগের দ্বারাও সিদ্ধিলাভ করিতে পারে না ॥ ৪ |
ন হি কশ্চিৎ ক্ষণমপি জাতু তিষ্ঠত্যকর্মকৃৎ।
কাৰ্য্যতে হবশঃ কৰ্ম্ম সর্বঃ প্রকৃতিজৈগুণৈঃ ॥ ৫।
অনুবাদ—কখনও কেহ কোন অবস্থায় ক্ষণকালের জন্যও কৰ্ম্ম না করিয়া থাকিতেই পারে না। সকলেই স্বভাবজাত রাগদ্বেষাদি-দ্বারা বাধ্য হইয়া কৰ্ম্ম করিয়া থাকে ॥ ৫ |
কৰ্ম্মেন্দ্রিয়াণি সংযম্য য আস্তে মনসা স্মর।
ইন্দ্রিয়ার্থান্ বিমুঢ়াত্মা মিথ্যাচারঃ স উচ্যতে৷৷ ৬ ৷
অনুবাদ—কৰ্ম্মেন্দ্রিয়গণকে সংযত করিয়া যে ব্যক্তি মনে মনে ইন্দ্রিয়-ভােগ্য বিষয়সমূহকে স্মরণ করিতে করিতে অবস্থিত থাকে, সেই মূঢ়কে মিথ্যাচার অর্থাৎ কপটাচার বা দাম্ভিক বলা হয় ॥ ৬ |
যস্তিন্দ্রিয়াণি মনসা নিয়ম্যারভতেহর্জুন।
কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ কৰ্ম্মযােগমসক্তঃ স বিশিষ্যতে ॥৭॥
অনুবাদ—হে অর্জুন! কিন্তু যিনি মনের দ্বারা জ্ঞানেন্দ্রিয়সমূহকে নিয়ন্ত্রণ পূৰ্ব্বক ফলাকাঙ্ক্ষা রহিত হইয়া কৰ্ম্মেন্দ্রিয়দ্বারা শাস্ত্রবিহিত কৰ্ম্মের অনুষ্ঠান করেন, তিনি বিশিষ্ট বা শ্রেষ্ঠ হন ॥ ৭ ॥
নিয়তং কুরু কৰ্ম্ম ত্বং কর্ম জ্যামাে হকৰ্ম্মণঃ।
শরীরযাত্রাপি চ তে ন প্রসিধ্যেদকর্মণঃ ॥৮॥
অনুবাদ—তুমি সন্ধ্যোপাসনাদি নিত্য কর্ম কর। যেহেতু সৰ্ব্ব কৰ্ম্ম না করা হইতে কৰ্ম্ম করা শ্রেষ্ঠ। আরও সৰ্ব্ব কৰ্ম্ম রহিত হইলে তােমার দেহযাত্ৰা নিৰ্বাহও সিদ্ধ হইবে না। ৮।
যজ্ঞার্থাৎ কােহন্যত্র লােকোহয়ং কর্মবন্ধন।
তদর্থং কর্ম কৌন্তেয় মুক্তসঙ্গঃ সমাচর ॥৯॥
অনুবাদ—হে কৌন্তেয় ! যজ্ঞ অর্থাৎ বিষ্ণুর্পিত কৰ্ম্ম ভিন্ন অন্য কর্মের দ্বারা এই মনুষ্যলােক কৰ্ম্মবন্ধন প্রাপ্ত হয়। সুতরাং বিষ্ণুদ্দেশেই ফলাকাঙ্ক্ষা-রহিত হইয়া কৰ্ম্মের সম্যক্ আচরণ কর | ৯ |
সহ্যজ্ঞাঃ প্রজাঃ সৃষ্ট। পুরােবাচ প্রজাপতিঃ
অনেন প্রসবিষ্যধ্বমেষ বােহষ্টিকামধুক্ ॥১০ |
অনুবাদ—সৃষ্টির আদিতে প্রজাপতি ব্রহ্মা যজ্ঞাধিকারী ব্রাহ্মণাদি প্রজা সৃষ্টি করিয়া বলিয়াছিলেন —তােমরা এই যজ্ঞদ্বারা উত্তরােত্তর বৃদ্ধি প্রাপ্ত হও। এই যজ্ঞ তােমাদের অভীষ্ট ফলপ্রদ হউক ॥ ১০ |
দেবান্ ভাবয়তানেন তে দেবা ভাবয়ন্তু বঃ।
পরস্পরং ভাবয়ন্তঃ শ্রেয়ঃ পরমবাত্স্যথ। ১১।
অনুবাদ—এই যজ্ঞদ্বারা তােমরা দেবতাগণকে প্রসন্ন কর। দেবতাগণ। তােমাদিগকে প্রসন্ন করুন। পরস্পরে প্রসন্নতার ফলে পরম মঙ্গল লাভ করিবে ॥ ১১ |
ইষ্টান্ ভােগা হি বাে দেব দাস্যন্তে যজ্ঞভাবিতাঃ।
তৈত্তানপ্রদায়ৈভ্যো যাে ভুক্তে স্তেন এব সঃ ॥১২।
অনুবাদ—দেবতাগণ যজ্ঞে প্রীত হইয়া তােমাদিগকে বাঞ্ছিত ফল প্রদান করিবেন। অতএব তাহাদের প্রদত্ত দ্রব্য তাহাদিগকে না দিয়া যে ব্যক্তি স্বয়ং ভােগ করে, সে নিশ্চয় চোর ॥১২
যজ্ঞশিষ্টাশিনঃ সন্তো মুচ্যন্তে সবকিল্বিষৈঃ।
ভূঞ্জতে তে ত্বঘং পাপা যে পচন্ত্যাত্মকাণাৎ ॥১৩ ৷৷
অনুবাদ—যজ্ঞবশিষ্ট ভােজনকারী সাধুগণ সর্বপ্রকার পাপ হইতে মুক্ত হইয়া থাকেন। কিন্তু যাহারা নিজেদের জন্য অন্নাদি পাক করে, সেই দুরাচার গণ কেবল পাপই ভক্ষণ করে। ১৩ |
অম্লান্তি ভুতানি পর্জন্যাদাসম্ভব।
যজ্ঞাদ্ভবতি পর্জস্যো যজ্ঞঃ কর্মসমুদ্ভবঃ ॥১৪।
অনুবাদ—অন্ন হইতে ভূতগণ উৎপন্ন হয়। বৃষ্টি হইতে অন্নের উৎপত্তি। বৃষ্টি যজ্ঞ হইতে এবং যজ্ঞ কৰ্ম্ম হইতে সমুৎপন্ন ॥ ১৪ |
কর্ম ব্রহ্মোদ্ভবং বিদ্ধি ব্ৰহ্মাক্ষরসমুদ্ভব।
তন্মাৎ সর্বগতং ব্ৰহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিত। ১৫।
অনুবাদ—কৰ্ম্ম বেদ হইতে সমুদ্ভুত। ব্ৰহ্ম অর্থাৎ বেদ অক্ষর বা অচ্যুত হইতে উৎপন্ন । অতএব সৰ্বব্যাপক ব্ৰহ্ম সৰ্ব্বদা যজ্ঞে বিরাজমান আছেন ॥ ১৫ ||
এবং প্রবর্তিতং চক্রং নানুবৰ্ত্তয়তীহ যঃ।
অঘায়ুরিন্দ্রিয়ারামাে মােঘং পার্থ স জীবতি ॥১৬৷৷
অনুবাদ—হে পার্থ ! যে-ব্যক্তি এই সংসারে জগচ্চক্র-প্রবর্তকরূপ যজ্ঞের অনুবর্তন না করে, সে-ব্যক্তি পাপাত্মা ও ইন্দ্রিয়াসক্ত হইয়া বৃথা জীবন ধারণ করে। ॥১৬৷৷
যত্ত্বাত্মরতিরেব স্যাৎ আত্মতৃপ্তশ্চ মানবঃ।
আত্মতেব চ সন্তুষ্টস্তস্য কাৰ্যং ন বিদ্যতে ॥১৭।
অনুবাদ—কিন্তু যে মানব আত্মাতেই রত, আত্মাতেই তৃপ্ত, এবং আত্মাতেই সন্তুষ্ট হন, তাহার কোন কর্তব্য কৰ্ম্ম নাই ॥ ১৭ |
নৈব তস্য কৃতেনার্থে নাকৃতেনেহ কশ্চন।
ন চান্য সর্বভূতেষু কশ্চিদৰ্থব্যপায়ঃ ॥ ১৮৷
অনুবাদ—ইহ জগতে তাহার কৰ্ম্মানুষ্ঠান-দ্বারা কোন পুণ্যফল বা অনুষ্ঠান-দ্বারা কোন প্রত্যবায় বা পাপ হয় না। ইহার ব্রহ্মাণ্ডস্থ স্থাবরাদিভূত-মধ্যে স্বপ্রয়ােজনার্থ কাহারও আশ্রয় লইতে হয় না ১৮
তস্মাদসক্তঃ সততং কাৰ্যং কৰ্ম্ম সমাচর।
অসক্তো হাচর কর্ম পরমাগরীতি পুরুষঃ ॥ ১৯।
অনুবাদ—অতএব অনাসক্ত হইয়া সৰ্ব্বদা কর্তব্য কৰ্ম্ম আচরণ কর। যেহেতু অনাসক্ত হইয়া কৰ্ম্মাচরণ করিলে পুরুষ মােক্ষ লাভ করিয়া থাকে ॥ ১৯ ||
কৰ্মণৈব হি সংসিদ্ধিমাস্থি জনকাদয়।
লােকসংগ্ৰহমেবাপি সংপশ কর্তৃমহসি৷ ২০।
অনুবাদ—জনকাদিরাজর্ষিগণ কর্মদ্বারাই সংসিদ্ধি লাভ করিয়াছিলেন। সুতরাং লােকশিক্ষার নিমিত্তও তােমার কর্ম করাই উচিত ॥ ২০
যদ্যদাচরতি শ্রেষ্ঠত্তদেবেরাে জন।
স যৎ প্রমাণং কুরুতে লােকস্তদনুবৰ্ত্ততে৷ ২১।
অনুবাদ—শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যেরূপ কৰ্ম্ম আচরণ করেন, সাধারণ সেইরূপই করিয়া থাকেন। তিনি যাহাকে প্রমাণ বলিয়া স্বীকার করেন, অন্য লােক তাহারই অনুবর্তী হয় ॥ ২১।।
ন মে পার্থাস্তি কৰ্তব্যং ত্ৰিষু লােকে কিঞ্চন।
নানবাপ্তমবাপ্তব্যং বৰ্ত্ত এব চ কৰ্ম্মণি ॥ ২২॥
অনুবাদ—হে পার্থ ! আমার কোন করণীয় কৰ্ম্ম. নাই, যেহেতু ত্রিলােকে আমার অপ্রাপ্ত বা প্রাপ্য কিছুই নাই তথাপি আমি কৰ্ম্মাচরণ করিতেছি। ২২ |
যদি হহং ন বৰ্ত্তেয়ং জাতু কৰ্ম্মণ্যতন্দ্ৰিতঃ।
মম বানুবৰ্ত্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ॥ ২৩।
অনুবাদ—হে পার্থ ! যদি আমি কখন অনলস হইয়া কৰ্ম্ম না করি, তাহা হইলে মানবগণ সৰ্ব্বতােভাবে আমার পথ অনুকরণ করিবে ॥ ২৩ |
উৎসীদেয়ূরিমে লােকা ন কুৰ্যাং কৰ্ম্ম চেদহ।
সঙ্করস্য চ কৰ্ত্তা স্যামুপন্যামিমাঃ প্রজাঃ ॥২৪৷৷
অনুবাদ—যদি আমি কৰ্ম্ম না করি, তাহা হইলে এই সকল লােক উৎসন্ন হইবে, এবং আমি বর্ণসঙ্করের প্রবর্তক হইব। এইরূপে আমিই এই প্রজাগণকে বিনাশ করিব ॥ ২৪ |
সক্তাঃ কৰ্ম্মণ্যবিদ্বাংলাে যথা কুন্তি ভারত।
কুৰ্যাদ্বিঘাংস্তথাসক্তশ্চিকীর্ষ লোকসংগ্রহ। ২৫।
অনুবাদ—হে ভারত! কৰ্মাসক্ত অজ্ঞগণ যে প্রকার কৰ্ম্ম করিয়া থাকে, লােকহিতকামী আত্মজ্ঞব্যক্তিও অনাসক্ত হইয়া সেই প্রকার কর্ম করিবেন ॥ ২৫ |
বুদ্ধিভেদং জনময়দজ্ঞানাং কৰ্ম্মসঙ্গিনা।
যােষয়েৎ সর্বকৰ্ম্মাণি বিদ্বান্ যুক্তঃ সমাচর ৷৷২৬৷৷
অনুবাদ—অজ্ঞ কৰ্ম্মসঙ্গিদিগের বুদ্ধিভেদ উৎপাদন করিবে না। বরং বিদ্বান্ ব্যক্তি অবহিত হইয়া সকল কর্ম সম্যক্ আচরণ পূৰ্ব্বক অজ্ঞদিগকে নিযুক্ত করিবেন। ২৬ |
প্রকৃতেঃ ক্রিয়মাণানি গুণৈঃ কৰ্ম্মাণি সর্বশঃ ।
অহঙ্কার-বিমূঢ়াত্মা কৰ্ত্তাহমিতি মতে। ২৭।
অনুবাদ—প্রকৃতির গুণদ্বারা ক্রিয়মাণ সমস্ত কৰ্ম্মকে, অহঙ্কার-বিমূঢ়াত্মা ব্যক্তি আমি কর্তা—আমি করিতেছি এই প্রকার অভিমান করে । ২৭।
তত্ত্ববিৎ তু মহাবাহাে গুণকৰ্ম্মবিভাগয়ােঃ।
গুণ গুণেষু বৰ্ত্তন্ত ইতি মত্বা ন সজ্জতে॥ ২৮।
অনুবাদ—হে মহাবাহে অর্জুন! গুণ ও কৰ্ম্ম হইতে আত্মার পার্থক্য যিনি অবগত আছেন, সেই তত্ত্ববিৎ ব্যক্তি ইন্দ্রিয়সকল বিষয়েতে রত, আমি তাহা হইতে পৃথক্‌—এইরূপ মনে করিয়া বিষয়ের কর্তৃত্বাভিমান করেন ॥ ২৮ |
প্রকৃতেগুণসংমুঢ়াঃ সজ্জন্তে গুণকৰ্ম্মসু।
তানকৃৎক্সবিদো মন্দা কৃৎস্নবিয় বিচালয়েৎ ॥ ২৯।
অনুবাদ—প্রাকৃত-গুণবিশিষ্ট ব্যক্তিগণ বিষয়ে আসক্ত হয়। ব্যক্তি সেই অজ্ঞ ও মন্দমতি ব্যক্তিগণকে বিচলিত করিবেন না। ২৯।
ময়ি সর্বাণি কৰ্ম্মাণি সংস্যাধ্যাত্মচেতসা।
নিরাশীর্নির্মমম ভুত্ব যুধ্যস্ব বিগতজ্বরঃ ॥ ৩০।
অনুবাদ—আত্মনিষ্ঠ-চিত্তদ্বারা সমস্ত কৰ্ম্ম আমাতে সমর্পণ পূৰ্ব্বক নিষ্কাম, সৰ্ব্বত্র মমতাশূন্য এবং শােকরহিত হইয়া যুদ্ধ কর ॥ ৩০ |
যে মে মতমিদং নিত্যমতিষ্ঠন্তি মানবাঃ।
শ্রদ্ধাবন্তোইনসূয়ন্তোমুচ্যন্তে তেহপি কৰ্ম্মভিঃ ॥ ৩১ ॥
অনুবাদ—শ্রদ্ধাবান্ অসূয়ারহিত যে মানবগণ আমার এই মতের সর্বদা অনুসরণ করেন তাঁহারাও কৰ্ম্মবন্ধন হইতে মুক্তিলাভ করিয়া থাকেন । ৩১ |
যে ত্বেদভ্যসূয়ন্তা নাতিষ্ঠন্তি মে মত।
সর্বজ্ঞানবিমূঢ়াংস্তান্ বিদ্ধি নষ্টানচেতসঃ ॥ ৩২।
অনুবাদ—যাহারা কিন্তু অসূয়া প্রকাশপূৰ্ব্বক আমার এই মত অনুবর্তন না করে, তাহাদিগকে বিবেকরহিত, সৰ্ব্বজ্ঞান-বঞ্চিত ও সর্ব পুরুষার্থভ্রষ্ট বলিয়া জানিবে । ৩২।
সদৃশং চেষ্টতে স্বস্যাঃ প্রকৃতেজ্ঞানবানপি।
প্রকৃতিং যান্তি ভূতানি নিগ্রহঃ কিং করিষ্যতি ॥ ৩৩।
অনুবাদ জ্ঞানবান্ ব্যক্তিও নিজস্বভাবানুরূপ কাৰ্য্য করে। সমস্ত প্রাণী প্রকৃতির অনুগমন করিয়া থাকে। অতএব ইন্দ্রিয়নিগ্রহ কি করিবে ? | ৩৩ |
ইন্দ্রিয়স্থেন্দ্রিয়স্যার্থে রাগদ্বেষো ব্যবস্থিত।
তয়াের্ন বশমাগচ্ছেত্তেী হন্য পরিপন্থিলে ৩৪।
অনুবাদ—প্রত্যেক ইন্দ্রিয়ের স্ব-স্ব-বিষয়ের প্রতি রাগ ও দ্বেষ বিশেষ-ভাবে অবস্থিত আছে। অতএব তাহাদিগের অধীন হইবে না। যেহেতু রুষার্থ-সাধকের পক্ষে তাহারা পরম শত্রু। ৩৪|
শ্রেয়া স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ অনুষ্ঠিতাৎ।
স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ॥ ৩৫।
অনুবাদ—সর্বাঙ্গীনভাবে অনুষ্ঠিত পরধর্মাপেক্ষা কিঞ্চিৎ অঙ্গহীন। হইলেও স্বধৰ্ম্ম শ্রেষ্ঠ। স্বধৰ্ম্ম-অনুষ্ঠানকারীর মরণও ভাল, পরধর্ম' ভয়সঙ্কুল ॥৩৫|
ধুমেনাত্ৰিয়তে বহ্ন্যিথাদর্শো মলেন চ।
যথােনােবৃত গর্ভস্তথা তেনেদমাবৃতম্ ॥ ৩৮।
অনুবাদ—যে প্রকার ধূমের দ্বারা অগ্নি, ময়লা দ্বারা দর্পণ এবং জরায়ু দ্বারা গর্ভ আবৃত থাকে, সেই প্রকার কামের দ্বারা এই জগৎ আচ্ছন্ন থাকে ॥ ৩৮ |
আবৃতং জ্ঞানমেতেন জ্ঞানিনে। নিত্যবৈরিণা
কামরূপেণ কৌন্তেয় দুষ্পরেণানলেন চ। ৩৯।
অনুবাদ—হে কৌন্তেয় ! জানিগণের চিরশত্রু এই দুষ্পরণীয় অনলের ন্যায় কামরূপ অজ্ঞানের দ্বারা বিবেকজ্ঞান আবৃত হয়। ৩৯ |
ইন্দ্রিয়াণি মনন বুদ্ধিরত্যাধিষ্ঠানমুচ্যতে।
এতৈর্বিমােহয়ত্যেষ জ্ঞানমাৰ্বত্য দেহিন৷ ৪০।
অনুবাদ—ইন্দ্রিয়গণ, মন ও বুদ্ধি এই কামের আশ্রয় বলিয়া কথিত হয়। এই কাম ইন্দ্রিয়াদিদ্বারা জ্ঞানকে আবৃত করিয়া জীবকে বিমােহিত করে। ৪০ |
তস্মাৎ মিন্দ্রিয়াণ্যাদৌ নিয়ম্য ভরতভ।
পাপানং প্রজহি হেনং জ্ঞান-বিজ্ঞান-নাশনম্ ॥ ৪১ ॥
অনুবাদ—অতএব হে ভরতৰ্ষভ! তুমি সর্বাগ্রে ইন্দ্রিয়গণকে বশীভূত করিয়া জ্ঞান ও বিজ্ঞান-নাশক পাপরূপ এই কামকে বিনাশ কর। ৪১ !
ইন্দ্রিয়াণি পরাণ্যাহুরিন্দ্রিয়েভ্যঃ পরং মনঃ।
মনসস্তু পরা বুদ্ধিবুদ্ধেঃ পরতস্তু সঃ ॥ ৪২।
অনুবাদ—ইন্দ্রিয়গণ শ্রেষ্ঠ বলিয়া কথিত হয়। ইন্দ্রিয়গণ হইতে মন শ্রেষ্ঠ, মন হইতে কিন্তু বুদ্ধি শ্রেষ্ঠ এবং বুদ্ধি হইতে যিনি শ্রেষ্ঠ তিনি আত্মা ॥ ৪২।
এবং বুদ্ধেঃ পরং বুদ্ধা সংস্তভ্যাত্মানমাত্মনা।
জহি শং মহাবাহে কামরূপং দুরাসদম্ ॥ ৪৩।
অনুবাদ—হে মহাবাহহ! এইরূপে বুদ্ধি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ জীবাত্মাকে জানিয়া নিজের দ্বারা নিজকে নিশ্চল পূৰ্ব্বক কামরূপ দুর্জয় শত্রুকে নাশ ক র ॥ ৪৩ ||






SHARE

Milan Tomic

Hi. I’m Designer of Blog Magic. I’m CEO/Founder of ThemeXpose. I’m Creative Art Director, Web Designer, UI/UX Designer, Interaction Designer, Industrial Designer, Web Developer, Business Enthusiast, StartUp Enthusiast, Speaker, Writer and Photographer. Inspired to make things looks better.

  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
  • Image
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment