মন রে, তুমি বড় সন্দিগ্ধ-অন্তর ।
আসিয়াছ এ সংসারে, বদ্ধ হয়ে জড়াধারে,
জড়াসক্ত হলে নিরন্তর ॥ ১ ॥
ভুলিয়া স্বকীয় ধাম, সেবি’ জড়গত কাম,
জড় বিনা না দেখ অপর ।
তােমার তুমিত্ব যিনি, আচ্ছাদিত হয়ে তিনি,
লুপ্তপ্রায় দেহের ভিতর ॥ ২॥
তুমি ত’ জড়ীয় জ্ঞান, সদা করিতেছ ধ্যান,
তাহে সৃষ্টি কর’ চরাচর ।
এ দুঃখ কহিব কারে, নিত্যপতি-পরিহারে,
তুচ্ছতত্ত্বে করিলে নির্ভর ॥ ৩॥
নাহি দেখ’ আত্মতত্ত্ব, ছাড়ি’ দিলে শুদ্ধসত্ত্ব,
আত্মা হ’তে নিলে অবসর ।
আত্মা আছে কি না আছে, সন্দেহ তােমার কাছে,
ক্রমে ক্রমে পাইল আদর ॥ ৪ ॥
এইরূপে ক্রমে ক্রমে, পড়িয়া জড়ের ভ্রমে,
আপনা আপনি হলে পর ।
এবে কথা রাখ মাের, নাহি হও আত্মচোর,
সাধুসঙ্গ কর’ অতঃপর ॥ ৫॥
বৈষ্ণবের কৃপা-বলে, সন্দেহ যাইবে চলে,
তুমি পুনঃ হইবে তােমার ।
পাবে বৃন্দাবন-ধাম, সেবিবে শ্রীরাধা-শ্যাম,
পুলকাময় কলেবর ৷৷ ৬॥
ভক্তিবিনােদের ধন, রাধাকৃষ্ণ-শ্রীচরণ,
তাহে রতি রহু নিরন্তর ॥ ৭ ॥
0 comments:
Post a Comment