মনুমেকামাসীনমভিগম্য মহষয়ঃ।
প্রতিপূজ্য যথান্যায়মিদং বচনমব্রুবন্ ॥ ১
ভগবান্ মনু ঈশ্বরে একান্ত মনঃসমাধান করিয়া আসনে সমাসীন রহিয়াছেন, এমন সময়ে ধৰ্ম্মজিজ্ঞাসু মহর্ষিগণ তাহার সন্নিধানে সমাগত হইয়া বিধিমত পূজা-বন্দনাদি করত তাহাকে এই কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। ১ভগব সৰ্ববর্ণানাং যথাবদ পূৰ্ব্বশঃ।
অন্তরপ্ৰভবাণাঞ্চ ধৰ্ম্মায় বক্ত মসি। ২
হে ভগবন্! ব্রাহ্মণাদি বর্ণ সকলের ও অম্বষ্ঠ, করণ, ক্ষত্রিয় প্রভৃতি অমুলােম-প্ৰতিলােম জাত সঙ্করজাতির পৃথক পৃথকরূপে ধৰ্ম্মসকল আমাদিগকে বলুন। ২ত্বমেকে হস্য সৰ্বস্য বিধানস্য স্বয়ম্ভুবঃ।
অচিন্ত্যস্যামেয়স্য কাৰ্যতত্ত্বার্থবিৎ প্রভাে ! ৩।
হে প্রভাে! যে বেদ বহুশাখায় বিভক্ত হওয়াতে অসীমরূপে প্রতীয়মান হয়, এবং মীমাংসা, ন্যায় প্রভৃতি শাস্ত্রের সাহায্য ব্যতিরেকে যাহার প্রতিপাদ্য ভাগ বুঝা যায় না, কি প্রত্যক্ষ কি স্মৃত্যাদি শাস্ত্র দ্বারা অনুমেয় সেই অপৌরুষেয় ও নিত্য সমগ্র বেদশাস্ত্রে উল্লিখিত যজ্ঞাদি কাৰ্য্য ও ব্রহ্মতত্বের আপনিই অদ্বিতীয় বেত্তা হয়েন॥৩॥স তৈঃ পৃষ্টস্তথা সমগমিতোজ। মহাত্মভিঃ।
প্রত্যুবাচাৰ্চ্চ তা সৰ্বাৰ মহর্ষী তামিতি ॥ ৪॥
অসীমতেজঃসম্পন্ন ভগবান্ মনু মহানুভব মহর্ষিগণ কর্তৃক উক্ত প্রকারে জিজ্ঞাসিত হই, তাঁহাদিগকে পূজা করিয়া, শ্রবণ করুন' বলিয়া প্রকৃতপ্রস্তাবে উত্তর প্রদান করিলেন॥ ৪॥অসীদিদন্তমোভূতমজ্ঞাতমলক্ষণ।
অপ্রতকমবিজ্ঞেয়ং প্রসুমিব সর্বতঃ ॥ ৫॥
প্রলয়কালে এই জগৎ এ প্রকারে প্রকৃতিতে লীন ছিল যে, উহা প্রত্যক্ষ, অনুমান ও শব্দ, এই ত্রিবিধ প্রমাণের বিষয় ছিল না; যেন সকল জগৎ নিদ্রিতাবস্থায় ছিল। ৫ততঃ স্বয়ম্ভুৰ্ভগবানব্যক্তে। ব্যঞ্জয়দিম।
মহাভূতাদি বৃতৌজাঃ প্রাদুরাসীত্তমোমুদঃ ॥ ৬
প্রলয়ানন্তর বহিরিন্দ্রিয়ের অগােচর, অব্যাহতসৃষ্টি-সামর্থ্য-সম্পন্ন ও প্রকৃতিপ্রেরক পরমেশ্বর স্বেচ্ছাকৃত দেহধারী হইয়া এই আকাশাদি পঞ্চ ভূত ও মহদাদি তত্ব, যাহা প্রলয়কালে সূক্ষ্মরূপে অধ্যক্তাবস্থায় ছিল, সেই সমুদয় স্থুলরূপে প্রকাশ করত আপনিই প্রকাশিত হইলেন। ৬যােহসাবতীন্দ্রিয়গ্রাহঃ সূক্ষোহব্যক্তঃ সনাতন।
সৰ্ব্বভূতময়ােহচিন্ত্যঃ স এব স্বয়মুদ্বভৌ॥৭।
যিনি সকল লােক, বেদ, পুরাণ, ইতিহাসদিশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ, যিনি মনােমাত্ৰ-গ্রাহ্য, অবয়ববিহীন, নিত্য ও সকল ভূতের অন্তরাত্মা হয়েন, এবং যাহার ইয়ত্তা করা যায় না, তিনি স্বয়ংই মহদহংকারাদি কাৰ্য্যরূপে প্রাদুর্ভুত হইলেন। ৭সােহভিধ্যায় শরীরা স্বাৎ সিসূক্ষুর্বিবিধাঃ জাঃ।
অপ এব সসজ্জাদে তালু বীজমবাসৃজৎ ॥ ৮।
সেই পরা প্রকৃতিরূপে পরিণত আপন শরীর হইতে নানাপ্রকার প্রজা সৃষ্টি করিবার অভিলাষে, কিরূপে সৃষ্টি-সম্পাদন হইবে, এই সঙ্কল্প করিয়া প্রথম ‘জল হউক' বলিয়া আকাশাদি ক্রমে জলের সৃষ্টি করিলেন ও তাহাতে আপন শক্তিরূপ বীজ অৰ্পণ করিলেন। ৮এতদণ্ডমভূবদ্ধৈমং সহস্রাংশুসমপ্ৰভম্।
তস্মিন্ জজ্ঞে স্বয়ং ব্রহ্মা সর্বলােকপিতামহঃ ॥ ৯।
অর্পিত বীজ সুবর্ণ-নির্ম্মিতের ন্যায় ও সূর্যসদৃশ প্রভাযুক্ত একটি অন্ড হইল, ঐ অওে সকল লাকের জনক স্বয়ং ব্রহ্মাই শরীর পরিগ্রহ করিলেন। ৯আপে নারা ইতি পােতা আপাে বৈ নরসূনবঃ।
তা যদস্যায়নং পূৰ্ব্বং তেন নারায়ণঃ স্মৃতঃ। ১০
নরনামক পরমেশ্বরের দেহ হইতে জলের সৃষ্টি হইয়াছে বলিয়া উহাকে নার বলা যায়, যেহেতু জলসকল প্রলয়কালে পরমাত্মাৰ অয়ন অর্থ স্থান হয়, এই জন্য পরমাত্মা নারায়ণ শব্দে কথিত হইয়াছেন। ১০যত্তৎ কারণমব্যক্তং নিত্যং সদসদাত্মকম্ ।
তদ্বিষ্টঃ স পুরুষো লােকে ব্রহ্মেতি ক্যতে ॥ ১১।
যে পরমাত্মা সৃষ্ট বস্তুমাত্রেরই কারণ, যিনি ইন্দ্রিয়ের অগােচর, যাহার ক্ষয়ােদয় নাই, যিনি সৎপদের প্রতিপাদ্য, এবং যিনি প্রত্যক্ষের বিষয় নহেন বলিয়া অসৎ শব্দেও কথিত হইছেন, সেই পরম পুরুষ পরমেশ্বর হইতে উৎপন্ন এই অন্ডজাত পুরুষ লােকে ব্রম্মা বলিয়া বিখ্যাত হইয়াছেন। ১১তস্মিন্নণ্ডে স ভগবালুষিত্ব। পরিবৎসর।
স্বয়মবাত্মনো ধ্যানদণ্ডমকররাদ্দিধা ॥ ১২
ভগবান্ ব্রহ্মা সেই অণ্ডে ব্রহ্ম পরিমাণে এক বৎসরকাল বাস করিয়া, অন্ড দ্বিধা হউক মনে হইবামাত্র স্বয়ং সেই অণ্ডকে দুই খণ্ড করিলেন।১২তাভ্যাংস শকলাভ্যাঞ্চ দিবং ভূমিঞ্চ নির্মমে।
মধ্যে ব্যোম দিশশ্চষ্টা-পাং স্থানঞ্চ শাশ্বতম্ ॥১৩ |
তিনি সেই দুই খণ্ডের ঊর্ধ খণ্ডে স্বর্গ ও অপর খণ্ডে পৃথিবী করলেন, এবং মধ্যভাগে আকাশ, অষ্টদিক্ ও চিরস্থায়ী সমুদ্ৰনামক জলাধার প্রস্তুত করিলেন। ১০উদ্ববাত্মনশ্চৈব মনঃ সদসদাত্মক।
মনসণ্টাপ্যহঙ্কারমভিমন্তারমীশ্বরম্ ॥ ১৫
ব্রহ্মা পরমাত্মা হইতে পরমাত্মার স্বরূপ হইয়া মনের সৃষ্টি করিলেন, যে মন এক এক সময়ে এক এক প্রকার জ্ঞানের আধার বলিয়া সৎস্বরূপ, ও প্রত্যক্ষ হয় না বলিয়া অসৎস্বভাব। মনের সৃষ্টির পূর্বে অভিমানের জনক ও সুকাৰ্যসাধনক্ষম অহং অর্থাৎ আমিত্ব-বােধক অহঙ্কারতত্ত্বের ও সৃষ্টি করিলেন। ১৪মহাস্তমেব চাত্মানং সৰ্বাণি ত্রিগুণানি চ ।
বিষয়াণাং গ্রহীত ণি শনৈঃ পঞ্চেন্দ্রিয়াণ চ। .৫।
ব্ৰহ্মা অহঙ্কারতত্ত্বের সৃষ্টির পূৰ্ব্বে পরমেশ্বর হইতে মহত্তত্বের সৃষ্টি করিলেন, যে মহত্তত্ব আত্মা হইতেউৎপন্ন বলিয়া আত্মশব্দে কথিত হইয়াছে। আর সত্বরজস্তমােগুণযুক্ত অন্য পদার্থ সকল সৃষ্টি করিলেন,
এবং শব্দ, স্পর্শ রূপ রস গন্ধের গ্রাহক শ্রোত্র, ত্বক, চক্ষু, জিহবা, নাসিকা এই পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় ও বাক,
পাদ, হন্ত, গুহ্য়, উপস্থ এই পঞ্চ ফৰ্ম্মেন্দ্রিয় সৃষ্টি করিলেন। ১৫
তেষাবয়বান্ সূক্ষমা ষামপ্যমিতৌজসাম।
সন্নিবেশ্যাত্মমাত্ৰা সৰ্ব্বভূতানি নিৰ্ম্মমে। ১৬।
যন্ম বয়ঃ সূক্ষমাস্তস্যেমান্যাশ্রয়ন্তি ষট।
তস্মাচ্ছবীরমিত্যাহুস্তস্য মূৰ্ত্তিং মনীষিণঃ ॥১৭॥
,অসীম কাৰ্যনিৰ্মাণে সমর্থ অহঙ্কার ও তন্মাত্ৰ-পদ-বাচ্য পঞ্চভূত। অহঙ্কারের বিকার ইন্দ্রিয়, তন্মাত্রর বিকার পঞ্চমহাভূত, তাহাতে তন্মত্র ও অহঙ্কারের যােজনা করিয়া, মনুষ্য পশু পক্ষী স্থাবর প্রভৃতি
সমুদয় ভূতের সৃষ্টি করিলেন। ১৬
যেহেতু মুর্ত্তিসম্পাদক পাচটি তন্মাত্ৰ-পদবাচ্য সূক্ষ্ম অবয়ব ও অহঙ্কার এই ছয় প্রকৃতির সহিত বর্তমান
ব্রহ্মের কাৰ্য্যরূপে শরীরকে আশ্রয় করে, কেন না, তন্মাত্র হইতে পঞ্চ মহাভূত ও অহঙ্কার হইতে ইন্দ্রিয়ের উপত্তি হয়, এই হেতু পণ্ডিতেরা ছয়ের আশয় বলিয়া ইন্দ্রিয়াদিবিশিষ্ট ব্রহ্মের মূৰ্ত্তিকে শরীর বলিয়াছেন। ১৭
তদাবিশস্তি ভূতানি মহান্তি সহ কর্মভিঃ।
মনশ্চায়বৈঃ সূক্ষৈঃ সৰ্ব্বভূতকৃদব্যয়ম্। ১৮।
তেষামিদন্তু সপ্তানাং পুরুষাণাং মহৌজসাম্।
সূক্ষাভো, মূৰ্ত্তিমাত্রাভ্যঃ সংভবত্যব্যয়াধ্যম। ১৯।
শাদি পঞ্চতন্মাত্ৰাত্মক ব্ৰহ্ম হইতে আকাশাদি পঞ্চ মহাভূত আপন আপন কার্যের সহিত উৎপন্ন হয়। আকাশের কর্ম স্থানান, বায়ুর কর্ম বিন্যাস, তেজের কর্ম পাক, জলের কর্ম পিঞ্জী ফরণ ও পৃথিবীর কর্ম ধারণ। আর অহঙ্কারাত্মক ব্ৰহ্ম হইতে সকল ভূতের উৎপত্তির ফারণ অবিনাশ নন উৎপন্ন হয়, যে মন শুভাশুভ সঙ্কল ও সুখদুঃখাদি ফার্যের সহত জনক হয়। ১৮মহত্তত্ব, অহঙ্কাৰতত্ব ও পঞ্চ মহাভূত এই সাতটি পরমপুরুষ পরমাত্মা হইতে উৎপন্ন বলিয়া উহাদিগকে পুরুষ বলে। উহাদিগের শরীরসম্পাদক যে সূক্ষ্ম অবয়ব, তাহা হইতে এই প্রত্যক্ষ পরিদৃশ্যমান জগতের উৎপত্তি হয়, যে জগৎ জন্য বলিয়া নশ্বর। ১৯
আদ্যাদ্যস্য গুণন্বেষমবাপ্নোতি পরঃ পর।
যয যয যাবতিথশ্চৈষং স স তাবগুণঃ স্মৃতঃ। ২০
আকাশের গুণ শব্দ, বায়ুর গুণ স্পর্শ, অগ্নির গুণ রূপ, জলের গুণ রস, পৃথিবীর গুণ গন্ধ। প্রথম ভিন্ন প্রত্যেকে স্ব স্ব গুণাতিরিক্ত পূৰ্ব্ব পূর্বের গুণ গ্রহণ করে ; যে যত সংখ্যায় গণিত, তাহার ততই গুণ হয়, অর্থাৎ আকাশের গুণ শব্দ, বায়ুর শব্দ ও স্পর্শ, অগ্নির শব্দ স্পর্শ ও রূপ,জলের শব্দ স্পর্শ রূপ ও রস, এবং পৃথিবীব শব্দ স্পর্শ রূপ রস ও গন্ধ গুণ হয়। ২০সর্বেষান্তু স নামানি কয়ানি চ পৃথক পৃথক।
বেদশব্দেভ্য এবাদে পৃথসংস্থাশ্চ নিৰ্ম্মমে। ২১।
হিরণ্যগর্তরূপে অবস্থিত সেই পরমাত্মা সকলের নাম অর্থাৎ মনুষ্যজাতির মনুষ্য, গােজাতির গো ইত্যাদি ও ব্রাহ্মণাদি চাতুর্বর্ণোর বেদোক্ত অধ্যয়নাদি কর্ম, এবং অন্যান্য জাতির লৌকিক কর্ম, অর্থাৎ কুলালের ঘটনির্ম্মাণ, কুবিন্দের পটনিৰ্মাণ ইত্যাদি, প্রথমত বেদ শাস্ত্র হইতে অবগত হইয়া, পূর্বকল্পে যেরূপ ছিল, এ কল্পে তাহার সেইরূপ নির্দ্দিষ্ট করিয়া দিলেন। ২১)কৰ্মাত্মনাঞ্চ দেবানাং সাহসৃজৎ প্রাণিনং প্রভু।
সাধ্যানাঞ্চ গণং সূক্ষং যজ্ঞঞ্চৈব সনাতন। ২২।
অগ্নিবায়ুরবিভ্যন্তু ব্ৰয়ং ব্ৰহ্ম সনাতন।
দুদোহ যজ্ঞসিদ্ব্যৰ্থ-মৃগ যজুঃসামলক্ষণম্ ॥ ২৩।
সেই পরমাত্মা প্রাণধারী ইন্দ্রাদি দেবগণ, অপ্রাণী কর্ম্মহেতুক পাষাণময় দেবগণ ও সাধ্যনাম সূক্ষ্ম দেবসমূহ এবং জ্যোতিষ্ঠোমাদি নিত্যযজ্ঞ সকল সৃষ্টি করিলেন। ২২তিনি যজ্ঞকাৰ্যসিদ্ধির নিমিত্ত অগ্নি হইতে সনাতন ঋগবেদ, বায়ু হইতে যজুর্বেদ এবং সূৰ্য্য ইতে সামবেদ উদ্ধত করিলেন। ২৩
কালং কালবিভক্তশ্চ নক্ষত্রাণি গ্রহংস্তথা।
সরিতঃ সাগরা, শৈলান্ সমানি বিষমাণি চ॥২৪।
তপে বাচং রতিঞ্চৈব কামঞ্চ ক্রোধমেব চ।
সৃষ্টিং সস… চৈমাে স্রষ্ট মিছমিমাঃ প্রজাঃ ॥২৫।
ব্রহ্মা সূৰ্য আদির ক্রিয়া-প্ৰচয়রূপ সামান্য কাল ও মাস, ঋতু, অয়ন, বৎসরাদি বিশেষ কাল, কৃত্তিকা প্রভৃতি সপ্তবিংশতি নক্ষত্র, আদিত্যাদি গ্রহ সকল, নদী, সমুদ্র, পৰ্বত, সমস্থান ও উন্নতানত বিষমস্থান সকল সৃষ্টি করিলেন। ২৪তিনি বক্ষ্যমাণ বিবিধ প্রকার প্রজা সৃষ্টি করিবার অভিলাষে প্রথমে প্রাজাপত্যাদি তপস্যা, বাক্য, চিওসন্তোষ, অভিলাষ ও নেত্রলৌহিত্যাদির কারণ চিত্তবিকার প্রভৃতি সুষ্টি করিলেন। ॥২৫॥
কৰ্ম্মণাত্ত বিবেকায় ধৰ্ম্মাধৰ্ম্মো ব্যবেচয়ৎ।
দ্বন্দ্বেরযােজয়চ্চেমাঃ সুখদুঃখাদিভিঃ প্রজাঃ॥২৬॥
অণে মাত্রা বিনাশিন্তো দশর্ধানান্তু যাঃ স্মৃতঃ।
তাভিঃ সার্ধমিদং সর্বং সম্ভবত্যনুপূর্বশঃ ॥ ২৭॥
তিনি কর্তব্য ও অকর্তব্য কৰ্ম্মের বিভাগ জন্য ধৰ্ম্ম ও অধৰ্ম্ম পৃথক্ করিয়া বিভক্ত করিলেন। ধৰ্ম্মের ফল সুখাদি ও অধৰ্ম্মের ফল দুঃখাদি, এই সুখদুঃখাদি দ্বারা সমুদয় প্রজাদিগকে সংযুক্ত করিলেন॥ ২৭॥ পঞ্চ মহাভূতের যে সকল সূক্ষ্ম অংশ এবং মূলভাগ, তৎক্রমে অথাৎ সূক্ষ্ম হইতে স্থুল, স্থুলভাগ ইতে স্থুলতর ভাগ ইত্যাদি ক্রমে এই জগৎ, সৃষ্টি হইল। ॥২৭॥
যন্ত কর্মণি যস্মিন্ স ন্যযুক্ত প্রথমং প্রভু।
স তদেব স্বয়ষুেজে সৃজমানঃ পুনঃপুনঃ । ২৮।
প্রজাপতি ব্রহ্মা সৃষ্টিকালে যে জাতিকে যাদৃশ কৰ্ম্মে, অর্থাৎ ব্যাঘাদিকে হরিণমারণাদিরূপে নিযুক্ত করিলেন, তাহাৱা বারংবার সৃষ্ট হইয়াও স্ব স্ব কৰ্ম্মানুসরে সেই সেই কম্মই আচরণ কবিতে লাগিল। ২৮হিংস্রাহিংস্রে মৃদুরে ধর্মাধর্মাবৃতানৃতে।
যদস্য সােহদধাৎ সর্গে তত্তস্য স্বয়মাবিশৎ॥২১।
যথলিঙ্গান্তবঃ স্বয়মেবৰ্ত্তপৰ্যয়ে।
স্বানি স্বাভিপদ্যন্তে তথা কৰ্ম্মাণি দেহিনঃ ॥ ৩০।
পূৰ্ব্ব বচনের উদাহরণ। সিংহাদির হিংসা, হরিণাদির অহিংসা, ব্রাহ্মণাদির দয়া, ক্ষত্রিয়াদির যুদ্ধাদি, ব্রহ্মচর্যাদির গুরুশুশ্রূষাদি ধৰ্ম্ম ও মাংসমৈথুনসেবাদি অধর্ম, সত্য ও অসত্য ইত্যাদি প্রজাপতি সৃষ্টিকালে যাহার যাহা বিধান করিলেন, উত্তরকালেও সকলে অদৃষ্টবলে তাহাই প্রাপ্ত হইল। ২৯যেমন বসস্তাদি ঋতু আপন আপন অধিকারকালে চুতকারী প্রভৃতি আপন আপন চিহ্ন ধারণ করিয়া থাকে, সেইরূপ শরীরধারী পুরুষেরাও আপন আপন কৰ্ম প্রাপ্ত হইয়া থাকে। ৩০
লোকানাপ্ত বিবৃদ্ধ্যর্থং মুখবাহুরুপাদতঃ।
ব্রাহ্মণং ক্ষত্রিয়ং বৈশ্যং শুদ্রঞ্চ নিরবত্তয়ৎ ॥ ৩১।
দ্বিধা কৃত্বাত্মনাে দেহমৰ্দ্ধেন পুরুষােহভবৎ।
অর্ধেন নারী তস্যাং স বিরাজমজৎ প্রভু। ৩২।
সৃষ্টিকর্তা পরমেশ্বর ভূলােকাদি প্রজা বৃদ্ধি করিবার মানসে আপন মুখ, বাহ, উরু ও পদ হইতে ক্রমে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এই চারি বর্ণের সৃষ্টি করিলেন, অর্থাৎ মুখ হইতে ব্রাহ্মণ, বাহু হইতে ক্ষত্রিয়, উরুহইতে বৈশ্য ও পদ হইতে শুদ্রের সৃষ্টি করিলেন। ৩১সৃষ্টিকর্তা জগদীশ্বর আপন শরীরকে দুই খণ্ড করিয়া অর্ধাংশে পুরুষ ও অর্ধাংশে নারী হইলেন। ঐ উভয়ের পরস্পর সংযোগে বিনামক পুরুষ উৎপন্ন হইল। ৩২
তপস্তপ্তজ্যিস্ত স স্বয়ং পুরুষে বিরাট।
তং মাং বিভাস্য সৰ্বস্য স্রষ্টারং দ্বিজত্তমাঃ । ৩৩।
অহং প্রজাঃ সিন্ধুস্তু তপস্তপ্ত। সুদুশ্চরম্।
পতী প্রজানামসৃজম মহর্ষীনাদিত দশ ॥ ৩৪।
মরীচিমঙ্গিরসৌ পুলস্ত্যং পুলহং ক্রতু।
প্রচেতং বসিষ্ঠ ভৃগুং নারদমেব চ। ৩৫।
এতে মংস্তু সপ্তান্যানসৃজন ভূরিতেজসঃ।
দেবা দেবনিকায়াংশ্চ মহর্ষীংশ্চামিতৌজসঃ ৩৬।
হে দ্বিজসত্তম! সেই বিরাট পুরুষ বহুকাল তপস্যা করিয়া যাহাকে সৃষ্টি করিলেন, আমি সেই মনু, আমাকে সৃষ্টিকর্তা বলিয়া অবগত হও। ॥৩৩॥অনন্তর আমি প্রজা সৃষ্টি করিবার অভিলাষে বহুকাল অতি কঠোর তপস্যা করিয়া প্রথমতঃ প্রজা সৃজনে সমর্থ দশ জন প্রজাপতির সৃষ্টি করিলাম। ৩৪॥
আমি মরীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু, প্রচেতা, বসিষ্ঠ, ভৃগু ও নারদ পূর্বোক্ত এই দশ জন প্রজাপতির সৃষ্টি করিলাম। ৩৫॥
এই মরীচ্যাদি দশ প্রজাপতি মহাতেজস্বী অপর সপ্ত মনুর সৃষ্টি করিলেন এবং যে দেবতাদিগকে ব্রহ্মা
পূৰ্বে সৃষ্টি করেন নাই, এমন দেব ও দেবতাদিগের বাসস্থান এবং কতিপয় মহর্ষির সৃষ্টি করিলেন। ৩৬॥
ইহার যক্ষ, রাক্ষস, পিশাচ, গন্ধর্ব, অক্ষর, অসুর, অজগরদি নাগ ও সর্প, গরুড়দি পক্ষিগণ, আজ্যপাদি নাম পিতৃগণকে পৃথক পৃথকরূপে সৃষ্টি করিলেন। ইহারা বিদ্যুৎ, বস্ত্র, মেষ, বক্র ইন্দ্রধনু ও সরলাকার ইন্দ্রধনু, ভূগর্ভ হইতে উখিত ভীষণধ্বনি, ধূমকেতু, ধ্রুব ও অগস্ত্যাদি নানাপ্রকায় জ্যোতিও সৃষ্টি করিলেন। ৩৮॥
ক্রিমি, কীট, শলভ, কেশীট (উকুন), মক্ষিকা, সৎকুণ, (ছারপােকা ), দংশ, মশক প্রভৃতি জন্তু ও বৃক্ষলতাদি স্থাবর, পৃথক পৃথকরূপে সৃষ্টি করিলেন। ৪০॥
তাহারা আমার অনুমতিক্রমে তপােবলে যাহার যেমন কর্ম, তনুরূপ দেব, মনুষ্য, পশু, পক্ষী প্রভৃতি
স্থাবর জঙ্গম সমুদয় সৃষ্টি করিলেন। ৪১॥
হে মহর্ষিগণ ! পূৰ্বাচার্য্যেরা যে যে জাতির যে-যে-প্রকার কর্ম ও যে প্রকারে জন্ম কহিয়াছেন, আমিও ঐরূপ কর্ম ও জন্মক্রম আপনাদিগকে বলিতেছি, শ্রবণ করুন। ৪২॥
পক্ষী, সর্প, কুম্ভীর, মৎস্য, কচ্ছপ, স্থলজ কৃকলাসাদি ও জলজাত শঙ্খদি জন্তু সকল অন্ডে উৎপন্ন হইয়া তাহা হইতে প্রাদুর্ভূত হয়। ৪৪॥
দংশ, মশক, কেশীট (উকুণ), মক্ষিকা, মকুণ (ছাপােকা) ইহারা ক্লেদ হইতে উৎপন্ন হয়, এতভিন্ন পুত্তিকাপিপীলিকাদিও উদ্ম হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে। ৪৫॥
যাহা বীজ ও ভূমি উদ্ভেদ করিয়া উখিত হয়, তাহাদিগকে উদ্ভিজ্জ অর্থাৎ বৃক্ষ বলে। বৃক্ষ দুই প্রকার ;-কতকগুলি বীজ হইতে জন্মে, কতকগুলি রােপিতশাখা হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে। যাহারা বিবিধ পুষ্পফলে সুশােভিত হইয়া ফল পরিপক হইলেই বিনাশ পায়, তাহাদিগকে ওষধি বলা যায়; যেমন ধান্য-যবাদি। ৪৬॥
যাহার মুল হইতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক লতা উৎপন্ন হয়, তাহাকে গুচ্ছ বলে ; যেমন মল্লিকা প্রভৃতি। যাহার এক মূলে অনেক অঙ্কুর জন্মে, তাহাকে গুল্ম বলে; যেমন ইক্ষু, শর প্রভৃতি। উল প্রভৃতিকে তৃণ বলে। তন্তুযুক্ত লতা প্রভৃতিকে প্রতান বলে ; যথা—শশা, অলাবু প্রভৃতি; এবং যাহারা ভূমি হইতে বৃক্ষে আরােহণ করে, তাহাদিগকে বল্লী বলে; যেমন গুরুচ্যাদি। ইহাদিগের মধ্যে কেহবীজ হইতে উৎপন্ন হয়, কে বা কাণ্ড হইতে জন্মিয়া থাকে। ৪৮॥
অন্তরে চৈতন্যবিশিষ্ট থাকে। কোন কোন সময়ে ইহাদিগের সুখদুঃখের বিলক্ষণ অনুভব হয়। ৪৯
এই জন্মমরণসমাকুল অনিত্য অতিভয়ানক সংসারে ব্রহ্মাদি স্থাবর পর্যন্ত সমুদয় জীব যেরূপে উৎপন্ন হইয়াছে, তাহা আদ্যোপান্ত বর্ণিত হইল। ৫০॥
আমি মরীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু, প্রচেতা, বসিষ্ঠ, ভৃগু ও নারদ পূর্বোক্ত এই দশ জন প্রজাপতির সৃষ্টি করিলাম। ৩৫॥
এই মরীচ্যাদি দশ প্রজাপতি মহাতেজস্বী অপর সপ্ত মনুর সৃষ্টি করিলেন এবং যে দেবতাদিগকে ব্রহ্মা
পূৰ্বে সৃষ্টি করেন নাই, এমন দেব ও দেবতাদিগের বাসস্থান এবং কতিপয় মহর্ষির সৃষ্টি করিলেন। ৩৬॥
যক্ষরক্ষঃপিশাচাংশ্চ গন্ধৰ্বাহপরসােহসুরা।
নাগা সর্পা সুপর্ণাংশ্চ পিতৃণাঞ্চ পৃথগগণা। ৩৭।
বিদ্যুতােহশনিমেঘাংশ্চ রােহিতেন্দ্রধনুষি চ।
উল্কানির্ঘাতকেতুংশ্চ জ্যোতীং্যুচ্চাবচানি চ। ২৮॥
কিন্নরা বানরা মৎস্যা বিবিধাংশ্চ বিহঙ্গমা।
পশু মৃগান্ মনুষ্যাংশ্চ ব্যালাংশ্চোভয়তােদতঃ ॥ ৩৯
কৃমিকীটপতঙ্গাংশ্চ যুকামক্ষিকমৎকুণম্।
সৰ্ব্বঞ্চ দংশমশকং স্থাবরঞ্চ পৃথশ্বিধম্ ॥ ৪০।
এবমেতৈরিদং সৰ্ব্বং মন্নিয়ােগাম্মহাত্মভিঃ।
যথাকৰ্ম তপােযােগৎ সৃষ্টং স্থাবরজঙ্গম। ৪১।
যেষান্তু যাদৃশং কর্ম ভূতানামিহ কীৰ্তিতম্।
তথা বােহভিধাস্যামি ক্ৰমযােগ জম্মনি। ৫২।
কিন্নর, বানর, মৎস্য, নানাপ্রকার পক্ষী, গবাদি পশু, নানাপ্রকার মৃগ,মনুষ্য ও দুই পঙক্তি দন্তবিশিষ্ট অশ্বদী জন্তু এবং সিংহাদি হিংস্র জন্তু সকল সৃষ্টি করিলেন। ৩৯ক্রিমি, কীট, শলভ, কেশীট (উকুন), মক্ষিকা, সৎকুণ, (ছারপােকা ), দংশ, মশক প্রভৃতি জন্তু ও বৃক্ষলতাদি স্থাবর, পৃথক পৃথকরূপে সৃষ্টি করিলেন। ৪০॥
তাহারা আমার অনুমতিক্রমে তপােবলে যাহার যেমন কর্ম, তনুরূপ দেব, মনুষ্য, পশু, পক্ষী প্রভৃতি
স্থাবর জঙ্গম সমুদয় সৃষ্টি করিলেন। ৪১॥
হে মহর্ষিগণ ! পূৰ্বাচার্য্যেরা যে যে জাতির যে-যে-প্রকার কর্ম ও যে প্রকারে জন্ম কহিয়াছেন, আমিও ঐরূপ কর্ম ও জন্মক্রম আপনাদিগকে বলিতেছি, শ্রবণ করুন। ৪২॥
পশব মৃগাকৈব ব্যালাক্ষোভ তােদতঃ।
রক্ষাংসি চ পিশাচাশ্চ মনুষ্যাশ্চ জরায়ুজাঃ । ৪৩।
অগুজাঃ পক্ষিণঃ সৰ্পনা মৎস্যাশ্চ কচ্ছপাঃ।
যানি চৈবংকারাণি স্থলজান্তৌদকানি চ। ৪৪।
স্বেদং দংশমশকং শূকামক্ষিকমৎকুণম্।
উষ্মণশ্চোপজয়ন্তে যচ্চাৎ কিঞ্চিদীদৃশ। ৪৫।
উদ্ভিজ্জাঃ স্থাবরাঃ সর্বে বীজকাণ্ডরােহিণঃ।
ওষধ্যঃ ফলপাকান্তা বহুপুষ্পফললাগমাঃ ॥ ৪৬।
পণ্ড, মৃগ, দুই পঙক্তি দন্তবিশিষ্ট হিংস্ৰজন্তু, রাক্ষস, পিশাচ ও মনুষ্য ইহারা সকলে জরায়ু নামক গর্ভাবরণ চর্মে প্রাদুর্ভূত হয় ও তাহা হইতে মুক্ত হইয়া ভূমিষ্ঠ হয়। ৪৩॥পক্ষী, সর্প, কুম্ভীর, মৎস্য, কচ্ছপ, স্থলজ কৃকলাসাদি ও জলজাত শঙ্খদি জন্তু সকল অন্ডে উৎপন্ন হইয়া তাহা হইতে প্রাদুর্ভূত হয়। ৪৪॥
দংশ, মশক, কেশীট (উকুণ), মক্ষিকা, মকুণ (ছাপােকা) ইহারা ক্লেদ হইতে উৎপন্ন হয়, এতভিন্ন পুত্তিকাপিপীলিকাদিও উদ্ম হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে। ৪৫॥
যাহা বীজ ও ভূমি উদ্ভেদ করিয়া উখিত হয়, তাহাদিগকে উদ্ভিজ্জ অর্থাৎ বৃক্ষ বলে। বৃক্ষ দুই প্রকার ;-কতকগুলি বীজ হইতে জন্মে, কতকগুলি রােপিতশাখা হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে। যাহারা বিবিধ পুষ্পফলে সুশােভিত হইয়া ফল পরিপক হইলেই বিনাশ পায়, তাহাদিগকে ওষধি বলা যায়; যেমন ধান্য-যবাদি। ৪৬॥
অপুঃ ফলবন্তো যে তে বনস্পতয়ঃ মৃতঃ।
পুষ্পিণ ফলিনশ্চৈব বৃক্ষান্ত ভয়তঃ স্মৃতাঃ ॥ ৪৭।
গুচ্ছগুল্মন্তু বিবিধং তথৈব তৃণজাতয়ঃ।
বীজকাহাণ্যেৰ প্ৰতানা বল্ল্য এব চ। ৪৮।
যাহারা পুষ্পিত না হইয়াই ফলবান্ হয়, তাহাদিগকে বনস্পতি কহে; আর বাহাদিগের পুষ্প হইতে ফল জন্মে, তাহাদিগকে বৃক্ষ বলে। এইরূপে বৃক্ষ দুই প্রকার বলা যায়। ৪৭॥যাহার মুল হইতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক লতা উৎপন্ন হয়, তাহাকে গুচ্ছ বলে ; যেমন মল্লিকা প্রভৃতি। যাহার এক মূলে অনেক অঙ্কুর জন্মে, তাহাকে গুল্ম বলে; যেমন ইক্ষু, শর প্রভৃতি। উল প্রভৃতিকে তৃণ বলে। তন্তুযুক্ত লতা প্রভৃতিকে প্রতান বলে ; যথা—শশা, অলাবু প্রভৃতি; এবং যাহারা ভূমি হইতে বৃক্ষে আরােহণ করে, তাহাদিগকে বল্লী বলে; যেমন গুরুচ্যাদি। ইহাদিগের মধ্যে কেহবীজ হইতে উৎপন্ন হয়, কে বা কাণ্ড হইতে জন্মিয়া থাকে। ৪৮॥
তমসা বহুরূপেণ বেষ্টিতঃ কর্মহেতুনা ।
অন্তঃসংজ্ঞা ভবন্ত্যেতে সুখদুঃখসমম্বিতাঃ ৪৯।
এতদস্তান্তু গতয়াে ব্ৰহ্মাদ্যাঃ সমুদাহৃতঃ।
ঘােরেহস্মিন্ ভূতসংসারে নিত্যং সততযায়িনি। ৫০।
ইহারা বহুবিধ কর্ম্মফলে তমােগুণে আক্রান্ত হইয়া অবস্থান করে, বহির্ব্যাপার থাকে না, কেবলমাত্র অন্তরে চৈতন্যবিশিষ্ট থাকে। কোন কোন সময়ে ইহাদিগের সুখদুঃখের বিলক্ষণ অনুভব হয়। ৪৯
এই জন্মমরণসমাকুল অনিত্য অতিভয়ানক সংসারে ব্রহ্মাদি স্থাবর পর্যন্ত সমুদয় জীব যেরূপে উৎপন্ন হইয়াছে, তাহা আদ্যোপান্ত বর্ণিত হইল। ৫০॥
এবং সৰ্ব্বং স সৃষ্টেদং মাঞ্চাচিন্ত্যপরাক্রম।
আত্মত্যন্তদধে ভূয়ঃ কালং কালেন পীড়য়॥ ৫১।
যদা স দেবো জাগাওঁ তদেদং চেষ্টতে জগৎ।
যদা স্বপিতি শান্তাত্মা তদা সর্বং নিমীলতি। ৫২।
তস্মিন্ স্বপতি তু স্বস্থে কৰ্মাত্মনঃ শরীরিণঃ।
স্বকৰ্ম্মভ্যো নিবৰ্ত্তন্তে মনশ্চ গ্লানিমৃচ্ছতি ॥ ৫০।
হে মহর্ষিগণ ! অচিন্ত্যশক্তিসম্পন্ন প্রজাপতি এই প্রকারে স্থাবর জঙ্গম সমুদয় জগৎকে ও আমাকে সৃষ্টি করিয়া প্রলয়কাল দ্বারা সৃষ্টিকালের নাশ করত পরমাত্মাতেই অন্তর্হিত হইলেন। ৫১॥ যখন সেই পরমপুরুষ ব্ৰহ্মা জাগরিত হয়েন অর্থাৎ সৃষ্টি-স্থিতির ইচ্ছা করেন, তখন এই জগৎ নিশ্বাসপ্রশ্বাসাদি চেষ্টা করে; আর যখন তিনি সৃষ্টির উপসংহারের ইচ্ছা করিয়া নিদ্রিত হয়েন, তখনই এই জগৎ প্রলয় প্রাপ্ত হয়। ॥৫২॥প্রজাপতি যখন স্বীয় দেহ ও মনের ব্যাপার রহিত করিয়া সৃষ্টিস্থিতিবিষয়ে ইচ্ছা পরিত্যাগ করেন, তখন স্বস্ব কর্মানুরূপ দেহধারী জীবেরাও দেহধারণাদি কৰ্ম্ম হইতে নিবৃত্ত হয় এবং মনও বৃত্তিরহিত বইয়া যায়। ॥৫৩॥
যুগপত্ত, প্ৰলীয়ন্তে যদা তস্মিন্মহাত্মনি।
তদায়ং সৰ্ব্বভূতাত্মা সুখং স্বপিতি নির্বতঃ ॥ ৫৪॥
তমােহয় সমশ্ৰিত্য চিরন্তিতি সেন্দ্রিয়ঃ ।
নচ স্বং কুরুতে কর্ম তদোৎক্ৰামতি মুক্তিতঃ ॥৫৫॥
যখন সেই পরমপুরুষ পরমাত্মাতে সকল ভূত এককালে প্রলয় প্রাপ্ত হয়, তখন তিনি নিশ্চিতরূপে পরম সুখে শয়ান হয়েন ।॥ ৫৪॥জীৰ অজ্ঞানদশায় ইন্দ্রিয়ের সহিত বহুকাল অবস্থান করিয়া যখন নিশ্বাসপ্রশ্বাসাদি কোন কর্ম্ম করে
না, তখন পূর্বদেহ পরিত্যাগ করিয়া দেহান্তর প্রাপ্ত হয়।॥৫৫॥
যদাণুমাত্রিকো ভূত্বা বীজং স্থা, চরিষ্ণু চ।
সমাবিশতি সংসৃষ্টস্তদা মূর্তি বিমুঞ্চতি ॥ ৫৬॥
এবং স জাৎস্বপ্নাভ্যামিদং সর্বং চরাচরম্।
সংজীবয়তি চাজং প্রমাপয়তি চাব্যয়ঃ ॥ ৫৭॥
সুক্ষ্ম পঞ্চভূত, জ্ঞানেন্দ্রিয়, কৰ্ম্মেন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি, বাসনা, কৰ্ম্ম, বায়ু, অজ্ঞান ইহাদিগকে পুষ্টক অর্থাৎ লিঙ্গশরীর বলে। যখন জীব এই লিঙ্গশরীয়যুক্ত হইয়া স্থাবরবীজে প্রবেশ করে, তখন বৃক্ষাদি রূপ ধারণ করে; আর যখন জঙ্গমবীজে প্রবেশ করে, তখন মনুষ্যাদি শরীর প্রাপ্ত হয়। ॥৫৬॥এইরূপে সেই অব্যয় পুরুষ ব্রহ্মা আপন জাগরণ ও স্বপ্ন অবস্থা দ্বারা এই স্থাবরজঙ্গমাত্মক জগতের সৃষ্টি এবং সংহার করিতেছেন। ॥৫৭॥
ইদং শাস্ত্ৰন্ত কৃত্বাহসে মামেব স্বয়মাদিত।
বিধিবদ্ গ্রাহয়ামাস মরীচ্যাদীংহং মুনীম্ ॥ ৫৮॥
এতঘােহয়ং ভৃগু শাস্ত্ৰং শ্রাবয়িষ্যত্যশেষতঃ।
এতদ্ধি মতোহধিজগে সর্বমেষে'হখিলং মুনিঃ ॥ ৫৯॥
হিরণ্যগর্ভ ব্রহ্মা সৃষ্টির প্রথমে এই শাস্ত্র প্রস্তুত করিয়া বিধানক্রমে স্বয়ং আমাকেই অধ্যয়ন করাইয়াছেন, আমি মরীচি প্রভৃতি মুনিগণকে অধ্যয়ন করাইয়াছি। ৫৮ভৃগু এই শান্ত্র আদ্যোপান্ত তােমাদিগকে শ্রবণ করাইবেন, যেহেতু তিনি আমার নিকট হইতে এই শাস্ত্র সমস্ত সম্যকরূপে অধ্যয়ন করিয়াছেন। ৫৯
ততস্তথা স তেনােক্তো মহর্ষির্মমুনা ভৃগু।
তানব্ৰবীদৃষী সৰ্বান্ প্রতাত্মা তামিতি ॥ ৬০।
স্বায়ম্ভবস্যাস্য মনােঃ বড়, বংশ্যা মনববাহপরে।
সৃষ্টবন্তঃ প্রজাঃ স্বঃ স্বা মহাত্মানো মহৌজসঃ ॥ ৫১॥
স্বারােচিষশ্চেমিশ্চ তামসে। রৈবতস্তথা।
চাক্ষুষ মহাতেজা বিবস্বৎসুত এব চ। ৬২॥
স্বায়ম্ভুবাদ্যাঃ সপ্তৈতে মনব ভূরিতেজসঃ।
ষে স্বেহস্তরে সর্বমিদমুৎপাদ্যাপুশ্চরাচরম। ৬৩॥
অনন্তর মহর্ষি ভৃগু ভগবান্ মনু কর্তৃক এই প্রকার অভিহিত হইয়া শ্রবণ করুন’ বলিয়া তাহাদিগকে বলিতে লাগিলেন। ৬০ব্রহ্মার পৌত্র এই স্বায়ম্ভুব মনুর বংশে অপর মহাতেজী মহাত্মা ছয় জন মনু জন্মগ্রহণ করেন, তাহারা আপন আপন অধিকারকালে প্রজা সকল উৎপাদন করেন। ১
তাঁহাদিগের নাম স্বারােচিষ, ঔত্তমি, তামস, রৈবত, মহাতেজস্বী চাক্ষুষ ও বৈবস্বত। ৬২
অসীমক্ষমতাসম্পন্ন স্বায়ম্ভুবাদী সপ্তম স্ব স্ব অধিকারকালে এই স্থাবর-জঙ্গম বিশ্বসংসার সৃষ্টি করিয়া
প্রতিপালন করেন। ৬৩॥
নিমেষ। দশ চাষ্টে চ কাষ্ঠা ত্রিংশ তাঃ কলা।
ত্রিংশৎ কলা মুহুর্তঃ স্যাহােরাত্ৰন্তু ভাৰতঃ ॥ ৬৪।
অহােরাত্রে বিভজতে সূৰ্যো মানুষদৈবিকে।
রাত্রিঃ স্বপ্নায় ভূতানাং চেষ্টায়ৈ কর্মশামহ। ৬৫।
পিত্রে রাহনা মাসঃ প্রবিভাগস্তু পয়াের।
কৰ্ম্মচেষ্টাহঃ কৃষ্ণঃ শুরুঃ স্বপ্নায় শর্বরী। ৬৬ ।
এক্ষণে মন্বন্তরাদিকালের নিয়ম কহিতেছেন।—চক্ষুর পলকের নাম নিমেষ,অষ্টাদশ নিমেষে এক কাষ্ঠাহয়, ত্রিংশৎ কাষ্ঠা এক কলা হয়, ত্রিংশৎ কলায় এক মুহূর্ত হয়, ত্রিংশৎ মুহূর্তে এক দিবারাত্রি হয়। ৬৪
দিবাকরের যারা মনুষ্যদিগের ও দেবতাদিগের দিবারাত্রি বিভক্ত হয়। জীবগণের নিদ্রায় জন্য রাত্রি ও কর্ম্ম করিবার জন্য দিন নিরূপিত হইল। মানুষ্যদিগের এক মাসে পিতৃলােকের এক দিবারাত্রি হয়, তন্মধ্যে কৰ্ম্ম করিবার জন্য কৃষ্ণপক্ষকে দিন ও নিদ্রিত থাকিবার জন্য শুক্লপক্ষকে রাত্রি বলে।
দৈবে রাহনী বর্ষং প্রবিভাগস্তয়ােঃ পুনঃ।
অহস্তস্রোদণয়নং রাত্রিঃ স্যাদ্দক্ষিণায়ন ॥ ৬৭।
ব্রাহ্মস্য তু ক্ষপাহস্য যৎ প্রমাণং সমাসতঃ।
একৈকশাে যুগানা ক্রমশস্তম্নিবােধত।৬৮।
চত্বাৰ্যাহুঃ সহস্রাণি বর্ষাণান্তু কৃতং যুগ।
তস্য তাবচ্ছতী সন্ধ্যা সন্ধ্যাংশশ্চ তথাবিধঃ ॥ ৬৯।
মনুষ্যদিগের এক বৎসরে দেবতাদিগের এক দিবারাত্রি হয়, উহা এইরূপে বিভক্ত হইয়াছে, উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ন। উত্তরায়ণ তাহাদিগের দিন ও দক্ষিণায়ন রাত্রি হয়। হে মহর্ষিগণ ! ব্রহ্মার দিবারাত্রির ও সত্যত্রেতাদি এক এক যুগের যে পিরমাণ, তাহা আমি ক্রমে ক্রমে সংক্ষেপে আপনাদিগকে বলিতেছি, অবধান করুন। ৬৮দৈবপরিমাণে চারি সহস্র বৎসরে সত্যযুগ হয়, সেই যুগের পূর্ব চারি শত বৎসর সন্ধ্যা ও ঐ যুগের উত্তর চারি শত বৎসর সন্ধ্যাংশ হয়।৬৯॥
ইরেষু সসন্ধ্যেযু সসন্ধ্যাংশেযু চ ত্ৰিযু।
একপায়েন বৰ্ত্তন্তে সহস্রাণি শতানি চ ৭।
যদেতৎ পরিসাতমাদাবেব চতুযুগ।
এতদ্দদশসহস্রং দেবানাং যুগমুচ্যতে । ৭১।
ত্রেতা-দ্বাপরাদিতে যুগের পরিমাণ ক্রমে এক সহস্র বৎসর করিয়া ও সন্ধ্যাংশের পরিমাণ এক শত বৎসর করিয়া ন্যূন হইয়া যায় অর্থাৎ তিন সহস্র বৎসরে ত্রেতাযুগ, তিন শত বৎসর হার সন্ধ্যা ও তিন শত বৎসর সন্ধ্যাংশ। দুই সহস্র বৎসরে দ্বাপরযুগ, দুই শত বৎসর তাহার সন্ধ্যা ও দুই শত বৎসর সন্ধ্যাংশ হয়। সহস্র বৎসরে কলিযুগ, এক শত বৎসর তাহার সন্ধ্যা ও এক শত বৎসর সন্ধাংশ হয়।ইতপূর্বে মনুষ্যদিগের যে চাৰিযুগের সংখ্যা নিরূপিত হইল, ইহার দ্বাদশ সহস্র সংখ্যা পরিমাণে
দেবগণের এক যুগ বলা যায়।
দৈবিকানাং যুগান্তু সহস্রং পরিসঙ্খ্যয়া।
ব্রাহ্মমেকমহজ্ঞেয়ং তাবতী রাত্রিরেব চ॥৭২॥
তদ্বৈ যুগসহস্রান্তং ব্রাহ্মং পুণ্যমহর্বিদুঃ।
রাত্ৰিঞ্চ তাবতীমেব তেহহােরাত্ৰবিদো জনাঃ ॥ ৭৩॥
তস্য সােহহর্নিশস্যান্তে প্রমুপ্তঃ প্রতিবুধ্যতে।
প্রতিবুজশ্চ সৃজতি মনঃ সদসদাত্মক॥৭৪॥
দৈবপরিমাণের সহস্র যুগসংখ্যাতে ব্রহ্মার এক দিন হয় এবং ঐ পরিমাণে তাঁহার এক রাত্রি হয়। ৭২॥দৈবপরিমাণে সহস্র যুগ পরিসমাপ্তিতে ব্রহ্মার এক দিন হয় ও ঐ পরিমাণে তাহার এক রাত্রি হয়। এই পবিত্র দিবারাত্রির পরিমাণ যাহারা অবগত আছেন, তাঁহাদিগকে অহােরাত্ৰবেত্তা বলা যায়। ৭৩
পরমাত্মা পূর্বোক্ত স্বীয় অহােরাত্রের অবসানে প্রতিবুদ্ধ হয়েন এবং প্রতিবুদ্ধ হইয়াই ভূলােকানি সৃষ্টি করিবার জন্য মনকে নিয়োগ করেন। ব্রহ্মার এই প্রকার নিয়ােগের নাম মনঃসৃষ্ট। ৭৪॥
মনঃ সৃষ্টিং বিকুরুতে চোদ্য মানং সিক্ষয়া ।
আকাশং জায়তে তস্মাতস্য শব্দগুণং বিদুঃ ॥.৭৫।
আকাশান্ত বিকুৰ্ব্বাণাৎ সৰ্বগন্ধবহঃ শুচিঃ।
বলবান্ জায়তে বায়ুঃ স বৈ স্পর্শগুণে। মতঃ । ৬।
বায়েরপি বিকুৰ্ব্বাণাদ্বিরোচিষ্ণু তমােনুদম।
জ্যোতিরুৎপদ্যতে ভাস্বদ্রুপগুণমুচ্যতে ॥ ৭৭।
জ্যোতিষ বিকুৰ্ব্বাণাদাপো রসগুণাঃ মৃতঃ।
অন্ত্যো গন্ধগুণা ভূমিরিত্যেষ। সৃষ্টিরাদিত। ৭৮।
পরমাত্মা সৃষ্টি করিবার ইচ্ছা করিলে পর সেই ইচ্ছায় প্রেরিত মহত্তত্ব হইতে আকাশ উৎপন্ন হয়। মনু আদি আকাশের গুণ শব্দ বলিয়াছেন। বিকৃতভাবাপন্ন আকাশ হইতে সুগন্ধ ও দুর্গন্ধবহ প্রবল পবিত্র বায়ু সমুদিত হয়। মনু আদি উহার স্পর্শগুণ বলিয়াছেন। বিকৃতভাবাপন্ন বায়ু হইতে তমােনাশক, সকল বস্তুর প্রকাশক, দীপ্তিমান্ তেজ উৎপন্ন হয় তেজের গুণ রূপ। তেজ বিকৃতভাবাপন্ন হইলে বিকারজনক তেজ হইতে জল জমে, জলের গুণ রস। জল হইতে গন্ধগুণসম্পন্না পৃথিবী উৎপন্ন হয়, মহাপ্রলযাবসানে সৃষ্টির প্রথমে পঞ্চভূতের উৎপত্তি এইরূপ। ৭৮যৎ প্রাগ, দ্বাদশসাহমুদিতং দৈবিকং যুগ।
তদেকসপ্ততিগুণং মন্বন্তরমিহােচ্যতে। ৭৯।
মন্বন্তরাণ্যসঙ্খ্যানি সর্গঃ সংহার এব চ।
ক্রীড়মিবৈতৎ কুরুতে পরমেষ্ঠী পুনঃ পুনঃ ।।
চতুষ্পাৎ সকলাে ধৰ্মঃ সত্যঞ্চৈব কৃতে যুগে।
নাধৰ্ম্মেণাগমঃ কশ্চিন্মষ্যা প্রতিবৰ্ততে ॥৮১।
পূৰ্বে দ্বাদশ সহস্র সংখ্যায় পরিগণিত দৈবপরিমাণে যে যুগনির্ণয় করা হইয়াছে, তাহাকে একসপ্ততিগুণ করিলে যে ফল হয়, অর্থাৎ (৮,৫২,০০০) আট লক্ষ বাহান্ন সহস্র দৈববৎসর, তাহাকে এক মম্বন্তর বলা যায়। পরমেষ্ঠী পিতামহ ব্রহ্মা যেন ক্রীড়া করিতে করিতে বার বার অসংখ্য মন্বন্তর এবং অনন্ত ও সংহার করিতেছেন। সত্যযুগে সকল ধৰ্ম্মই সৰ্বাঙ্গসম্পূর্ণ ছিল, মনুষ্যমাজেরই মিথ্যা কথা ছিল না, অধর্ম্ম দ্বারা ধনাগম ও বিদ্যাদির উপার্জন ছিল না। ৮১॥ইতরেম্বাগমান্ধর্মঃ পাদশবরোপিতঃ।
চৌরিকানৃতমায়াভিশ্চাপৈতি পাদশঃ ॥২॥
অনােগাঃ সৰ্বসিদ্ধার্থাতুর্বর্ধশতায়ুষঃ।
কৃতে ত্রেতাদিযু হোমায়ুসতি পাদশঃ ৮৩।
ত্রেতাদিযুগে অধর্ম দ্বারা ধন ও বিদ্যাদির অাগম জন্য ধৰ্ম্মের এক এক পদ হীন হইতে লাগিল, অর্থাৎ ত্রেতায় ত্রিপাদ ধর্ম, দ্বাপরে দ্বিপাদ ও কলিতে একপাদ ধৰ্ম্মমাত্র রহিল। ৮২সত্যযুগে সকলে রােগশুন্য ছিল, যে যাহা কামনা করিত, তৎক্ষণাৎ সমুদয় সম্পন্ন হইত। সকলের চারি শত বৎসর পরমায়ু ছিল, কিন্তু ত্রেতাদি যুগত্রয়ে সকলের এক শত বৎসর করিয়া পরমায়ুর হ্রাস হইতে লাগিল, অর্থাৎ ত্রেতায় তিন শত বৎসর, পরে দুই শত বৎসর, কলিতে শত বৎসর পরমায়ু হইল। উক্ত পরমায়ু স্বাভাবিক; ৮৩॥
বেদোক্তমায়ুমানামাশিষশ্চৈব কৰ্ম্মণা।
ফলস্ত্যনুযুগং লােকে প্রভাবশ্য শরীরিণাম। ৮৪।
অন্যে কৃতযুগে ধৰ্ম্মাতােয়াং দ্বাপরে পরে।
অন্যে কলিযুগে ন ণাং যুগহ্রাসানুরূপতঃ ॥৫॥
লােকে যুগানুসারেই মনুষ্যদিগের পরমায়ু, কাম কৰ্ম্মের ফলপ্রার্থনা এবং ব্রাহ্মণাদির শাপ অনুগ্রহ প্রভৃতি প্রভাব ফলিত হইয়া থাকে। ৮৪সত্যযুগে একপ্রকার ধর্ম, ত্রেতায় আর একপ্রকার, দ্বাপরে অন্যপ্রকার এবং কলিযুগেও অন্য একপ্রকার ধর্ম হয়। ফলতঃ যুগের অপচয় অনুসারে ধৰ্ম্মেরও বৈলক্ষণ্য হই থাকে। ৮৫॥
তপঃ পরং কৃতযুগে তােয়াং জ্ঞানমুচ্যতে।
দ্বাপরে যজ্ঞমেবাহু নিমেকং কলো যুগে৮৬।
সর্বস্যাস্য তু সর্গস্য গুপ্ত্যর্থং স মহাদ্যুতিঃ।
মুখবাহরুপজ্জানাং পৃথক্ কৰ্ম্মাণ্যকল্পয়ৎ ॥ ৮৭।
অধ্যাপনমধ্যয়নং যজনং যাজনং তথা।
দানং প্রতিহঞ্চৈব ব্রাহ্মণনামকল্পয়ৎ ॥ ৮৮।
প্রজানাং রক্ষণং দানজ্যিাধ্যয়নমেব চ।
বিষয়েম্বপ্রসক্তিঞ্চ ক্ষত্রিয়স্য সমাসতঃ ॥৮॥
সত্যযুগে তপস্যাই প্রধান ধর্ম ছিল, ত্রেতায় জ্ঞানই প্রধান, দ্বাপরে যজ্ঞই প্রধান, কলিতে কেবলমাত্র দানই প্রধান হয়। মহাতেজস্বী সেই স্বয়ম্ভূ সমস্ত সৃষ্টির পরিপালন জন্য মুখজাত ব্ৰক্ষণ, বাহজাত ক্ষত্রিয়, উরুজাত বৈশ্য ও পাদজাত শূদ্রদিগের পৃথক পৃথক কর্ম সকল কল্পনা করিয়া দিলেন। ৮।তিনি ব্রাহ্মণদিগের অধ্যয়ন, অধ্যাপন, যজন, যাজন, দান ও প্রতিগ্রহ এই ছয় কর্ম কল্পনা করিলেন।
ক্ষত্রিয়দিগের প্রজাপ্রতিপালন, দান, অধ্যয়ন, যজ্ঞ ও স্রকচন্দন-বনিতাদির অনবরত অসেবন সংক্ষেপে কল্পনা করিলেন।
পশুনাং রক্ষণং দানমিজ্যাধ্যয়নমেব চ।
বণিকপথং কুসীদঞ্চ বৈশস্য কৃষিমেব চ। ৯০।
একমেব তু শূদ্রস্য প্রভুঃ কৰ্ম্ম সমাদিশৎ।
এতেষামেব বর্ণানাং শুশ্রুষামনসূয়য়া ॥ ৯১।
উৰ্দ্ধং নাভের্মেধতরঃ পুরুষঃ পরিকীৰ্তিতঃ।
তম্মন্মেধ্যতমং ত্বস্য মুখমুক্তং স্বয়ম্ভুবা ॥২॥
উত্তমাঙ্গোবাজ্জ্যষ্ঠাহ্মণশ্চৈব ধারণা।
সর্বস্যৈবাস্য সর্গস্য ধর্মততা ব্রাহ্মণঃ প্রভুঃ ॥ ৯৩॥
বৈশ্যদিগের পশুপালন, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, জলপথে ও স্থলপথে বাণিজ্য, কৃষিকৰ্ম্ম এবং বৃদ্ধির জন্য ধনপ্রয়ােগ কল্পনা করিলেন। ভগবান্ প্রভু ব্ৰহ্মা শূদ্রদিগের পক্ষে এই কর্মের ভার সমৰ্পণ করিলেন যে, তাহারা অসূয়-বিহীন হইয়া প্রাধান্যরূপে এই বর্ণত্রয়ের সেবা-শুশ্রুষা করিবে। পুরুষমাত্রেই সৰ্ব্বতােভাবে পবিত্র, উহার নাভির উৰ্দ্ধভাগ পবিত্ৰতর, তাহা অপেক্ষা মুখ পবিত্রত হয়। ব্রহ্মা স্বয়ং ইহা কহিয়াছেন। ৯২॥ব্রাহ্মণ একে ব্ৰহ্মার উত্তমা হইতে সমুৎপন্ন, তাহাতে আবার ক্ষত্রিয়াদি বর্ণত্রয় হইতে জ্যেষ্ঠ এবং বেদশাস্ত্রের ব্যাখ্যা, অধ্যয়ন-অধ্যাপনাদি বিষয়ে সর্বতােভাবে অধিকারী বলিয়া এই জগৎসমুদায়ের মধ্যে ধর্মানুসারে ব্রাহ্মণই প্রভু হয়েন।
তং হি স্বয়ম্ভুঃ স্বাদাস্যাপন্তপ্ত দিতােহসৃজৎ।
হব্যকব্যাভিবাহায় সর্বস্যাস্য চ গুপ্তয়ে ॥৯৪।
যস্যাস্যেন সদাশ্নন্তি হব্যানি ত্রিদিবোকসঃ।
কব্যানি চৈব পিতরঃ কিম্ভুতমধিকং ততঃ ॥ ৯৫।
ভূতানাং প্রাণিনঃ শ্রেষ্ঠাঃ প্রাণিনা বুদ্ধিজীবিনঃ।
বুদ্ধিমৎসু নরঃ শ্রেষ্ঠা নরেষু ব্রাহ্মণাঃ স্মৃতাঃ ॥ ৯৬।
স্বয়ম্ভু ব্ৰহ্মা তপস্যা করিয়া দেবলােক ও পিতৃলােকের হব্যকব্য বহনের জন্য ও জগৎসংসারের রক্ষার নিমিত্ত স্বকীয় বদন হইতে প্রথমতঃ ব্রাহ্মণের উৎপাদন করিলেন। দেবতারা যে ব্রাহ্মণের মুখে হবনীয় দ্রব্যাদি ভােজন করেন, পিতৃলােকেরা যাহাদিগের মুখে শ্রদ্ধা-দিতে প্রদত্ত অন্নাদি ভােজন করেন, ঈদৃশ ব্রাহ্মণ হইতে আর কে শ্রেষ্ঠ হইতে পারে ? স্থাবর-জলদির মধ্যে সামান্য কীটাদি প্রাণী শ্রেষ্ঠ, যেহেতু, তাহাদিগের সুখ-দুঃখ-বােধ আছে। তাদৃশ প্রাণীদিগের মধ্যে বুদ্ধিজীবী পশ্বাদি শ্রেষ্ঠ, কেন না, তাহার প্রয়ােজনীয় স্থানে যায়, অপ্রয়োজনীয় স্থানে যায় না। বুদ্ধিজীবী জীবের মধ্যে প্রকৃষ্ট জ্ঞানসম্পন্ন মনুষ্যই শ্রেষ্ঠ হয় ও মনুষ্য দিগের মধ্যে মােক্ষে অধিকারী ব্রাহ্মণেরাই শ্ৰেষ্ঠ হয়েন। ৯৬॥ব্রাহ্মণেষু তু বিদ্বাংসদ বিদ্ধৎসু কৃতবুদ্ধয়।
কৃতবুদ্ধিযু কারা কর্তৃযু ব্ৰহ্মবেদিনঃ ॥ ৯৭॥
উৎপত্তিরেব বি প্ৰস্য মূর্তিধৰ্ম্মস্য শাশ্বতী।
স হি ধৰ্মার্থমুৎপন্নে ব্ৰহ্মভূয়ায় কল্পতে। ৯৮॥
ব্রাহ্মণণা জায়মাননা হি পৃথিব্যাধি জায়তে।
ঈশ্বরঃ সৰ্ব্বভূতানাং ধৰ্ম্মকোষস্য গুগুয়ে। ৯৯॥
সৰ্ব্বং স্বং ব্রাহ্মণস্যেদং যৎ কিঞ্চিজ্জগতীগতম।
শ্রৈষ্ঠ্যেনাভিজনেনেদং সৰ্ব্বং বৈ ব্রাহ্মণণহহতি। ১০॥
ব্রাহ্মণের মধ্যে জ্যোতিষ্টোমাদি যাগাধিকারী বিদ্বানের শ্রেষ্ঠ বিদ্বানের মধ্যে শাস্ত্রীয় কৰ্ম্মানুষ্ঠানে যাহাদিগের কর্তব্যতা-বুদ্ধি আছে, তাহারাই শ্রেষ্ঠ ; তাহাদিগের মধ্যে যাঁহারা কর্তব্য কৰ্ম্ম করিতেছেন,তাঁহারাই শ্রেষ্ঠ ; আবার শান্ত্রোক্তকৰ্ম্মকারীদিগের মধ্যে জীবন্মুক্ত ব্ৰহ্মজ্ঞানী লােকেরাই শ্রেষ্ট হয়েন। ৯৭
ব্রাহ্মণের দেহ ধৰ্ম্মের সাক্ষাৎ সনাতন মূৰ্ত্তি, ধর্মের জন্য উৎপন্ন ব্রাহ্মণ মােক্ষলাভের উপযুক্ত পাত্র হবেন। ৯৮
ব্রাহ্মণ জন্মগ্রহণ করিবামাত্রই পৃথিবীস্থ সমস্ত লােকের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হয়েন, যেহেতু, সকলের ধর্ম সমুহের রক্ষার জন্যই ৰাহ্মণের উৎপত্তি হইয়াছে॥ ৯৯॥
জগতে যাহা কিছু সম্পত্তি আছে, সমুদয়ই ব্রাহ্মণের নিধনের তুল্য; অতএব ব্রাহ্মণ সকল বর্ণের শ্রেষ্ঠ বলিযা সমুদয় সম্পত্তিপ্রাপ্তির যােগ্য হয়েন। ১০০॥
স্বমেব ব্রাহ্মণো ভুঙক্তে স্বং বস্তে স্বং দদাতি চ।
আনৃশংস্যাব্রাহ্মণস্য ভুঞ্জতে হীরে জনাঃ ॥ ১০১॥
তস্য কর্মবিবেকাৰ্থং শেষাণামনুপূৰ্ব্বশঃ।
স্বায়ম্ভুব মনুধীমানিদং শাস্ত্রমকল্পয়ৎ ॥ ১০২॥
বিদুষা ব্ৰাহ্মণেননদমধ্যেতব্যং প্রত্নতঃ।
শিষ্যেভ্যশ্চ প্রবক্তব্যং সম্যঙ, নানে কেনচিৎ ॥ ১০৩॥
ব্রাহ্মণেরা যে পরের অন্ন ভােজন করেন, পরকীয় বসন পরিধান করেন, পরের ধন গ্রহণ করিয়াঅন্যকে প্রদান করেন, সে সমুদয় আপনারই, যেহেতু, ব্রাহ্মণের দয়াতেই ইতর যাবতীয় লােক ভােজন পরিধানাদি করিতেছে ॥১০১॥ব্রাহ্মণদিগের কর্মবিবেচনার জন্য ও আনুষঙ্গিক ক্ষত্রিয়াদিরও কৰ্ম্মবিবেচনার জন্য স্বায়ম্ভুব মনু এই শাস্ত্র রচনা করিয়াছেন॥১০২॥
এই শাস্ত্র অধ্যয়নের ফলজ ব্রাক্ষণগণ প্রযত্নসহকারে এই মানবশাস্ত্র অধ্যয়ন করিবেন এবং শিষ্যগণকে
সম্যকরূপে অধ্যয়ন করাইবেন।ক্ষত্রিয়-বৈশ্যাদি অন্য কেহ ইহা অধ্যয়ন করাইতে পারিবেন না। ১০৩॥
ইদং শামধীয়ানাে ব্রাহ্মণঃ শংসিততঃ।
মনােবাগদেহজৈনিত্যং কৰ্ম্মদোযৈন লিপ্যতে ॥১০৪।
পুনাতি পঙক্তিং বংশ্যাংশ্চ সপ্ত সপ্ত পরাবরা।
পৃথিবীমপি চৈবেমাং কৃৎস্নামেকোহপি সােহতি ॥ ১০৫।
ইদং স্বস্ত্যয়নং শ্রেষ্ঠমিদং বুদ্ধি-বিবর্ধন।
ইদং যশস্যমায়ুষ্যমিদং নিঃশ্রেয়সং পরম্ ॥১০৬।
যে ব্রাহ্মণ নিয়মপুৰ্ব্বক এই মনুসংহিতা অধ্যয়ন করেন, তিনি প্রতিদিন মানসিক, বাচনিক বা কায়িক কোন পাপে লিপ্ত হয়েন না। ১০৪যিনি এই মনুসংহিতা অধ্যয়ন করেন, তিনি পঙক্তি পবিত্র করেন, এবং পিত্রাদি সপ্ত পূর্বপুরুষ ওপুত্ৰাদি অধস্তন সপ্ত পুরুষ পবিত্র করেন । তিনি এরূপ পবিত্র হয়েন যে, একাকীই এই সমস্ত পৃথিবীর দানের পাত্র হয়েন॥১৫॥
এই মনু শাস্ত্রের অধ্যমন মহাস্বস্ত্যয়নস্বরূপ, ইহার অভ্যাসে বুদ্ধির বৃদ্ধি হয় এবং উত্তম খ্যাতি লাভ হয় ও পরমায়ু বৃদ্ধি হয় এবং মােক্ষলাভ হয়। ১০৬
অস্মিন্ ধৰ্ম্মোহখিলেনােক্তা গুণদোষৌ চ কৰ্ম্মণা।
চতুর্ণামপি বর্ণানামাচারশ্চৈব শাশ্বতঃ॥১০৭॥
আচারঃ পরমাে ধর্মঃ শ্রুত্যুক্ত স্মার্ট এব চ।
তস্মাদস্মিন্ সদা যুক্তো নিত্যং স্যাদাত্মবান্ দ্বিজঃ ॥১০৮॥
আচারাদ্বিচ্যুত বিলাে ন বেফলমন্দুতে।
আচারেণ তু সংযুক্তঃ সম্পূৰ্ণফলভাগ ভবেৎ। ১০৯॥
এই গ্রন্থে সমুদম ধৰ্ম্ম অভিহিত হইয়াছে, বিহিত ও নিষিদ্ধ কৰ্ম্মের গুণ ও দোষ বর্ণিত হইয়াছে, এবং ও চতুৰ্বর্ণের পরম্পরাগত আচার-ব্যবহারও কথিত হইয়াছে। ১০৭পরম্পরাগত আচার যে উৎকৃষ্ট ধৰ্ম্ম, ইহা শ্রুতি, স্মৃতি উভয়েই প্রতিপন্ন আছে, অতএব আত্মহিতাভিলাষী ব্রাহ্মণ শ্রুতি স্মৃতি বিহিত আচারের অনুষ্ঠানে সতত যত্নবান্ থাকিবেন। ১০৮
আচারহীন ব্রাহ্মণ বেদের সম্পূর্ণ ফলভাগী হয়েন না, কিন্তু যদি তিনি সদাচারসম্পন্ন হয়েম, তাহা হইলে বেদের সম্পূর্ণ ফলভাগী হয়েন। ১০৯॥
এবমাচারতাে দৃষ্ট। ধৰ্ম্মস্য মুনয়াে গতিম্।
সৰ্বস্য তপসস মূলমাচারং জগৃহুঃ পরম্ ॥১১০॥
জগতশ্চ সমুৎপত্তিং সংস্কারবিধিমেব চ।
ব্রতচৰ্যোপচারঞ্চ নস্য চ পরং বিধিম্ ॥১১১॥
মুনিগণ আচার দ্বারা ধর্মের গতি অবগত হইয়া আচারকেই সকল তপস্যার প্রধান কারণ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছেন॥১১০॥এক্ষণে গ্রন্থের অনুক্রমণিকা কহিতেছেন। প্রথমাধ্যায়ে জগতের উৎপত্তিম, দ্বিতীয়াধ্যায়ে জাতকাদি সংস্কারের অনুষ্ঠান, ব্রহ্মচারীর আচরণ, প্রভৃতির অভিবাদনাদি, তৃতীয়াধ্যায়ে গুরুকুল হইতে প্রতিনিবৃত্ত ব্রাহ্মণের উৎকৃষ্ট মানবিধি মনু কর্তৃক বর্ণিত হইয়াছে॥১১১॥
দারাধিগমনঞ্চৈব বিবাহানাঞ্চ লক্ষণ।
মহাযজ্ঞবিধানঞ্চ শ্রাদ্ধকল্পঞ্চ শাশ্বত। ১১২॥
বৃত্তীনাং লক্ষণঞ্চৈব স্নাতক ব্ৰতানি চ।
ভক্ষাভক্ষ্য শৌচঞ্চ দ্রব্যাণাং শুদ্ধিমেব চ। ১১৩॥
স্ত্রীধৰ্ম্মযােগং তাপস্যং মােক্ষং সন্ন্যাসমেব চ।
রাজ্ঞশ্চ ধর্মমখিলং কাৰ্যাণাঞ্চ বিনির্ণয়ম্ ॥১১৪॥
ঐ তৃতীয়াধ্যায়ে চাতুব্বর্ণের বিবাহ ও ব্রাহ্মাদি বিবাহের লক্ষণ, বৈশ্বদেবাদি পঞ্চ মহাযজ্ঞ ও নিত্যকর্তব্য শ্রাদ্ধাদি বর্ণিত হইয়াছে॥১১২॥চতুর্থাধ্যায়ে শিলােছাদিজীবনােপাষের লক্ষণ, গৃহস্থের নিয়ম। পঞ্চমাধ্যায়ে ভক্ষাভক্ষ্য বিবেচনা, জন্মমরণাদিতে শৌচ এবং জলাদি দ্বারা দ্রব্যাদির শুদ্ধি ইহাতে উক্ত হইয়াছে। ১১৩॥
ঐ পঞ্চমাধ্যায়ে স্ত্রীলােকদিগের ধৰ্ম্মোপায়, ষষ্ঠ অধ্যায়ে বানপ্রস্থ ধর্ম, যতিধৰ্ম, সন্ন্যাস-ধর্ম, সপ্তমাধ্যায়ে নৃপতিদিগের ধর্ম, অষ্টমাধ্যায়ে . ঋণদানাদি তত্বনির্ণয় কথিত হইয়াছে। ১১৪॥
সাক্ষিপ্রশ্নবিধানঞ্চ ধর্মং স্ত্রীপুংসয়ােরপি।
বিভাগধৰ্ম্মং দূত কণ্টকাঞ্চ শােধন। ১১৫॥
বৈশ্যশূদ্রোপচারঞ্চ সঙ্কীর্ণনাঞ্চ সম্ভব।
আপদ্ধৰ্ম্মঞ্চ বর্ণানাং প্রায়শ্চিত্তবিধিং তথা ॥ ১১৬॥
সংসারগমনঞ্চৈব ত্রিবিধং কর্মসম্ভব।
নিঃশ্রেয়সং কৰ্ম্মণাঞ্চ গুণদোষপরীক্ষণম্। ১১৭॥
ঐ অষ্টমাধ্যায়ে সাক্ষীদিগকে প্রশ্নজিজ্ঞাসা করিবার নিয়ম, নবমাধ্যায়ে স্ত্রীপুরুষের ধর্ম, দারবিভাগ, দ্যুতবিধান, তস্করাদি নিবারণ করিবার প্রথা লিখিত হইয়াছে।১১৫॥ঐ নৰমাধ্যায়ে বৈশ্যশূদ্রের কর্তব্যকর্মের অনুষ্ঠান, দশমাধ্যায়ে অলুলোম-প্রতিলােমজাত সঙ্কীর্ণ জাতির উৎপত্তির বিবরণ, চারি বর্ণের আপৎকালে জীবিকার উপদেশ, একাদশাধ্যায়ে প্রায়শ্চিত্তবিধি বর্ণিত হইয়াছে। ১১৬
দ্বাদশাধ্যায়ে শুভাশুভ কৰ্ম্মজন্য উত্তম, মধ্যম, অধম এই ত্রিবিধ শরীরধারণ, আত্মজ্ঞান, বিহিত ও নিষিদ্ধ করে গুণ ও দোষ নির্ণীত হইয়াছে। ১৯৭
দেশৰ্ম্মা জাতিধৰ্ম্মা কুলধৰ্মাংশ্চ শাশ্বতাম্।
পাষগুগণধর্মাংশ্চ শাস্ত্রেহস্মিমুক্তবান্মনুঃ ॥ ১১৮॥
যথেদমুক্তবান্থ শাস্ত্ৰং পুরা পৃষ্টো, মনুস্ময়া।
তথেদং য য়মপ্যষ্ঠ মৎসকাশান্নিবােধত ॥ ১১৯॥
ভগবান্ মনু চিরপ্রচলিত স্বদেশে অনুষ্ঠিত ধর্ম, ব্রাহ্মণাদিজাতির ধর্ম, বংশপরম্পরাগত কুলধর্ম্ম এবং বেদোক্ত শুভানুষ্ঠানহীন পাষগুগণের ধর্ম এই সংহিতায় বর্ণন করিয়াছেন। ১১৮হে মহর্ষিগণ! পূর্বকালে আমি মহাত্মা মনুকে জিজ্ঞাসা করিলে পর তিনি এই শাস্ত্র আমায় যেরূপ বলিয়াছিলেন, আপনারা আমার মুখে অবিকল সেইরূপ শ্রবণ করুন। ১১৯॥
ইতি মানবীয় ধৰ্ম্মসংহিতায় প্রথমাধ্যায়ের অনুবাদ সমাপ্ত।
0 comments:
Post a Comment