
অৰ্জ্জুন উবাচ
সন্ন্যাসস্য মহাবাহাে তত্ত্বমিচ্ছামি বেদিতুম।
ত্যাগ চ হৃষীকেশ পৃথক্ কেশিনিসূদন ॥১॥
অনুবাদ—অর্জুন কহিলেন,“হে মহাবাহ ! হে হৃষীকেশ ! হে , কেশি-নিসূদন ! আমি সন্ন্যাস এবং ত্যাগের তত্ত্ব পৃথকৃরূপে জানিতে ইচ্ছা করি ॥১॥
শ্রীভগবান্ উবাচ
কাম্যানাং কৰ্ম্মণাং স্যাসং সন্ন্যাসং কবয়াে বিদুঃ।
সর্বকৰ্ম্মফলত্যাগং প্রাত্যাগং বিচক্ষণাঃ ॥২॥
অনুবাদ—শ্রীভগবান্ কহিলেন,—নিপুণ পণ্ডিতগণ কাম্যকৰ্ম্মসমূহের স্বরূপতঃ ত্যাগকে ‘সন্ন্যাস এবং সৰ্ব্বকর্মের ফলত্যাগকে ত্যাগ’ বলিয়া থাকেন। ২।
ত্যাজ্যং দোষবদিত্যেকে কৰ্ম প্ৰাহুৰ্ম্মনীষিণঃ।
যজ্ঞানতপঃকৰ্ম্ম ন ত্যাজ্যমিতি চাপরে॥ ৩॥
অনুবাদ—সাংখ্যবাদী কোন কোন পণ্ডিত ‘কৰ্ম্মমাত্রই দোষযুক্ত’—এই কারণে কর্মকে ত্যাজ্য বলেন। অপর মীমাংসকগণ যজ্ঞ, দান ও তপস্যা প্রভৃতি কর্মকে অত্যাজ্য বলিয়া সিদ্ধান্ত করেন। ৩ |
নিশ্চয়ং শৃণু মে তত্র ত্যাগে ভরতসত্তম।
ত্যাগগা হি পুরুষব্যাঘ্র ত্রিবিধ সংকীৰ্ত্তিতঃ ॥৪॥
অনুবাদ—হে ভরতশ্রেষ্ঠ ! হে পুরুষব্যা! ত্যাগ-সম্বন্ধে আমার নিশ্চয় সিদ্ধান্ত শ্রবণ কর। শাস্ত্রে ত্রিবিধ ত্যাগ উক্ত হইয়াছে। ৪ |
যজ্ঞদানতপঃ কৰ্ম্ম ন ত্যাজ্যং কাৰ্য্যমে তৎ।
যজ্ঞাে দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণা ॥ ৫॥
অনুবাদ—যজ্ঞ, দান ও তপস্যারূপ কৰ্ম্ম স্বরূপতঃ ত্যাজ্য নহে, তাহা করা কৰ্তব্যই। যজ্ঞ, দান ও তপস্যা মনীষিগণের চিত্তশুদ্ধিকরই ॥ ৫ |
এপি তু কৰ্ম্মাণি সঙ্গং ত্যক্ত। ফলানি চ।
কর্তব্যানীতি মে পার্থ নিশ্চিতং মতমুত্তমম্ ॥ ৬॥
অনুবাদ—হে পার্থ ! এই সকল কর্মও কর্তৃত্বাভিনিবেশ ও ফলকামনা ত্যাগপূৰ্ব্বক করাই কর্তব্য। ইহা আমার নিশ্চিত, উত্তম সিদ্ধান্ত ॥ ৬ |
নিয়তস্য তু সন্ন্যাসঃ কৰ্মণ নােপপদ্যতে।
মােহাত্তস্য পরিত্যাগস্তামসঃ পরিকীৰ্ত্তিতঃ ॥৭॥
অনুবাদ—কিন্তু নিত্যকর্মের ত্যাগ যুক্তিযুক্ত নহে। মােহবশতঃ তাহার ত্যাগ হইলে উহা তামস ত্যাগ বলিয়া কথিত হয়। ৭।
দুঃখমিত্যেব যৎকৰ্ম্ম কায়ক্লেশভয়াত্ত্যজেৎ।
স কৃত্বা রাজসং ত্যাগং নৈব ত্যাগফলং লভে ॥ ৮॥
অনুবাদ—যিনি কর্মকে কেবল দুঃখজনকই—ইহা মনে করিয়া, শারীরিক কষ্টের ভয়ে নিত্যকর্ম ত্যাগ করেন, তিনি সেই ‘রাজস’ ত্যাগ করিয়া, ত্যাগের ফল জ্ঞান প্রাপ্ত হন না ॥ ৮॥
কাৰ্যমিত্যে যৎকৰ্ম্ম নিয়তং ক্রিয়তেইৰ্জ্জুন।
সঙ্গং ত্যক্ত। ফলঞ্চৈব স ত্যাগঃ সাত্ত্বিকে মতঃ ॥৯॥
অনুবাদ—হে অর্জুন! কর্তৃত্বাভিমান এবং ফলকামনা ত্যাগপূর্বক কর্তব্যবােধে যে নিত্যকর্মের অনুষ্ঠান করা হয়, সেই ত্যাগকে আমি সাত্ত্বিক বলিয়া মনে করি॥ ৯॥
ন দ্বেষ্টকুশলং কৰ্ম্ম কুশলে নানুষজ্জতে।
ত্যাগী সত্ত্বসমাবিষ্টো মেধাবী ছিন্নসংশয়ঃ ॥ ১০।
অনুবাদ—সত্ত্বগুণ-পরিনিষ্ঠিত, মেধাবী ও সংশয়-রহিত সাত্ত্বিক ত্যাগী, অকুশল কর্মে বিদ্বেষ করেন না এবং কুশল কর্মে আসক্ত হন না॥১০॥
ন হি দেহভৃতা শক্যং ত্যক্তং কৰ্ম্মাণশেষতঃ।
বস্তু কৰ্ম্মফলত্যাগী স ত্যাগীত্যভিধীয়তে॥১১॥
অনুবাদ—দেহধারী জীবের পক্ষে নিঃশেষে সমস্ত কৰ্ম্ম-পরিত্যাগ সম্ভব নহে; কিন্তু যিনি সমস্ত কৰ্ম্মফল-ত্যাগকারী, তিনিই প্রকৃত ত্যাগী বলিয়া কথিত হন ॥১১॥
অনিষ্টমিষ্টং মিশ্রঞ্চ ত্রিবিধং কৰ্ম্মণঃ ফল।
ভব্যত্যাগিং প্ৰেত্য ন তু সন্ন্যাসিনাং কচিৎ ॥ ১২॥
অনুবাদ-কৰ্ম্মফলাসক্ত ব্যক্তিগণের পরলােকে অনিষ্ট, ইষ্ট ও মিশ্র কৰ্ম্মের ত্রিবিধ ফল লাভ হইয়া থাকে, কিন্তু কৰ্ম্মফলত্যাগীদিগের কখনও কৰ্ম্মফল-ভােগ করিতে হয় না ॥ ১২ |
পঞ্চেনি মহাবাহাে কারণানি নিবােধ মে।
সাংখ্যে কৃন্তে প্ৰােক্তানি সিদ্ধয়ে সর্বকৰ্মণাম্ ॥১৩ ॥
অনুবাদ—হে মহাবাহ ! কৰ্ম্ম-সমাপ্তি-প্রতিপাদক বেদান্ত-শাস্ত্রে, সকল কর্ম-সিদ্ধির নিমিত্ত এই পাঁচটি কারণ উক্ত হইয়াছে, আমার নিকট তাহা। শ্রবণ কর । ১৩।।
অধিষ্ঠানং তথা কৰ্ত্তা করণঞ্চ পৃথগ্বিধ!
বিবিধাশ্চ পৃথক্ চেষ্টা দৈবঞ্চৈবাত্র পঞ্চমম্ ॥ ১৪॥
অনুবাদ—দেহ, কর্তা, ইন্দ্রিয় সকল ও বিবিধ চেষ্টা এবং পঞ্চমস্থানীয় সৰ্বপ্রেরক অন্তর্যামী ॥ ১৪ ॥
শরীরবাঙমনােভিৰ্যৎ কর্ম প্রারভতে নরঃ।
ন্যায্যং বা বিপরীতং বা পঞ্চৈতে তস্য হেতবঃ ॥১৫॥
অনুবাদ—মানব কায়মনােবাক্যের দ্বারা ধৰ্ম্মযুক্ত বা অধৰ্ম্মযুক্ত যে কৰ্ম্ম অনুষ্ঠান করে, এই পাঁচটি সেই কর্মের কারণ ॥ ১৫॥
তত্রৈবং সতি কৰ্ত্তারমাত্মানং কেবলন্তু যঃ।
পশ্যত্যকৃতবুদ্ধিদ্বান্ন স পশ্যতি দুর্মতিঃ ॥ ১৬॥
অনুবাদ—এইরূপ হইলে অর্থাৎ সৰ্ব্বকৰ্ম্মানুষ্ঠানে পাঁচটি হেতু হইলে, সেস্থলে যে ব্যক্তি কেবলমাত্র আত্মাকে অর্থাৎ জীবকে কর্মের কর্তা বলিয়া মনে করে, অসংস্কৃত বুদ্ধিবশতঃ সেই দুর্মতি প্রকৃত মর্ম বুঝিতে পারে না ॥১৬॥
যস্য নাহংকৃত ভাবাে বুদ্ধিস্য ন লিপ্যতে।
হত্বাপি স ইমাল্লোকান্ন হন্তি ন নিবধ্যতে ॥১৭।
অনুবাদ—যাহার অহষ্কৃতভাব অর্থাৎ কর্তৃত্বভিনিবেশ নাই, এবং যাহার বুদ্ধি কৰ্ম্মফলে আসক্ত হয় না, তিনি এই সকল প্রাণীকে হনন করিয়াও বস্তুতঃ হনন করেন না, এবং হনন-কৰ্ম্মফলে আবদ্ধ হন না ॥ ১৭॥
জ্ঞানং জ্ঞেয়ং পরিজ্ঞাতা ত্রিবিধা কৰ্ম্মচোদনা।
করণং কর্ম কৰ্ত্তেতি ত্রিবিধ কর্মসংগ্রহঃ ॥১৮॥
অনুবাদ—জ্ঞান, জ্ঞেয় ও পরিজ্ঞাতা এই ত্রিবিধ—কৰ্ম্মপ্রবৃত্তির হেতু ; করণ, কর্ম ও কর্তা—এই তিনটি কর্মসংগ্রহ বা কর্মের আশ্রয় ॥ ১৮॥
জ্ঞানং কর্ম চ কৰ্ত্তা চ ত্রিধৈব গুণভেদতঃ।
প্রােচ্যতে গুণসংখ্যানে যথাচ্ছনু তাপি ॥ ১৯॥
অনুবাদ—গুণ-নিরূপক সাংখ্য শাস্ত্রে জ্ঞান, কৰ্ম্ম ও কর্তা—ইহারা গুণভেদহেতু তিন প্রকারই কথিত হইয়াছে। সেই সমস্তও যথাযথরূপে শ্রবণ কর ॥১৯॥
সর্বভূতেষু যেনৈকং ভাবমব্যয়মীক্ষতে।
অবিভক্তং বিভক্তেষু তজ, জ্ঞানং বিদ্ধি সাত্ত্বিক॥২০॥
অনুবাদ—যে জ্ঞান-দ্বারা পরস্পর ভিন্ন, মনুষ্য-দেব-তিৰ্য্যগাদি শরীরে নানাবিধ ফলভােগের জন্য ক্রমে বর্তমান এক জীবাত্মাকে অখণ্ড ও অব্যয়রূপে অর্থাৎ পরস্পর ভিন্ন হইয়াও চিজ্জাতীয়ত্বে একরূপ উপলব্ধি করা যায়, সেই জ্ঞানকে সাত্ত্বিক বলিয়া জানিবে ॥২০॥
পৃথকৃত্বেন তু যজ জ্ঞানং নানাভাবান্ পৃথগ্বিধা।
বেত্তি সর্বেষু ভুতেষু তজ, জ্ঞানং বিদ্ধি রাজসম্॥ ২১॥
অনুবাদ—কিন্তু দেবমনুষ্যাদি সৰ্ব্বভূতে পৃথক পৃথকৃরূপে জীবসম্বন্ধীয় যে জ্ঞান, তদ্বারা সেই জীবকে পৃথক্জাতীয় ও নানা অভিপ্রায় যুক্ত উপলব্ধি করা যায়, সেই জ্ঞানকে রাজসিক বলিয়া জানিবে ॥২১॥
য, কৃৎস্নবদেকস্মিন্ কাৰ্য্যে সমহৈতুকম্।
অতত্ত্বার্থবল্পঞ্চ তত্তামসমুদাহৃতম্ ॥২২॥
অনুবাদ—আর যে-জ্ঞান কোন এক স্নানভােজনাদি দৈহিক খণ্ডকার্যে পরিপূর্ণের ন্যায় অভিনিবিষ্ট, শাস্ত্রাদি-রহিত ঔৎপত্তিক, তত্ত্বার্থরহিত এবং পশ্বাদির ন্যায় ক্ষুদ্র বা হেয়, তাহা তামসিক জ্ঞান বলিয়া কথিত হয় ॥ ২২॥
নিয়তং সঙ্গরহিতমগদ্বেষতঃ কৃতম্।
অফলপ্রেপ সুনা কৰ্ম্ম যত্ত সাত্ত্বিকমুচ্যতে॥২৩॥
অনুবাদ—যে নিত্যকর্ম ফলকামনাশূন্য ব্যক্তি কর্তৃক আসক্তি রহিত ভাবে ও রাগদ্বেষ শূন্য হইয়া অনুষ্ঠিত হয়, তাহা সাত্ত্বিক’ কৰ্ম্ম বলিয়া কথিত ॥ ২৩॥
যত্ত, কামেপ সুনা কৰ্ম্ম সাহষ্কারেণ বা পুনঃ।
ক্ৰিয়তে বহুলায়াসং ভাজসমুদাহৃতম্ ॥ ২৪॥
অনুবাদ—ফলকামী বা অহঙ্কারী ব্যক্তিকর্তৃক বহুক্লেশকর যে কৰ্ম্ম অনুষ্ঠিত হয়, তাহা রাজস কৰ্ম্ম বলিয়া কথিত ॥২৪॥
অনুবন্ধং ক্ষয়ং হিংসামনপেক্ষ্য চ পৌরুষ।
মােহাদারভ্যতে কৰ্ম্ম যত্তত্তামসমুচ্যতে ॥২৫ ॥
অনুবাদ—ভাবী বন্ধনাদি পরিণাম, ধৰ্ম্মজ্ঞানাদির ক্ষয়, আত্মনাশ বা পরপীড়ন, এবং নিজ-সামর্থ্য পর্যালােচনা না করিয়া, কেবল অজ্ঞানবশতঃ যে কর্মে প্রবৃত্ত হওয়া যায়, তাহাকে ‘তামস’ কৰ্ম্ম বলা হয় ॥ ২৫॥
মুক্তসঙ্গোহনহংবাদী খৃত্যুৎসাহসমন্বিতঃ।
সিদ্ধ্যসিদ্ধ্যোর্নির্বিকারঃ কৰ্ত্তা সাত্ত্বিক উচ্যতে ॥ ২৬৷৷
অনুবাদ—ফলাভিসন্ধিরহিত, অহঙ্কারশূন্য, ধৈৰ্য্য ও উৎসাহসমন্বিত, ফলের সিদ্ধি ও অসিদ্ধিতে নির্বিকার কর্তাই সাত্ত্বিক ॥২৬॥
রাগী কৰ্ম্মফলপ্রপসুলুব্ধো হিংসাত্মকোহশুচিঃ।
হর্ষশােকান্বিতঃ কর্তা রাজসঃ পরিকীৰ্ত্তিতঃ ॥ ২৭॥
অনুবাদ—আসক্তিযুক্ত, কৰ্ম্মফলকামী, বিষয়াসক্ত, হিংসাপরায়ণ, অশুচি,হর্ষ-বিষাদ-সম্পন্ন কর্তাই ‘রাজস’ বলিয়া কথিত ॥ ২৭ ॥
অযুক্তঃ প্রাকৃতঃ স্তব্ধঃ শঠো নৈষ্কৃতিকোহলসঃ।
বিষাদী দীর্ঘসূত্রী চ কৰ্ত্তা তামস উচ্যতে ॥২৮॥
অনুবাদ—অনুচিত কাৰ্য্যপ্রিয়, স্বপ্রকৃত্যনুযায়ী জড় চেষ্টাযুক্ত, অনম্র , শঠ, পরের অপমানকারী, অলস, বিষাদযুক্ত ও দীর্ঘসূত্রী কর্তা ‘তামসিক’ বলিয়া কথিত ॥২৮॥
বুদ্ধের্ভেদং ধৃভেশ্চৈব গুণভস্ত্রিবিধং শৃণু।
প্রােচ্যমানমশেষেণ পৃথকৃত্বেন ধনঞ্জয়॥২৯॥
অনুবাদ—হে ধনঞ্জয় ! গুণত্রয়ানুসারে বুদ্ধি ও ধৃতির যে তিন প্রকার ভেদ অশেষভাবে ও পৃথকৃরূপে কথিত হইতেছে, তাহা শ্রবণ কর ॥২৯॥
প্রবৃত্তিঞ্চ নিবৃত্তিঞ্চ কাৰ্যাকার্যে ভয়াভয়ে।
বন্ধং মােঞ্চ যা বেত্তি বুদ্ধিঃ সা পার্থ সাত্ত্বিকী ॥ ৩০॥
অনুবাদ—হে পার্থ ! যে বুদ্ধি, প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি, কাৰ্য্য ও অকাৰ্য্য, ভয় ও অভয় এবং বন্ধন ও মােক্ষের পার্থক্য সম্যক্ জানিতে পারে, সেই বুদ্ধিই ‘সাত্ত্বিকী’॥৩০॥
যয়া ধৰ্ম্মমধঞ্চ কাৰ্যাকাৰ্যমেব চ।
অযথাবৎ প্রজাতি বুদ্ধিঃ সা পার্থ রাজসী॥৩১॥
অনুবাদ—হে পার্থ ! যে বুদ্ধি-দ্বারা ধর্ম ও অধর্ম, কাৰ্য্য ও অকাৰ্য্য প্রভৃতির পার্থক্য অসম্যক্ ভাবে জানিতে পারা যায়, সেই বুদ্ধি ‘রাজসিকী’ ॥ ৩১॥
অধং ধর্মমিতি যা মন্থতে তমসাবৃতা।
সৰ্বার্থান্ বিপরীতাংশ্চ বুদ্ধিঃ সা পার্থ তামসী ॥ ৩২॥
ত্যা যয়া ধারয়তে মনঃপ্রাণেন্দ্রিয়ক্রিয়াঃ।
যােগেনাব্যভিচারিণ্যা ধৃতিঃ সা পার্থ সাত্ত্বিকী ॥ ৩৩॥
অনুবাদ—হে পার্থ ! চিত্তের একাগ্রতা হেতু যে অব্যভিচারিণী ধৃতির দ্বারা দেহ, মন ও ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়াসকলকে ধারণ করে অর্থাৎ নিয়মিত করে, সেই ধূতিই ‘সাত্ত্বিকী’ ॥ ৩৩॥
যয়া তু ধৰ্ম্মকামার্থান্ ধৃত্যা ধারয়তেইৰ্জ্জুন।
প্রসঙ্গেন ফলাকাঙক্ষী ধ্রুতিঃ সা পার্থ রাজনী ॥৩৪॥
অনুবাদ—হে পার্থ ! হে অর্জুন! সকাম বিদ্বজ্জনের সঙ্গবশতঃ ফলাকাজী হইয়া যে ধৃতি ধৰ্ম্ম, কাম ও অর্থকে ধারণ করে, সেই ধৃতি রাজসী’ ॥৩৪॥
বয়া স্বপ্নং ভয়ং শােকং বিষাদং মদমেব চ।
ন বিমুঞ্চতি দুৰ্মেধা ধৃতিঃ সা তামসী মতা ॥ ৩৫॥
অনুবাদ—অবিবেকী-মেধাযুক্ত ব্যক্তি, যে ধৃতি-দ্বারা নিদ্রা, ভয়, শােক, বিষাদ ও মদ প্রভৃতিকে ত্যাগ করে না, সেই ধূতিই তামসী’ বলিয়া কথিত ॥ ৩৫॥
সুখং ত্বিদানীং ত্রিবিধং শৃণু মে ভরতভ।
অভ্যাসাভ্রমতে যত্র দুঃখানুঞ্চ নিগচ্ছতি ॥ ৩৬॥
অনুবাদ—হে ভরতশ্রেষ্ঠ! এক্ষণে আমার নিকট ত্রিবিধ সুখের বিষয় শ্রবণ কর। পুনঃ পুনঃ অনুশীলন হেতু অভ্যাস-ক্রমে যে সুখে রতি লাভ করে এবং যাহা দ্বারা সংসাররূপ দুঃখের অন্তলাভ করিয়া থাকেন । ৩৬॥
যত্তদগ্ৰে বিষমিব পরিণামেহমৃতােপম।
ভৎসুখং সাত্ত্বিকং প্রােক্তমাত্মবুদ্ধিপ্রসাদজম্ ॥ ৩৭॥
অনুবাদ—যাহা প্রথমে বিষের ন্যায় কিন্তু পরিণামে অমৃততুল্য, আত্ম-বিষয়িনী বুদ্ধির নির্মলতা হইতে যাহা জাত, সেই সুখ সাত্ত্বিক বুলিয়া কথিত ॥ ৩৭॥
বিষয়েন্দ্রিয়সংযােগাত্তদশগ্ৰহমৃতােপম।
পরিণামে বিষমিব তৎসুখং রাজসং স্মৃতম্ ॥ ৩৮ ৷৷
অনুবাদ—বিষয় ও ইন্দ্রিয়ের সংযােগ-হেতু যে সুখ জাত হয়, তাহা প্রথমে অমৃততুল্য, পরিণামে বিষবৎ ; সেই সুখকে রাজস বলিয়া কথিত হয়॥৩৮॥
যদগ্ৰে চাবন্ধে চ সুখং মােহনমাত্মনঃ।
নিদ্রালস্যপ্রমাদাখং তত্তামসমুদাহৃতম্ ॥ ৩৯॥
অনুবাদ--যে সুখ প্রথমে ও পরিণামে আত্মার মােহজনক, নিদ্রা, আলস্য ও প্রমাদাদি হইতে উখিত, তাহা তামস বলিয়া কথিত হয় ॥৩৯॥
ন তদস্তি পৃথিব্যাং বা দিবি দেবেষু বা পুনঃ।
সঙ্কং প্রকৃতিজৈমুক্তং যদেভিঃ স্যাত্রিভিগুণৈঃ ॥ ৪০॥
অনুবাদ—পৃথিবীতে অর্থাৎ মনুষ্যাদি মধ্যে অথবা স্বর্গে, এমন কি, দেবতাগণের মধ্যে, তাদৃশ সত্ত্ব অর্থাৎ কোন প্রাণী বা বস্তু নাই, যাহা প্রকৃতিজাত এই ত্রিগুণ হইতে মুক্ত ॥ ৪০॥
ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়বিশাং শূদ্রাণাঞ্চ পরন্তপ।
কৰ্ম্মাণি প্রবিভক্তানি স্বভাবপ্রভবৈগুণৈঃ ॥ ৪১॥
অনুবাদ—হে পরন্তপ ! ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রগণের কর্মসকল স্বভাবজাত গুণানুসারে বিভক্ত হইয়াছে॥৪১॥
শমােদমস্তপঃ শৌচং ক্ষান্তিরাজ্জবমেব চ।
জ্ঞানং বিজ্ঞানমাস্তিক্যং ব্ৰহ্মকৰ্ম্মস্বভাবজম্॥ ৪২॥
অনুবাদ—শম, দম, তপঃ, শৌচ, ক্ষান্তি, আর্জব, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও , আস্তিক্য—এই সকল ব্রাহ্মণের স্বভাবজাত কৰ্ম্ম ॥ ৪২॥
শৌৰ্যং তেজো ধৃতিৰ্দাক্ষ্যং যুদ্ধে চাপ্যপলায়ন।
দামীশ্বরভাবশ্চ ক্ষত্ৰকৰ্ম্ম স্বভাবজ ॥৪৩॥
অনুবাদ—শৌর্য, তেজ, ধৈৰ্য্য, কাৰ্যকুশলতা ও যুদ্ধে অপলায়ন, দান এবং লােকনিয়ন্তত্ব প্রভৃতি ক্ষত্রিয়ের স্বভাবজ কৰ্ম্ম ॥ ৪৩॥কৃষিগােরক্ষবাণিজ্যং বৈশ্যকৰ্ম্মস্বভাবজ।
পরিচৰ্য্যাত্মকং কৰ্ম্ম শুদ্রস্যাপি স্বভাবজম্ ॥ ৪৪॥
অনুবাদ—কৃষি, গাে-রক্ষা ও বাণিজ্য প্রভৃতি বৈশ্যের স্বাভাবিক কৰ্ম্ম। আর ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের পরিচৰ্য্যাত্মক কৰ্ম্মই শূদ্রগণের স্বভাবজ ॥ ৪৪ ॥
স্বে স্বে কর্মণ্যভিরতঃ সংসিদ্ধিং লভতে নরঃ।
স্বকৰ্ম্মনিরতঃ সিদ্ধিং যথা বিন্দতি তচ্ছ॥ ৪৫॥
অনুবাদ—স্ব-স্ব-অধিকারােচিত কৰ্ম্মনিরত মানব জ্ঞানযােগ্যতা-রূপ সিদ্ধি লাভ করিয়া থাকে। স্বকৰ্ম্মনিরত ব্যক্তি কি প্রকারে সিদ্ধি লাভ করে, তাহা শ্রবণ কর। ৪৫॥
যতঃ প্রবৃত্তিভূতানাং যেন সর্বমিদং ততম্।
স্বকৰ্ম্মণ তমভ্য… সিদ্ধিং বিতি মানবঃ ॥ ৪৬৷৷
অনুবাদ—যাহা হইতে ভূতসকলের পূর্ববাসনানুরূপ প্রবৃত্তি হয় এবং যিনি ব্যষ্টি ও সমষ্টিরূপে সমগ্র বিশ্বকে ব্যাপ্ত করিয়া আছেন, মানব তাহাকে স্বকৰ্ম্ম-দ্বারা অর্চন করতঃ সিদ্ধি ( অর্থাৎ জ্ঞাননিষ্ঠা) লাভ করিয়া থাকে ॥৪৬॥
শ্রেয়া স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ অনুষ্ঠিতাৎ।
স্বভাবনিয়তং কৰ্ম্ম কুম্নাগপ্লাতি কিল্বিষম্ ॥ ৪৭ ॥
অনুবাদ—উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত উৎকৃষ্ট পর অর্থাৎ অপরের ধৰ্ম্মাপেক্ষা, অসম্যক্ ভাবে অনুষ্ঠিত নিকৃষ্ট স্বধৰ্মই শ্রেয়। মানব স্বভাব-বিহিত কৰ্ম্ম করিয়া কোন পাপ প্রাপ্ত হয় না ॥ ৪৭॥
সহজং কৰ্ম্ম কৌন্তেয় সদোষমপি ন ত্যজেৎ।
সৰ্বারম্ভা হি দোষেণ ধূমেনাগ্নিরিবাবৃতাঃ ॥ ৪৮ ॥
অনুবাদ—হে কৌন্তেয় ! দোষযুক্ত হইলেও স্বভাববিহিত কৰ্ম্ম ত্যাজ্য নহে; যেহেতু অগ্নি যেমন ধুমের দ্বারা আবৃত সেইরূপ সকল কর্মই দোষের দ্বারা আবৃত ॥ ৪৮॥
অসক্তবুদ্ধিঃ সর্বত্র জিহ্বা বিগতস্পৃহঃ।
নৈস্কৰ্মসিদ্ধিং পরমাং সন্ন্যাসেনাধিগচ্ছতি ॥ ৪৯॥
অনুবাদ—প্রাকৃত বস্তুমাত্রে আসক্তিশূন্যবুদ্ধি, বশীকৃতচিত্ত ও ব্ৰহ্মলােক পৰ্যন্ত সুখাদিতেও স্পৃহাশূন্য ব্যক্তি, স্বরূপতঃ কৰ্মত্যাগ পূৰ্ব্বক নৈষ্কৰ্ম্মরূপ শ্রেষ্ঠ-সিদ্ধি লাভ করিয়া থাকেন ॥ ৪৯॥
সিদ্ধিং প্রাপ্তো যথা ব্ৰহ্ম তথাগােতি নিবােধ মে।
সমাসেনৈব কৌন্তেয় নিষ্ঠা জ্ঞানস্য যা পরা ॥ ৫০॥
অনুবাদ—হে কৌন্তেয় ! নৈষ্কৰ্ম্ম-সিদ্ধিপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেরূপে ব্ৰহ্মকে লাভ করেন এবং যাহা জ্ঞানের চরম গতি বা প্রাপ্তি, তাহা আমার নিকট সংক্ষেপে শ্রবণ কর ॥ ৫০ ||
বুদ্ধ্যা বিশুদ্ধয়া যুক্তো ধৃভ্যাত্মানং নিয়ম্য চ।
শাদী বিষয়াংস্ত্যক্তা রাগদ্বেষো ব্যুদস্য চ ॥৫১॥
বিবিক্তসেবী লঘশী যতবান্ধায়মান।
ধ্যানযােগপরাে নিত্যং বৈরাগ্যং সমুপাশ্রিতঃ ॥ ৫২॥
অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং পরিগ্রহ।
বিমুচ্য নির্মমঃ শাভো ব্রহ্মভুয়ায় কল্পতে ॥ ৫৩॥
অনুবাদ—বিশুদ্ধ বুদ্ধিযুক্ত হইয়া ধৃতির দ্বারা মনকে নিয়মিত করিয়া, শব্দাদি-বিষয়সমূহকে পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক রাগ ও দ্বেষ বিদূরিত করিয়া পবিত্র নির্জন স্থানসেবী হইয়া, মিতাহার পূর্বক কায়মনােবাক্য সংযত করতঃ সৰ্ব্বদা ভগবচ্চিন্তাপরায়ণতারূপ যােগ ও বৈরাগ্য আশ্রয় করিয়া অহঙ্কার, বল, দর্প, কাম, ক্রোধ ও পরিগ্রহ ত্যাগপূর্বক নির্মম ও উপশমপ্রাপ্ত পুরুষ ব্রহ্ম-অনুভবের যােগ্য হন ॥ ৫১-৫৩ ||
ব্রহ্মভুতঃ প্রসন্নাত্মণ ন শােচতি ন কাঙক্ষতি।
সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মক্তিং লভতে পরাম্ ॥ ৫৪॥
অনুবাদ—ব্রহ্মে অবস্থিত অর্থাৎ ব্রহ্মস্বরূপ-সংপ্রাপ্ত, প্রসন্নচিত্ত ব্যক্তি কোন বস্তুর জন্য শােক বা আকাঙ্ক্ষা করেন না, তিনি সৰ্ব্বভূতে সমদর্শী হইয়া পরা অর্থাৎ প্রেমলক্ষণযুক্ত মদ্ভক্তি লাভ করিয়া থাকেন ॥ ৫৪॥
ভক্ত্যা মামভিজানাতি যা যাম্মি তত্ত্বতঃ।
তত মাং তত্ত্বতত জ্ঞাত্ব বিশতে তদনন্তরম্ ॥৫৫॥
অনুবাদ—তিনি সেই পরা ভক্তির দ্বারা যেরূপ বিভূতি ও স্বভাবযুক্ত আমি এবং যাহা আমার স্বরূপ, সেইরূপ আমাকে তত্ত্বতঃ জানিতে পারেন। এবং সেই প্রেমভক্তি বলে তত্ত্বতঃ জানিয়া, তদনন্তর আমাতে অর্থাৎ আমার নিত্যলীলায় প্রবেশ করেন॥৫৫॥
সর্বকৰ্মাণ্যপি সদা কুর্বাণাে মদ্বােশ্রয়ঃ ।
মপ্রসাদাদবাগােতি শাশ্বতং পদমব্যয়ম্ ॥ ৫৬॥
অনুবাদ—আমার একান্ত ভক্ত সর্বদা নিত্যনৈমিত্তিক সকল কর্ম করিয়াও আমার প্রসাদে নিত্য, অব্যয় বৈকুণ্ঠধাম লাভ করেন। ৫৬।
চেতসা সর্বকৰ্মাণি ময়ি সংস্য মৎপরঃ।
বুদ্ধিযােগনুপাশ্ৰিত্য মচ্চিত্তঃ সততং ভব ॥৫৭॥
অনুবাদ—কর্তৃত্বাভিমানশূন্য চিত্তের দ্বারা সকল কর্ম আমাতে সমর্পণ-পূৰ্ব্বক, মৎপর অর্থাৎ আমিই একমাত্র পুরুষাৰ্থ এইরূপ নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধিযােগ আশ্রয় করিয়া, সর্বক্ষণ অর্থাৎ কৰ্ম্মানুষ্ঠান-কালেও মৎ-স্মরণপরায়ণ হও । ৫৭।
মচ্চিত্তঃ সর্বদুর্গাণি মৎপ্রসাদারিষ্যসি।
অথ চেমহষ্কারায় শ্রোসি বিনঙক্ষ্যসি। ৫৮ ॥
অনুবাদ—আমার স্মরণপরায়ণ হইলে আমার অনুগ্রহে সমস্ত দুর্গ ( অর্থাৎ সমস্ত বাধাবিঘ্ন ) উত্তীর্ণ হইবে, আর যদি অহঙ্কারবশতঃ তুমি আমার কথা (অর্থাৎ উপদেশ ) শ্ৰবণ না কর, তাহা হইলে সংসাররূপ বিনাশ লাভ করিবে ॥৫৮॥
যদহঙ্কারমাশ্ৰিত্য ন যােৎস্য ইতি মসে।
মিথ্যে ব্যবসায়ন্তে প্রকৃতিত্ত্বাং নিষােক্ষ্যতি ॥ ৫৯॥
অনুবাদ—স্বতন্ত্র-বিচারমূলে অহঙ্কারকে আশ্রয় করিয়া যুদ্ধ করিব না, এইরূপ যদি তুমি মনে কর, তােমার সেই সঙ্কল্প মিথ্যাই হইবে ; যেহেতু স্বাভাবিক যুদ্ধোৎসাহরূপা তােমার প্রকৃতি তােমাকে যুদ্ধে প্রবর্তিত করিবে ॥ ৫৯ ॥
স্বভাবজেন কৌন্তেয় নিবদ্ধঃ স্বেন কৰ্ম্মণা।
কং নেচ্ছসি যােেহাৎ করিষ্যস্বশােহপি তৎ॥ ৬০ ॥
অনুবাদ—হে কৌন্তেয়! মােহবশতঃ তুমি এক্ষণে যে কৰ্ম্ম করিতে ইচ্ছা করিতেছ না, স্বভাবজাত স্বকর্মের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইয়া অবশভাবেই তাহা করিতে প্রবৃত্ত হইবে ॥ ৬০॥
ঈশ্বরঃ সর্বভূতানাং হৃদ্দেশেহৰ্জ্জুন তিষ্ঠতি।
ভ্ৰাময় সর্বভূতানি যারূঢ়ানি মায়য়া ॥ ৬১॥
অনুবাদ—হে অর্জুন! পরমাত্মা সৰ্বান্তৰ্য্যামী যন্ত্রারূঢ়ের ন্যায় সকল জীবকে মায়ার দ্বারা বিভিন্ন কর্মে প্রবর্তিত করিয়া, সকল জীবের হৃদয়ে অবস্থান করিতেছেন ॥ ৬১॥
তমেব শরণং গচ্ছ সর্বভাবেন ভারত।
তৎপ্রসাদাৎ পরাং শান্তিং স্থানং প্রাঙ্গ্যসি শাশ্বতম্ ॥ ৬২ ৷৷
অনুবাদ—হে ভারত ! তুমি সর্বতােভাবে সেই ঈশ্বরের শরণাগত হও, তাহার প্রসাদেই পরমা শান্তি ও নিত্যধাম প্রাপ্ত হইবে ॥ ৬২॥
ইতি তে জ্ঞানমাখ্যাতং গুহাগুতরং ময়া।
বিম্বশৈতশেষেণ যথেচ্ছসি তথা কুরু ॥৬৩ ৷৷
অনুবাদ—এই প্রকারে গুহ হইতে গুহ্যতর জ্ঞান তােমাকে আমি উপদেশ করিলাম, ইহা সম্যক্রূপে আলােচনা করিয়া তােমার যেরূপ ইচ্ছা হয় সেইরূপ কর ॥ ৬৩॥
সর্বহতমং ভুয়ঃ শৃণু মে পরমং বচঃ।
ইষ্টোইসি মে দৃঢ়মিতি তত বক্ষ্যামি তে হিত৷৷ ৬৪॥
অনুবাদ—আমার সৰ্ব্বহতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ উপদেশ পুনরায় শ্রবণ কর। তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়, অতএব তােমাকে হিতােপদেশ করিতেছি॥৬৪॥
মন্মনা ভব মক্তো মাজী মাং নমস্কুরু।
মামেবৈষ্যসি সত্যং তে প্রতিজানে প্রিয়ােহসি মে ॥৬৫॥
অনুবাদ—তুমি আমাতে চিত্ত সমর্পণ কর, আমার সেবাপরায়ণ হও ও মৎ-যজনশীল হও, এবং আমাতে নমস্কার-পরায়ণ হও; তাহা হইলে আমাকেই প্রাপ্ত হইবে। ইহা তােমার নিকট সত্যই প্রতিজ্ঞা করিতেছি, যেহেতু তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয় ॥ ৬৫॥
সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মােক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ ॥ ৬৬॥
অনুবাদ—বর্ণাশ্রমাদি সকল ধৰ্ম্ম স্বরূপতঃ পরিত্যাগ করিয়া একমাত্র আমার শরণ গ্রহণ কর, আমি তােমাকে সকল প্রকার পাপ হইতে মুক্ত করিব, তুমি শােক করিও না ॥ ৬৬ ||
ইদন্তে নাভপস্কায় ভক্তায় কদাচন।
ন চাশুশ্রুষবে বাচ্যং ন চ মাং যােভ্যসূয়তি। ৬৭।
অনুবাদ—এই গীতশাস্ত্র তুমি কখনও অসংযতেন্দ্রিয়, অভক্ত, পরিচৰ্য্যা-হীন এবং আমার প্রতি অসূয়াকারী ব্যক্তিকে বলিবে না ॥ ৬৭॥
য ইমং পরমং গুহং মম্ভক্তেভিধাস্ততি।
ভক্তিং ময়ি পরাং কৃত্বা মামেবৈষ্যত্যসংশয়ঃ ॥ ৬৮॥
অনুবাদ—যিনি পরম গুহ এই গীতাবাক্য আমার ভক্তগণের নিকটে বলিবেন, তিনি পরা-ভক্তি-লাভ পূৰ্ব্বক সংশয় রহিত হইয়া আমাকেই প্রাপ্ত হইবেন॥৬৮॥
ন চ তন্মনুষ্যেষু কশ্চিন্মে প্রিয়কৃত্তমঃ।
ভবিতা ন চ মে তদন্যঃ প্রিয়তমাে ভুবি॥৬৯॥
অনুবাদ—এই নরলােকে সেই গীতা-বক্তা অপেক্ষা আমার অধিক প্রিয়-কাৰ্যকারী কেহ নাই এবং পৃথিবীতে তাহা অপেক্ষা অপর কেহ আমার প্রিয়তর হইবে না॥৬৯॥
অধ্যয়তে চ ইমং ধৰ্মং সম্বাদমায়ােঃ।
জ্ঞানযজ্ঞেন তেনাহমিষ্টঃ স্যামিভি মে মতিঃ ॥ ৭০॥
অনুবাদ—আর যিনি আমাদের পরস্পরের এই ধৰ্ম্মসমন্বিত কথােপকথন অধ্যয়ন করিবেন, তাঁহা-কর্তৃক আমি জ্ঞানযজ্ঞের দ্বারা পূজিত হইব, ইহা আমার অভিমত ॥ ৭০॥
শ্রদ্ধাবাননসূয়শ্চ শৃণুয়াদপি যাে নয়।
সােহপি মুক্তঃ শুভা নােকান্ প্রাপ্লয়াৎ পুণ্যকর্মণাম্ ॥৭১॥
অনুবাদ—শ্রদ্ধাবান্ ও অসূয়ারহিত যে মানব গীতা কেবল শ্রবণ করেন, তিনিও পাপমুক্ত হইয়া পুণ্য-কম্মিগণের প্রাপ্য শুভলােকসমূহ লাভ করেন॥৭১॥
কচ্চিদেচ্ছ তং পার্থ ত্বয়ৈকাণে চেতসা।
কচিদজ্ঞানসমােহঃ প্রণষ্টস্তে ধনঞ্জয়॥৭২॥
অনুবাদ—হে পার্থ ! তুমি একাগ্রচিত্তে এই গীতা শ্রবণ করিলে কি ? হে ধনঞ্জয়! তােমার-অজ্ঞান জনিত মােহ দূর হইয়াছে কি ? ॥ ৭২॥
অৰ্জ্জুন উবাচ
নষ্টো মােহঃ স্মৃতিলা ত্বৎপ্রদায়াচ্যুত।
স্থিতােহস্মি গতসন্দেহঃ করিষে বচনং অব ॥৭৩॥
অনুবাদ—অর্জুন কহিলেন,“হে অচ্যুত ! তােমার প্রসাদে আমার মােহ দূর হইয়াছে এবং আমি স্বরূপস্মৃতি লাভ করিয়াছি। আমার সংশয় দূর হইয়াছে, যথাজ্ঞানে অবস্থিত হইয়াছি, এক্ষণে তােমার আদেশ পালন করিব ॥ ৭৩॥
সঞ্জয় উবাচ
ইত্যহং বাসুদেবস্য পার্থস্য চ মহাত্মনঃ।
সম্বাদমিমমশ্রৌষমভুতং ললামহর্ষণম্ ॥৭৪॥
অনুবাদ—সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে বলিলেন,—আমি এইরূপ মহাত্মা কৃষ্ণ ও অর্জুনের এই অদ্ভুত লােমহর্ষণ সংবাদ শ্ৰৰণ করিয়াছি। ৭৪।
ব্যাসপ্রসাদচ্ছ তনিমং গুহমহং পরম্।
যােগং যােগেশ্বরাৎ কৃষ্ণাৎ সাক্ষাৎ কথয়তঃ স্বয়ম্ ॥ ৭৫॥
অনুবাদ—আমি ব্যাস-প্রসাদে সাক্ষাৎ বক্তা স্বয়ং যােগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের নিকট হইতে এই পরম গুহযােগ শ্রবণ করিয়াছি। ৭৫।
রাজন্ সংঘৃত্য সংস্মৃত্য সম্বাদমিমমভূতম্।
কেশবাৰ্জ্জুনয়ােঃ পুণ্যং হৃষ্যামি চ মুহম্মুহুঃ ॥ ৭৬॥
অনুবাদ—হে রাজন্ ধৃতরাষ্ট্র! কেশবাৰ্জ্জুনের এই পুণ্যজনক অদ্ভুত সংবাদ বারম্বার স্মরণ করিয়া মুহুহু রােমাঞ্চিত হইতেছি । ৭৬ |
তচ্চ সংখৃত্য সংস্কৃত্য রূপমত্যঙুতং হরেঃ।
বিস্ময়াে মে মহান্ রাজন্ ! হৃষ্যামি চ পুনঃ পুনঃ ॥ ৭৭।
অনুবাদ—হে রাজন্ ! হরির সেই অত্যদ্ভুত বিশ্বরূপ স্মরণ করিতে করিতে আমি অতিশয় বিস্ময় প্রাপ্ত হইতেছি এবং পুনঃ পুনঃ পুলকিত হইতেছি। ৭৭।
যত্র যােগেশ্বরঃ কৃষ্ণো যত্র পার্থো ধনুর্ধরঃ।
তত্র জিয়াে ভুতিধ্রুব নীতিৰ্ম্মতির্মম। ৭৮।
অনুবাদ—যে পক্ষে যােগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ও যে পক্ষে গাণ্ডীবধারী অর্জুন, সেই পক্ষেই রাজ্যলক্ষ্মী, বিজয়, সম্পদবৃদ্ধি ধ্ৰুবা ও নীতি বিরাজমান আছে, ইহাই আমার অভিমত বা নিশ্চিত বাক্য॥৭৮॥

0 comments:
Post a Comment