বিদ্বদ্ভিঃ
সেবিতঃ সদ্ভিনিত্যমষেরাগিভিঃ ।
হৃদয়েনাভ্যনুজ্ঞাতাে
যাে ধৰ্ম্মস্তন্নিবােধত ॥১॥
হে
মহর্ষিগণ ! আপনাদের জিজ্ঞাসিত ধর্মের মধ্যে প্রধান ধর্ম আত্মজ্ঞান কথিত হইল, এক্ষণে তাহার অঙ্গস্বরূপ সংস্কারাদি ধর্ম প্রতিপন্ন করিবার মানসে ভগবান্ মনু সামান্যতঃ যে ধর্মের লক্ষণ
কহিয়াছেন, আপনারা তাহা অবধান করুন। বেদপ্রতিপাদ্য অপবর্গাদি-শ্রেয়ঃসাধন কর্মসমুহকে ধৰ্ম্ম বলা যায়, যে ধৰ্ম্ম রাগদ্বেষবিহীন
সাধু বিদ্বানেরা একান্তহৃদয়ে ধারণ করিয়া থাকেন। আর বেদপ্রতিপাদ্য পাপসাধন
ক্রিয়াকলাপকে অধর্ম বলা যায়। ॥১॥
কামাত্মতা
ন প্রশস্ত চৈবেহাত্ত্যকামতা।
কামো
হি বেদাধিগমঃ কৰ্ম্মযােগশ্চ বৈদিকঃ ॥২॥
এক্ষণে
কাম্যকর্মের নিন্দা করিতেছেন। কৰ্ম্মমাত্রই কামনার বিষয়, স্বর্গাদি ফলাভিলাষ পূর্বক কৰ্ম্মানুষ্ঠান অতি গর্হিত, কেন না, তজ্জপে কৰ্ম্ম করিলে পুনরায় জন্মগ্রহণ করিতে হয়, কিন্তু আত্মজ্ঞানসহকারে বেদবােধিত নিত্য-নৈমিত্তিক কৰ্ম্ম করিলে মােক্ষ প্রাপ্তি হয়। ॥ ২॥
সঙ্কল্পমূলঃ
কামাে বৈ যজ্ঞাঃ সঙ্কল্পসম্ভবাঃ।
ব্ৰতা
নিয়মধৰ্ম্মাশ্চ সৰ্বে সঙ্কল্পজাঃ স্মৃতাঃ ॥ ৩॥
এইরূপ
কৰ্ম্ম দ্বারা আমার অভীষ্ট সিদ্ধ হইবে, এইরূপ বুদ্ধিকে সঙ্কল্প বলা যায়, এই সঙ্করের পর
তাহাতে ইচ্ছা জন্মে, অনন্তর তাহার অনুষ্ঠান হয়, এইরূপে যজ্ঞসকল সঙ্কল্পসম্ভব হইয়া থাকে, আর ব্রহ্মচৰ্যাদি ব্ৰত
ও গুরুষাদি নিয়ম সকল সঙ্কল্পজন্য হয়। ॥৩॥
অকাম
ক্রিয়া কাচিদ্দশ্যতে নেহ কহিচিৎ।
যদ্যদ্ধি
কুরুতে কিঞ্চিৎ তত্তৎ কামস্য চেষ্টিতম ॥ ৪॥
ইহলােকে
কি লৌকিক ভােজন-গমনাদি, কি বৈদিক জ্যোতিষ্টোমষাগাদি,
সকলই ইচ্ছা পূর্বক হয়। কামনাবিরহিত কাৰ্য্য প্রায় দেখিতে পাওয়া যায় না, কামনা ব্যতিরেকে কোন কাৰ্য্যেই প্রবৃত্তি হইতে পারে না। ॥4॥
তেষু
সম্যমাননা গচ্ছতামরলােকতাম্।
যথাসঙ্কল্পিতাংশ্চেহ
সৰ্বান্ কামা সমশ্নতে॥৫॥
ফলাভিলাষশূন্য
হইয়া শাস্ত্রীয় কৰ্ম্ম সকলের অনুষ্ঠান করিলে মােক্ষপ্রাপ্তি হয় এবং স্বভাবতই সকল অভিলাষ প্রাপ্ত হওয়া যায় ॥৫॥
বেদোহখিলে
ধৰ্ম্মমূলং স্মৃতিশীলে চ তদ্বিদাম্।
আচারশ্চৈব
সাধুনামাত্মনস্তুষ্টিরেব
চ ॥৬॥
এক্ষণে
ধৰ্ম্মে প্রমাণ কহিতেছেন। সমস্ত বেদ, বেদবেত্তা মন্বাদির স্মৃতি, তাঁহাদিগের ব্ৰহ্মণ্যতা প্রভৃতি ত্রয়ােদশ প্রকার শীল, সাধুদিগের সদাচার এবং আত্মতুষ্টি এই সমুদয় ধৰ্ম্মে
প্রমাণ ॥6॥
যঃ
কশ্চিৎ কস্যচিদ্ধৰ্ম্মো মনুনা পরিকীৰ্ত্তিতঃ।
স
সৰ্বোহভিহিত বেদে সর্বজ্ঞানময়াে হি সঃ ॥
৭॥
ভগবান্
মনু যে কোন ব্যক্তির
যে ধৰ্ম্ম কহিয়াছেন, অবিকল সেইরূপই বেদে প্রতি পাদিত আছে, যেহেতু, মনু সকল বেদই সম্যকরূপে অবগত আছেন ॥7॥
সৰ্বস্তু
সমবেক্ষ্যেদং নিখিলং জ্ঞানচক্ষুষা।
শ্ৰতিপ্রামাণ্যতাে
বিদ্বান্ স্বধর্মে নিবিশেত বৈ ।৮।
শাস্ত্র সকল জ্ঞানচক্ষু বিশেষরূপে পৰ্যালােচনা করিয়া বিদ্বানেরা বেদমূলক কর্তব্য কৰ্ম্ম অবগত হইয়া তাহার অনুষ্ঠান করিবেন। ৮॥
তিস্মৃত্যুদিতং
ধর্মমনুতিষ্ঠ হি মানবঃ।
ইহ
কীৰ্ত্তিমবাপ্নোতি প্ৰেত্য চানুত্তমং সুখম্ ॥৯
যে মনুষ্য বেদোক্ত ও স্মৃতি-প্রতিপাদিত ধর্মের অনুষ্ঠান করেন, তিনি ইহলােকে ধাম্মিক-রূপে যশ ও পরলােকে স্বৰ্গাদি উৎকৃষ্ট ফল প্রাপ্ত হয়েন॥৯॥
তিস্তু
বেদো বিজ্ঞেয়য় ধর্মশাস্ত্ৰস্তু বৈ স্মৃতিঃ
তে
সৰ্বার্থেমীমাংস্যে ভ্যাং ধৰ্ম্মো হি নিৰ্বভৌ॥ ১০
যােহবমতে
তে মূলে হেতুশাস্ত্রাশ্রয়াদ্বিজঃ।
স
সাধুভির্বহিষ্কাৰ্যো নাস্তিকে বেদনিন্দকঃ ॥ ১১
যে ব্যক্তি প্রতিকূল তর্ক দ্বারা মুলস্বরূপ —শ্রুতি ও স্মৃতিশাস্ত্রকে অবমাননা করে, সাধু লােকেরা সেই বেদনিন্দক নাস্তিককে দ্বিজের কর্তব্য কৰ্ম্ম অধ্যয়নাদি সকল অনুষ্ঠান হইতে বহিস্কৃত করিবেন ॥১১॥
বেদঃ
স্মৃতিঃ সদাচারঃ স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ।
এতচ্চতুর্বিধং
প্ৰাহুঃ সাক্ষাদ্ধৰ্ম্মস্য লক্ষণম্ ॥ ১২।
বেদ,
স্মৃতি, শিষ্টাচার ও আত্মতুষ্টি এই
চারিটি ধর্মের সাক্ষাৎ প্রমাণ বলিয়া মন্বাদি-শাস্ত্রকর্তারা নির্দিষ্ট
করিয়াছেন॥১২
অর্থকামেসানাং
ধৰ্ম্মজ্ঞানং বিধীয়তে।
ধৰ্মং
জিজ্ঞাসমানানাং প্রমাণং পরমং শ্রুতিঃ । ১৩
যাহারা অর্থকামনায় আসক্ত নহেন, তাঁহাদিগের প্রতিই এই ধর্মোপদেশ এবং যাহারা জগতে খ্যাতি লাভ করিবার জন্য ধর্মানুষ্ঠান করেন, তাঁহাদিগের সেই কর্মের ফলপ্রাপ্তি হয় না। ধর্ম-জিজ্ঞাসু ব্যক্তির প্রকৃষ্ট প্রমাণ বেদ, যেহেতু, বেদ ও স্মৃতির অনৈক্যে বেদের মতই গ্রাহ্য হয়। ১৩॥
শ্রুতিদ্বৈধন্তু
যত্র স্যাত্ৰ ধৰ্ম্মাবুভৌ স্মৃতো।
উভাবপি
হি তো ধৰ্ম্মে সম্যগুতৌ
মনীষিভিঃ ॥ ১৪।
যে স্থলে শ্রুতির মত দুই প্রকার, তথায় উভয়কেই সম্যকরূপে ধৰ্ম্ম বলিয়া মন্বাদি-শাস্ত্ৰকৰ্তাৱা বলিয়াছেন। ১৪॥
উদয়কালে, অনুদয়কালে এবং সূৰ্য্যনক্ষত্ররহিতকালে হােম করিবে, এই সকল কাল পরস্পর বিরুদ্ধ হইলেও ইহার অন্যমত কালে অগ্নিহােত্রীর হােমের বাধ করিবে না। ১৫॥
নিষেকাদিশ্মশানান্তো
মন্ত্রৈত্যোদিত বিধিঃ।
তস্য
শাস্ত্রেহধিকাৰােহস্মিন্
জ্ঞেয়াে নান্যন্য কস্যচিৎ । ১৬।
যাহাদিগের গর্ভাধান অবধি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পৰ্যন্ত ক্রিয়াকলাপ মন্ত্রের দ্বারা কথিত আছে, তাহাদিগের এই মানব শাস্ত্রের অধ্যয়ন ও শ্রবণে অধিকার, অর্থাৎ দ্বিজাতির অধিকার, শূদ্ৰাদির অধিকার নাই। কিন্তু এই শাস্ত্রোক্ত কর্মের অনুষ্ঠানে তাহাদিগের বাধা নাই। ১৬॥
সরস্বতীদৃষত্যোদেবদ্যোৰ্যদন্তরম্।
তং
দেবনির্মিতং দেশং ব্রহ্মাবর্তং প্রচক্ষতে। ১৭
সরস্বতী ও দৃষদ্বতী এই দুই প্রশস্ত দেবনদীর মধ্যস্থলে যে সকল দেবনির্মিত দেশ অর্থাৎ প্রশস্ত দেশ আছে, তাহাদিগকে ব্ৰহ্মাৰ্ত্ত বলে। ১৭॥
তস্মিন্
দেশে য আচারঃ পারম্পৰ্য্যক্রমাগতঃ।
বর্ণানাং
সান্তরালানাং স সদাচার উচ্যতে।
১৮।
কুরুক্ষেত্ৰঞ্চ
মৎস্যাশ্চ পঞ্চালাঃ শূরসেনকাঃ।
এষ
ব্ৰহ্মর্ষিদেশে। বৈ ব্রহ্মাবর্তানন্তরঃ ॥১৯।
এই ব্ৰহ্মাবর্তদেশে পরম্পরাক্রমাগত ব্রাহ্মণাদির যে আচার-ব্যবহার প্রচলিত আছে, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র ও সঙ্কীর্ণজাতি সকলে সেই আচারকেই সদাচার বলিয়া জানিবে। ১৮॥
কুরুক্ষেত্র, মৎস্য, কান্যকুজ ও মথুরা এই কয়টি দেশকে ব্ৰহ্মর্ষিদেশ বলে, উক্ত দেশ ব্রহ্মাবর্ত হইতে কিঞ্চিৎ হীন। ১৯॥
এতদ্দেশপ্রসূতস্য
সকাশাদগ্রজম্মনঃ।
স্বং
স্বং চরিত্রং শিক্ষের পৃথিব্যাং সৰ্বমানবাঃ ॥২০॥
হিমবদ্বিন্ধ্যয়ােম
ধ্যং যৎ প্রাখিনশনাদপি।
প্রত্যগে
প্রয়াগাচ্চ মধ্যদেশঃ প্রকীৰ্ত্তিতঃ ॥২১।
এই সমুদয় দেশসস্তুত ব্রাহ্মণগণের নিকট হইতে পৃথিবীর যাবতীয় লােক স্বীয় স্বীয় আচার ব্যবহার শিক্ষা করিবে। ২০॥
উত্তরে অবস্থিত হিমালয় এবং দক্ষিণে বিন্ধ্যাগিরি, এই উভয় পৰ্বতের মধ্যস্থান অথচ কুরু ক্ষেত্রের পূর্ব এবং প্রয়াগের পশ্চিম যে দেশ, তাহাকে মধ্যদেশ কহিয়াছেন। ২১॥
আসমুদ্ৰা
বৈ পূৰ্বাদাসমুদ্ৰা পশ্চিমাৎ।
তয়েরেবান্তরং
গিৰ্যোরাৰ্যাবর্তং বিহুৰ্ব্ব ধাঃ ॥২২।
পূৰ্বে সমুদ্র, পশ্চিমে সমুদ্র, উত্তরে হিমালয় ও দক্ষিণে বিন্ধ্যপর্বত, ইহার মধ্যস্থানকে পণ্ডিতগণ আর্যাবর্ত বলেন। ২২॥
কৃষ্ণসারস্তু
চরতি মৃগাে যত্র স্বভাবতঃ ।
স
জ্ঞেয়াে যজ্ঞিয়াে দেশে ম্লেচ্ছদেশত্ত্বতঃ পরঃ । ২৩।
এতা
দ্বিজাতয়াে দেশান্ সংশয়ের প্রত্নতঃ।
শূদ্ৰস্তু
যস্মিন্ কস্মিন্ বা নিবসেবৃত্তিকশিতঃ ॥ ২৪।
যে স্থানে কৃষ্ণসার মৃগ স্বাভাবিক বিচরণ করে সেই দেশকে যজ্ঞিয় দেশ বলে, তদ্ভিন্ন স্থানকে ম্লেচ্ছদেশ বলা যায়। ১৩॥
দ্বিজাতিগণ
অন্যদেশসস্তুত হইলেও প্রযত্ন সহকারে এই সকল পবিত্র
দেশ আশ্রয় করিবেন; কিন্তু শূদ্রের
আপন জীবিকার জন্য যে কোন দেশে
বসতি করিতে পারে। ২৪
এষা
ধর্মস্য বো যােনিঃ সমাসেন
প্রকীর্তিতা।
সম্ভবশ্চাস্য
সৰ্বস্য বর্ণধৰ্ম্মা নিবােধত। ২৫।
হে মহর্ষিগণ! আমি আপনাদিগের নিকট অতি সংক্ষেপে ধৰ্ম্মের কারণ, জগতের উৎপত্তি ও বসতিযােগ্য স্থানের মাহাত্ম্য বর্ণন করিলাম, এক্ষণে ব্রাহ্মণাদি বর্ণের ধর্ম সকল কহিতেছি। উক্ত ধৰ্ম্ম পাঁচ প্রকার বর্ণধৰ্ম্ম, আশ্ৰমধৰ্ম্ম, বর্ণাশ্ৰমধৰ্ম্ম, গুণধর্ম ও নৈমিত্তিকধর্ম। উপনয়নকে বর্ণধৰ্ম বলে, উপনীত বর্ণের ভিক্ষাদগুদিধারণকে আশ্ৰমধৰ্ম্ম বলে, তাহাদিগের মুঞ্জময়ী মেখলাদি ধারণকে বর্ণাশ্রমধর্ম বলা যায়, অভিষিক্ত বাজার প্রজাপালনাদিকে গুণধৰ্ম্ম কহে ও পাপক্ষয়সাধন প্রায়শ্চিত্তকে নৈমিত্তিক ধৰ্ম্ম বলা যায়। ২৫॥
বৈদিকৈ
কৰ্মভিঃ পুণ্যের্নিষেকাদির্বিজন্মনাম।
কাৰ্যঃ
শরীরসংস্কারঃ পাবনঃ প্ৰেত্য চেহ চ। ২৬।
ব্রাহ্মণ,
ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, ইহাদিগের বেদোক্ত পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণরূপ কৰ্ম্ম দ্বারা গর্ভাধানাদি শারীরিক সংস্কার
করিবে, যাহাতে তাহারা ইহলােকে বেদাধ্যয়নাদি দ্বারা ও পরলােকে লভ্য
যাগাদি ফল দ্বারা পবিত্র
হইবে। ২৬
গাডৈহোমৈজাতকৰ্ম্মচৌড়মৌীনিবন্ধনৈঃ।
বৈজিং
গার্ভিকঞ্চৈননা দ্বিজানামপমৃজ্যতে ॥ ২৭।
গর্ভাধান, জাতকর্ম, অন্নপ্রাশন, চূড়াকরণ উপনয়নাদি সংস্কার দ্বারা দ্বিজাতির বীজদোষ ও গর্ভবাসজন্য পাপ হইতে মুক্তি হয়। ২৭॥
স্বাধ্যায়েন
ব্ৰতহেমৈন্ত্রৈবিদ্যেনেজায়।
সুতঃ।
মহাযজ্ঞেশ্চ
যজ্ঞেশ্চ ব্রাহ্মীয়ং ক্ৰিয়তে তনুঃ ॥২৮
বেদাধ্যয়ন, মধুমাংসসবর্জনাদি ব্রত, সায়ং ও প্রাতঃকালে হােম, ত্রৈবিদ্য-নামক ব্রতবিশেষ, ব্রহ্মচর্যসময়ে দেব-ঋষি-পিতৃতর্পণ, গৃহস্থদশায় সন্তানােৎপাদন, ব্রহ্মযজ্ঞাদি পঞ্চ মহাযজ্ঞ ও জ্যোতিষ্ঠোনাদি যজ্ঞ দ্বারা মনুষ্য এই দেহাবচ্ছিন্ন আত্মাকে ব্ৰহ্মপ্রাপ্তির যােগ্য করিবে। ২৮॥
প্রাঙাভিবর্ধনাং
পুংসাে জাতকর্ম বিধীয়তে।
মন্ত্রবৎ
প্রাশনঞ্চাস্য হিরণ্যমধুসর্পিষ। ২৯।
বালক জন্মিবামাত্র নাড়ীচ্ছেদের পূর্বে তাহার জাতকর্ম নামে সংস্কার করিবে ও সেই সময়ে মন্ত্রচ্চারণপূর্বক তাহাকে সুবর্ণ, মধু ও ঘৃত ভােজন করাইবে। ২৯॥
নামধেয়ং
দশম্যান্ত দ্বাদশ্যাং বাস্য কারয়েৎ।
পুণ্যে
তিখো মুহূর্তে বা নক্ষত্রে বা
গুণান্বিতে। ৩০।
একাদশ বা দ্বাদশ দিবসে জাতবালকের নামকরণ করিবে, এই নির্দিষ্ট সময়ে না পারিলে,জ্যোতিঃশান্ত্রোক্ত প্রশস্ত তিথি, প্রশস্ত মুহূর্ত ও প্রশস্ত নক্ষত্রে করিতে হইবে। ৩০॥
মঙ্গল্যং
ব্রাহ্মণস্য স্যাৎ ক্ষত্রিয়স্য বলম্বিতম্।
বৈশ্যস্য
ধনসংযুক্তং শূদ্রস্য তু জুগুতিম্। ৩১।
ব্রাহ্মণের মঙ্গলবাচক, ক্ষত্রিয়ের বলবাচক, বৈশ্যের ধনবাচক এবং শূদ্রের নিন্দাবাচক নাম রাখিবে। ৩১॥
শৰ্ম্মবদব্রাহ্মণস্য
স্যাদ্রাজ্ঞাে রক্ষাসমম্বিতম্।
বৈশস্য
পুষ্টিসংযুক্তং শূদ্রস্য ষ্যৈসংযুতম্। ৩২
ব্রাহ্মণ,
ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রাদির নাম
যথাক্রমে শৰ্ম্ম, বর্ম, ভূতি, দাস, মঙ্গল, বল, সম্পত্তি ও সেবকসুচক
উপপদ যুক্ত করবে; যেমন শুভশয়া, ব, বসুভূতি, দীনদাস
ইত্যাদি। ৩২
স্ত্রীং
সুখােদম, রং বিস্পষ্টার্থং মনােহর।
মঙ্গল্যং
দীর্ঘবর্ণমাশীৰ্বাদাভিধানবৎ।
৩৩।
যে নাম মুখে উচ্চারণ করিতে পারা যায়, ক্রূরার্থের বাচক না হয়, অনায়াসে যে নামের অর্থ-বােধ হয়, যাহাতে মনের প্রতি জন্মে, যে নাম মঙ্গলের বাচক হয়, যাহার অন্তে দীর্ঘস্বর থাকে, যাহা উচ্চারণে আশীর্বাদ বুঝায়, স্ত্রীলােকের এই প্রকার নাম কৰ্তব্য, যেমন যশােদা দেবী। ৩৩॥
চতুর্থে
মাসি কৰ্তব্যং শিশাের্নিক্রমণং গৃহাৎ।
যষ্ঠেহন্নপ্রাশনং
মাসি যদ্বেষ্টং মঙ্গলং কুলে। ৩৪
জাতশিশুর চতুর্থ মাসে সূৰ্য্যদর্শন করাইবার জন্য সূতিকাগৃহ হইতে নিস্ক্রমণ নামে সংস্কার করিতে হয়, পরে ষষ্ঠমাসে অন্নপ্রাশন নামক সংস্কার করিতে হয়, অথবা আপনাদিগের কুলে যে সময়ে নিস্ক্রমণাদি সংস্কার হইয়া থাকে, তাহা করিবে। ৩৪॥
চূড়াকর্ম
দ্বিজাতীনাং সৰ্বেষামেৰ ধৰ্ম্মত।
প্রথমেইব্দে
তৃতীয়ে বা কর্তব্যং শ্রুতিচোদনাৎ।
৩৫।
শ্রুতির লিখনানুসারে সকল জাতিই কুলধৰ্ম্মানুসারে প্রথম বৎসরে অথবা তৃতীয় বৎসরাদিতে চুড়াকর্ম করিবে। ৩৫॥
গর্ভষ্টমেহব্দ
কুব্বীত ব্রাহ্মণস্যোপনায়ন।
গর্ভাদেকাদশে
রাজ্ঞে গর্ভা দ্বাদশে বিশঃ ॥ ৫৬।
গর্ভ
হওয়াবধি অষ্টম বৎসরে অর্থাৎ ভূমিষ্ঠ হওয়াবধি ৬ বৎসর ৩
মাসের পর ৭ বৎসর
৩ মাস পর্যন্ত
ব্রাহ্মণের উপনয়ন দেওয়া উচিত। গর্ভের সময় লইয়া একাদশ বৎসরে অর্থাৎ ভূমিষ্ঠ হওয়াবধি ৯ বৎসর ৩ মাসের পর ১০ বৎসর ৩ মাস পর্যন্ত ক্ষত্রিয়ের উপনয়ন ও দ্বাদশ বৎসরে অর্থাৎ ১০ বৎসর ৩ মাসের পর ১১ বৎসর ৩ মাস পর্যন্ত বৈশ্যের উপনয়ন দেওয়া বিধেয় ॥৩৬॥
ব্ৰহ্মব…সকাম
কাৰ্যং বিপ্রস্য পঞ্চমে।
রাজ্ঞো
বলার্থিনঃ ষষ্ঠে বৈশ্যস্যেহার্থিনেহষ্টমে। ৩৭।
যে ব্রাহ্মণ ব্ৰহ্মবর্চ্চস অর্থাৎ বেদাধ্যয়ন ও তদর্থগ্রহণ-প্রকর্ষ কামনা করেন, তাহার গর্ভসহ পঞ্চম বৎসরে অর্থাৎ ভূমিষ্ঠ হওয়া অবধি ৩ বৎসর ৩ মাসের পর ৪ বৎসর ৩ মাস পর্যন্ত উপনয়ন দেওয়া উচিত। বিপুল হস্তশ্বাদিবলপ্রার্থী ক্ষত্রিয়ের গর্ভসহ ষষ্ঠ বৎসরে অর্থাৎ ভূমিষ্ঠের পর ৪ বৎসর ৩ মাস হইতে ৫ বৎসর ৩ মাস পর্যন্ত ও বাণিজ্যার্থী বৈশ্যের অষ্টম বৎসরে অর্থাৎ ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ৬ বৎসর ৩ মাস হইতে ৭ বৎসর ৩ মাস পর্যন্ত উপনয়ন দেওয়া বিধেয়। ৩৭॥
আ
যােশাব্রাহ্মণস্য সাবিত্রী নাতিবৰ্ত্ততে।
অ
দ্বাবিংশাৎ ক্ষত্রবন্ধোরা চতুর্বিংশতেৰ্ব্বিশঃ ॥ ৩৮ !
অত
উৰ্দ্ধং ত্রয়ােহপ্যেতে যথাকলমসংস্কৃতাঃ।
সাবিত্রীপতিতা
ব্রাত্যা ভবন্ত্যাৰ্যবিগহিতাঃ ॥ ৩৯।
ব্রাহ্মণের গর্ভাবধি যােড়শবর্ষ পৰ্যন্ত অর্থাৎ ভূমিষ্ঠাবধি ১৪ বৎসর ৩ মাসের পর ১৫ বৎসর ৩ মাস পৰ্যন্ত, ক্ষত্রিয়ের দ্বাবিংশতিবর্ষ পৰ্য্যন্ত অর্থাৎ ভূমিষ্ঠের পর ২১ বৎসর ৩ মাস পর্যন্ত, বৈশ্যের চতুর্বিংশতি বৎসর পর্যন্ত অর্থাৎ ভূমিষ্ঠের পর ২৩ বৎসর ৩ মাস পর্যন্ত উপনয়নকাল অতিক্রান্ত হয় না। ৩৮॥
এই তিন বর্ণ যদি এতাবৎকাল পর্যন্তও সংস্কৃত না হয়, তাহা হইলে ইহারা গায়ত্রীভ্রষ্ট হইয়া মাননীয় মহাত্মাদিগের নিন্দনীয় হয় এবং তাহাদিগকে ব্রাত্য বলা যায়। ৩৯॥
নৈতৈরপূতৈর্বিধিবদাপদ্যপি
হি কহিঁচিৎ।
ব্রাহ্মাৰ
যৌনাংশ্চ সম্বন্ধাচরেদব্রাহ্মণঃ সহ। ৪০।
কাঞ্চ
রৌরববাস্তানি চৰ্ম্মাণি ব্ৰহ্মচারিণঃ।
বসীরম্ননুপূৰ্বেণ শাণক্ষৌমাবিকানি চ। ৪১।
ব্রাত্যের যথাশাস্ত্র প্রায়শ্চিত্ত না করিলে ব্রাহ্মণেরা বিপৎকালেও এই অপবিত্রদিগকে বেদ অধ্যয়ন করাইবেন না এবং তাহাদিগের সহিত কোনক্রমেই কন্যাদানাদি কোন সম্বন্ধনিবন্ধ করিবেন না। ব্রাহ্মণ-ব্রহ্মচারী কৃষ্ণসারচর্মের উত্তরীয় ও শণবস্ত্রের অধােবসন পরিধান করিবে, ক্ষত্রিয়-ব্ৰহ্মচারী রুরুনামক মৃগচর্মের উত্তরীয় ও ক্ষৌমবসন এবং বৈশ্য-ব্রহ্মচারী ছাগচর্মের উত্তরীয় ও মেষলােমের অধোবসন পরিধান করিবে। ৪১॥
মৌী
ত্রিবৃৎ সমা ক্ষা কাৰ্য্যা বিপ্রস্য মেখলা ।
ক্ষত্রিয়স্য
তু মৌব্বী জ্য। বৈশস্য শণতান্তণী ॥ ৪২।
মুঞ্জালাভে
তু কর্তব্যাঃ কুশাশ্মান্তকবজৈঃ।
ত্রিবৃত।
এন্থিনৈকেন ত্রিভিঃ পঞ্চভিরেব বা ॥ ৪৩।
ব্রাহ্মণদিগের সমান গুণত্রয়ে নিৰ্ম্মিত, সুখস্পৃশ্য, মৃন্জময়ী মেখলা করিতে হয়, ক্ষত্রিয়দিগের মুৰ্বাময়ী ধনুকের ছিলার ন্যায় দ্বিগুণত এবং বৈশ্যের শণতন্তুনির্মিত ট্রিগুণিত মেখলা করিতে ॥৪২॥
মুঞ্জাদির অপ্রাপ্তিপক্ষে ব্রাহ্মণেরা বুশের মেখলা করিবেন, ক্ষত্রিয়ের অশ্মান্তক নামক তৃণ-বিশেষের এবং বৈশ্যের বল্বজ তৃণের মেখলা করিবে। ত্রিগুণা মেখলা সৰ বংশের রীত্যনুসারে এক, তিন অথবা পঞ্চ গ্রন্থি দ্বারা বন্ধ করিবে।৪৩॥
কার্পাসমুপবীতং
স্যাদ্বিপ্রস্যোজ্জবৃতং
ত্ৰিকৃৎ।
শণসূত্রময়ং
রাজ্ঞাে বৈশ্যস্যাবিকসৌত্ৰিক ৷ ৪৪।
ব্রাহ্মণে
বৈপালাশে ক্ষত্রিয়াে বাটখাদিরে।
পৈলবৌদুম্বরে
বৈশ্যো দানন্তি ধৰ্ম্মতঃ ॥ ৪৫।
কার্পাসের তিনটি সুত্র দুই করতলমধ্যে ধারণ করত দক্ষিণকর উর্দ্ধে ও বামকর নিম্নে চালনা দ্বারা যে সূত্র প্রস্তুত হয়, তাহাকে ঐরূপ হস্তমধ্যে ধারণ পুৰ্ব্বক বামকর উদ্ধে ও দক্ষিণকর নিম্নে চালনা করিলে যে সুত্র হয়, তাহাকে তিনবার বেষ্টন করিয়া গ্রন্থিবন্ধন করিলে যজ্ঞােপবীত সংজ্ঞা হয়। এই প্রকার যজ্ঞোপবীত ব্রাহ্মণের ধারণ করিবে, ক্ষত্রিয়েরা ঐ প্রকার শণ-সূত্রের উপবীত করিবে এবং বৈশ্যেরা ঐরূপ মেষলােমের উপবীত করিবে। ৪৪॥
ব্রাহ্মণ-ব্রহ্মচারী বিল্ব অথবা পলাশের দণ্ড, ক্ষত্রিয়-ব্রহ্মচারী বট অথবা খদিরের দণ্ড এবং বৈশ্য-ব্রহ্মচারী পিলু অথবা উডুম্বরের দণ্ড ধারণ করিবে। ৪৫॥
কেশান্তিকো
ব্রাহ্মণস্য দণ্ডঃ কাৰ্য প্ৰমাণতঃ।
ললাটসম্মিতাে
রজ্ঞঃ স্যা, নাসাত্তিকে বিশঃ ॥ ৪৬
ঋজবস্তে
তু সৰ্ব্বে রব্রণাঃ সৌম্যদর্শনাঃ।
অনুদ্বেগকরা
নৃণাং সত্বচোহনগ্নিদূষিতাঃ ॥ ৪৭।
প্রতিগৃহেল্পিতং
দণ্ডমুপস্থায় চ ভাস্কর।
প্রদক্ষিণং
পরীত্যাগিং চরেদ্ভৈক্ষং যথাবিধি। ৪৮।
ভবৎপূর্বং
চরেদ্ভৈক্ষমুপনীত দ্বিজোত্তমঃ।
ভবম্মধ্যন্তু রাজন্যে বৈশস্তু ভবদুত্তর। ৪৯॥
কেশ পর্যন্ত প্রমাণে ব্রাহ্মণের দণ্ড করিতে হয়, ক্ষত্রিয়দিগের ললাট পর্যন্ত এবং বৈশ্যদিগের নাসা পৰ্যন্ত প্রমাণে দণ্ড করিতে হয়। ৰাহ্মণাদির দণ্ডগুলি সরল হইবে, কোন স্থানে কোন ক্ষতচিহ্ন থাকিবে না, ত্বকযুক্ত হইবে, অগ্নি দ্বারা দূষিত হইবে না, দেখিতে এমনই সুন্দর হইবে, যেন দর্শনমাত্র মনুষ্যদিগের মনে কোন রূপে ভয়ের উদয় না হয়॥৪৬-৪৭॥
ইহারা মনােমত ঐ দণ্ড ধারণ করিয়া সূৰ্যদেবের উপস্থান করিবেন, পরে অগ্নি প্রদক্ষিণ করিয়া বিধানানুসারে ভিক্ষা করিবেন। ৪৮॥
ব্রাহ্মণ-ব্রহ্মচারী উপনীত হইয়া ভবৎ শব্দের উচ্চারণ পূর্বক ভিক্ষা যাঞ্চা করিবে, অর্থাৎ “ভবতি ভিক্ষাং দেহি” এই কথা বলিবে। ক্ষত্রিয়েরা ভবৎ শব্দ মধ্যে করিয়া ভিক্ষা করিবে, অর্থাৎ “ভিক্ষা ভবতি দেহি” এই কথা বলিবে। বৈশ্যেরা শেষে ভবৎ শব্দের প্রয়ােগ করিবে, অর্থাৎ “ভিক্ষাং দেহি ভবতি” এই কথা বলিবে॥৪৯॥
মাতরং
বা সারং বা মাতুব্বা ভগিনীং
নিজাম্।
ভিক্ষেত
ভিক্ষাং প্রথমং যা চৈনং নাবমানয়ে।
৫০।
সমাহত্য
তু তক্ষ্যৈং যাবদমমায়য়া।
নিবেদ্য
গুরবেহশ্নীয়াদাচম্য প্রাঙ্খঃ শুচিঃ ৫১।
ইহারা
প্রথমে মাতা বা ভগিনী কিম্বা
মাতার সহােয়া অথবা যে স্ত্রী ব্রহ্মচারীকে
প্রত্যাখ্যান দ্বারা
অবমাননা না করেন, তাঁহাদিগের
নিকট ভিক্ষা যাজ্ঞা করিবে। ৫০
উপনীত ব্রাহ্মণাদি এইরূপে ভিক্ষা সংগ্রহ করিয়া যে পরিমাণ অল্পে তৃপ্তি হইতে পারে, ছলশূন্য মনে ততগুলি অন্ন গুরুকে নিবেদন করিয়া আচমন পূর্বক পূর্বমুখে শুদ্ধভাবে ভােজন করিবে । ৫১॥
আয়ুষ্যং
প্রাঙ্ খাে ভুক্তে যশস্যং দক্ষিণমুখ।
শিয়ং
প্রত্যঘুখাে ভুঙক্তে ঋতং ভুঙক্তে হুদঙমুখঃ ॥ ৫২।
উপস্পৃশ্য
দ্বিজো নিত্যষমদ্যাৎ সমাহিতঃ ।
ভুক্ত।
চোপশেৎ সমগত্তিঃ খনি চ সংস্পশেৎ ৫৩।
যিনি আয়ুবৃদ্ধি কামনা করেন, তিনি পূর্বমুখে ভোজন করিবেন। এইরূপ যশােবৃদ্ধিকামী দক্ষিণমুখে, সম্পৎকামী পশ্চিমমুখে ও সত্যফলকামী ব্যক্তি উত্তরমুখে ভােজন করিবেন। ৫২॥
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য ব্রহ্মচারীরা ব্ৰহ্মচর্য্যের পরও আচমন করিয়া আনমনে অন্ন ভােজন করিবে, ভেজনাবসানেও আচমন করিবে, আচমন-বিষয়ে জল দ্বারা নাসিকা, চক্ষু ও শ্রোত্র প্রভৃতি মস্তকস্থিত ছয়টি ছিদ্র স্পর্শ করিবে। ৫৩॥
পূজয়েশনং
নিত্যমদ্যাচ্চৈতদকুৎসয়ন।
হৃষ্যেৎ প্ৰসীদেচ্চ প্ৰতিন-চ্চ সৰ্ব্বশ। ৫৪।
অন্নই জীবনধারণের কারণ, এইরূপে অন্নকে ধ্যান করিবে, অন্নের নিন্দা না করিয়া ভক্তিভাবে ভোজন করিবে, অন্ন দেখিনা হৃষ্ট হইবে এবং অন্য কারণ যদি কোন খেদ থাকে, তাহাও অন্ন দেখিয়া পরিত্যাগ করিবে; ইহা যেন আমরা প্রতিদিন প্রাপ্ত হই, এই কথা বলিয়া অন্নকে বন্দনা করিবে।॥৫৪॥
পূজিত
হনং নিত্যং বলমুজ্জঞ্চ যতি ।
অপূজিতন্তু
তদ্ভুক্তমুভয়ং নাশয়েদিদম। ৫৫
নােষ্টিং
কস্যচিদ্দদ্যাদ্যাচ্চৈব
তথান্তরা।
ন
চৈবাত্যশনং কুৰ্য্যায় চোচ্ছিষ্টঃ কচিদব্রজেৎ। ৫৬।
যেহেতু, অন্ন ভক্তিভাবে ভােজন করিলে সৰ্ব্বদা সামর্থ ও বীৰ্য্য প্রদান করে এবং অন্নের নিন্দা করিয়া ভােজন করিলে সেই উভয় নাশ করে। ৫৫॥
কাহাকেও উচ্ছিষ্ট অন্ন প্রদান করিবে না। দিবাকালের ও রাত্রিকালের ভােনসময়ের মধ্যে আর ভােজন করিবে না, অশিয় ভােজন করিবে না এবং উচ্ছিষ্টমুখে কোথাও গমন করি না। ৫৬॥
অনারােগ্যমনায়ুষ্যমত্মর্গ্যঞ্চাতিভােজন।
অপুণ্যং
লােকবিদ্বিষ্টং তস্মাত্তং পরিবর্জয়েৎ। ৫৭।
ব্রাহ্মেণ
বিস্তীর্থেন নিত্যকালমুপশেৎ।
কায়দৈশিকাভ্যাং
বা ন পিণে কদাচন।
৫৮।
অতিশয় ভােজন করিলে শরীর রােগে আক্রান্ত হয়, পরমায়ু হ্রাস হইয়া যায়, স্বর্গসাধন বাগাদি ক্রিয়ায় অনধিকারী হয়, লােকে ঔদরিক বলিয়া নিন্দা করে এবং পুণ্যজনক কোন কর্ম্মে রুচি হয় না অতএব অবশ্য ইহা পরিত্যাগ করা কর্তব্য। ৫৭॥
ব্রাহ্মণ
সৰসময়ে ব্রাহ্মতীর্থ দ্বারা আচমন করিবে, অথবা প্রজাপতিতীর্থ বা দেবতীর্থ দ্বারা
আচমন করিবে, কিন্তু পিতৃতীর্থ দ্বারা কখন আচমন করিবে না। ৫৮
অষ্ঠমূলস্য
তলে ব্রাহ্মং তীর্থং চক্ষতে।
কায়মঙ্গুলিমূলেহগ্ৰে
দৈবং পিং তয়ােরধঃ ॥ ৫৯।
ত্রিচামেদপঃ
পূৰ্ব্বং দ্বিঃ প্রজ্যাত্ততে মুখ।
খানি
চব স্পশেদর্ত্তিরাত্মানং শির এব চ। ৬০।
বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের মূলের অধােভাগকে ব্রাহ্মতীর্থ বলে, কনিষ্ঠাঙ্গুলিমূলের নাম প্রজাপতিতীর্থ, সমুদয় অঙ্গুলির অগ্রভাগের নাম দৈবতীর্থ, তর্জনী ও অঙ্গুষ্ঠের মধ্যভাগকে পিতৃতীর্থ বলা যায়। ৫৯॥
প্রথমতঃ ব্রাহ্মাদি তীর্থ দ্বারা বারত্ৰয় জল পান করিবে, অনন্তর সংবৃত ওষ্ঠাধর জল দ্বারা বারদ্বয় মার্জনা করিবে, তৎপরে জল দ্বারা মস্তক ইন্দ্রিয়ছিদ্র সকল, বক্ষস্থল ও মন্তক যথাক্রমে স্পর্শ করিবে।৬০॥
অনুষ্ণাভিরফেনাভিরদ্ভিত্তীর্থে
ধর্মবিৎ।
শৌচেষ্পঃ
সৰ্ব্বদাচামেদেকান্তে
প্রাগুঙ্খঃ। ৬১।
হৃদভিঃ
পূয়তে বিপ্রঃ কণ্ঠগাভিস্তু ভূমিপঃ।
বৈশ্যোহদ্ভিঃ প্রাশিতভিন্তু শূদ্রঃ স্পষ্টাভিরন্ততঃ ॥ ৬২।
ধর্মজ্ঞ লােক যাহারা শুদ্ধ হইতে ইচ্ছা করেন, তাঁহারা ব্রাহ্মাদি তীর্থ দ্বারা উষ্ণ না হয়, ফেনিল না হয়, এমন জলে নির্জন স্থানে পূর্ব বা উত্তরমুখে সমাসীন হইয়া সর্বদা আচমন করিবেন। ৬১॥
ব্রাহ্মণেরা আচমনে এত পরিমাণে জল পান করিবেন, যাহা হৃদয় পৰ্য্যন্ত যাইতে পারে। ক্ষত্রিয়েরা কণ্ঠ পৰ্য্যন্ত যাইবার উপযুক্ত হলে আচমন করিবেন। বৈশ্যেরা কেবল মুখের অভ্যন্তরে যাইতে পারে, এমন জলে আচমন করিবে এবং শূদ্রেরা কেবল জিহ্বা ও ওঠে প্রান্ত স্পর্শ হয়, এমন জলে আচমন করিবে, তাহাতেই তাহার পবিত্র হয়। ৬২॥
উতে
দক্ষিণে পাণাবুপবীত্যুচ্যতে বিজঃ।
সব্যে
প্রাচীন-আবীতী নিবীতী কণ্ঠসজ্জনে। ৬৩
কণ্ঠে ধৃত যজ্ঞসূত্রের মধ্য দিয়া দক্ষিণ বাহু উত্থাপিত করিলে যে পুত্র বামঙ্কন্ধে অবস্থিত ও দক্ষিণ কক্ষে অবলম্বিত হয়, সেই যজ্ঞােপবীতবিশিষ্ট ব্যক্তিকে উপবীতী, ঐরূপ করে ধৃত যজ্ঞসূত্রের মধ্য দিয়া বাম কর উথাপিত করিলে দক্ষিণঙ্কন্ধে অবস্থিত ও বামকক্ষে অবলম্বিত যজ্ঞসূত্রবিশিষ্টকে প্রাচনাবতা ও কণ্ঠে সরলভাবে অবস্থিত যজ্ঞসূত্রবিশিষ্টৰুে নিবীতী বলা যায়। ৬৩॥
মেখলামনিং
দণ্ডমুপবীতং কমণ্ডলুম্।
অল্প,
প্ৰাস্য বিনষ্টানি গৃহীতান্যানি মন্ত্রবৎ। ৬৪।
কেশান্তঃ
ঘােড়শে বর্ষে ব্রাহ্মণস্য বিধীয়তে।
রাজন্যবন্ধোদ্বাবিংশে
বৈশস্য ব্যধিকে ততঃ॥ ৬৫।
অমগ্রিকা
তু কাৰ্য্যেয়ং স্ত্রীণামাবৃদশেষতঃ।
সংস্করার্থং শরীরস্য যথাকলং যথাক্ৰমম্ ॥ ৬৬ ।
মেখলা, চর্ম, দণ্ড, উপবীত ও কমণ্ডলু এ সকল ছিন্ন বা ভগ্ন হইলে জলে নিক্ষেপ করিয়া মন্ত্রোচ্চারণ পূর্বক নূতন নূতন গ্রহণ করিবে।॥৬৪॥
গর্ভসহ যােড়শ বর্ষে ব্রাহ্মণের কেশান্ত নামে সংস্কার করিতে হয়, ক্ষত্রিয়দিগের গর্ভসহ বিংশ বর্ষে এবং বৈশ্যের গর্তসহ চতুর্বিংশ বৎসরে এই সংস্কার করা কর্তব্য॥৬৫॥
পুরুষের ন্যায় স্ত্রীলােকদিগেরও দেহশুদ্ধির জন্য অমন্ত্রক এই সকল সংস্কার ঐ কালে যথানিয়মে সম্পন্ন করিতে হয়॥৬৬॥
বৈবাহিকো
বিধিঃ স্বাণাং সংস্কারে বৈদিকঃ স্মৃতঃ।
পতিসেবা
গুরৌ বাসাে গৃহার্থোইগ্নিপরিক্রিয়া ॥ ৬৭।
এষ
পােতো দ্বিজাতানামোপনায়নিকো বিধিঃ।
উৎপত্তিব্যঞ্জকঃ
পুণ্যঃ কর্মযোগং নিবােধত। ৬৮।
বিবাহ-সংস্কারই স্ত্রীলােকের উপনয়ন নামে বৈদিক সংস্কার, তাহাতে স্বামীর সেবাই গুরুকুলে বাস, গৃহকর্মই সায়ংপ্ৰাতহোমরূপ অগ্নীসেবা জানিবে। ৬৭॥
হে মহষিগণ! ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য ইহাদিগের দ্বিতীয় জন্মের ব্যঞ্জক ক্রিয়াকলাপ ও পবিত্রতাজনক উপনয়নের বিধান বলা হইল, এক্ষণে তাঁহাদিগের যে কর্তব্য কৰ্ম, তা অবগত হউন ॥৬৮॥
উপনীয়
গুরু শিষ্যং শিক্ষয়েচ্ছৌচমাদিতঃ।
আচারমগ্নকাৰ্য্যঞ্চ
সন্ধ্যোপাসনমেব চ। ৬৯।
অধ্যেষ্যমাণ
স্বাচান্তো যথাশাস্ত্ৰমুদঙমুখ।
ব্ৰহ্মাঞ্জলিকৃতােহধ্যাপ্যো লঘুবাসা জিতেন্দ্রিয়ঃ ॥ ৭০।
গুরু প্রথমতঃ শিষ্যের উপনয়ন দিয়া তাহাকে আদ্যোপান্ত শৌচক্রিয়া শিক্ষা দিবেন, পরে স্থান, আচমন ও সন্ধ্যাবন্দনাদি এবং সায়ংহোমের অনুষ্ঠান কিরূপে করিতে হয়, তাহার উপদেশ দিবেন॥৬৯॥
শিষ্য যখন অধ্যয়ন করিবেন, তখন তিনি শাস্ত্রানুসারে আচমন করিয়া ইন্দ্রিয়সংযমন পূর্বক উত্তরাভিমুখে ব্ৰহ্মাঞ্জলি করিয়া পবিত্ৰবেশে উপবেশন করিবেন। গুরু তাঁহাকে বেদ অধ্যয়ন করাইবেন॥৭০॥
ব্ৰহ্মারম্ভেবসানে
চ পাদো গ্রাহো গুরােঃ সদা ।
সংহত্য
হস্তাবধধ্যয়ং স হি ব্ৰহ্মাঞ্জলিঃ
স্মৃতঃ ॥ ৭১ ।
ব্যত্যন্তপাণিনা
কাৰ্যমুপসংগ্ৰহণং গুনােঙ।
সব্যেন
সব্যঃ স্রষ্টব্যে। দক্ষিণেন চ দক্ষিণঃ ॥
৭২।
বেদাধ্যয়নের আরম্ভ ও সমাপন করিলে পর শিষ্য বক্ষ্যমাণ তিক্রমে কৃতাঞ্জলিপুটে সতত গুরুর পাদদ্বয় স্পর্শ কবিয়া যে অধ্যয়ন করেন, এই প্রকার অধ্যয়নানুষ্ঠানকেই ব্ৰহ্মাঞ্জলি বলা যায়। ৭১॥
ব্যত্যস্ত হস্তদ্বয় দ্বারা গুরুর পাদগ্ৰহণ করিবে, অর্থাৎ উত্তান দক্ষিণহস্ত উপরে ও উত্তান বামহস্ত নীচে করিয়া দক্ষিণ-হস্ত দ্বারা গুরুর দক্ষিণপদ ও বামহস্ত বা বামপদ স্পর্শ করিবে। ৭২॥
অধ্যেষ্যমাণস্তু
গুরুনিত্যকালমতন্দ্রিত।
অধস্ব
ভাে ইতি দ্বিমােহস্থিতি চারমেৎ। ৭৩
ব্ৰহ্মণঃ
প্রণবং কুৰ্য্যাদাদাবন্তে চ সৰ্ব্বদা।
স্রবত্যহনােক্তং
পূর্বং পরস্তাচ্চ বিশীৰ্যতে ॥৭৪।
শিষ্য যখন অধ্যয়ন করিবে, তখন সতত আলস গুরু ‘অধ্যয়ন কর বলিয়া পাঠ আরম্ভ করাইবেন ও শেষে এই স্থানে পাঠ রহিল’ বলিয়া অধ্যাপনা হইতে বিরত হইবেন। ৭৩॥
ব্রাহ্মণ বেদাধ্যয়নের আরম্ভে ও সমাপনে সর্বদা ওঙ্কারের উচ্চারণ করিবে, যেহেতু, প্রথমে ওঙ্কার উচ্চারণ না করিলে ক্রমে ক্রমে অধ্যয়ন নষ্ট হইয়া যায় এবং অবসানে প্রণবােচ্চারণ না করিলে সমুদয় বিস্মৃত হইয়া যায়। ৭৪॥
প্রাণায়ামৈথ্রিভিঃ
পূতন্তত ওঙ্কারমহত॥ ৭৫।
পূৰ্বাগ্রকুশসমূহে সমাসীন, দুই করে পবিত্রময়, কুশের দ্বারা পবিত্রিত ও পঞ্চদশ হ্রস্বম্বর উচ্চারণযোগ্যকালে প্রাণায়াময়ত্রয় দ্বারা বিশুদ্ধ হইলে তবে ওঙ্কার উচ্চারণের যগ্য হইতে পারে। ৭৫॥
অকারঞ্চাপুকারঞ্চ
মকারঞ্চ প্রজাপতিঃ।
বেদত্রয়ান্নিরদুহভুবঃ
স্বরিতীতি চ। ৭৬।
ত্রিভ্য
এব তু বেদেভ্যঃ পাদং
পাদমদূদুহৎ।
তদিচেহস্যাঃ
সাবিত্রীঃ পরমেষ্ঠী প্রজাপতিঃ ॥৭৭।
এতক্ষরমেঞ্চ
জপ ব্যাহৃতিপূৰ্বিকা।
সন্ধ্যয়োবেদবিদ্বিপ্রো
বেদপুণ্যেন যুজ্যতে। ৭৮ |
ব্রহ্মা ঋক্, যজুঃ ও সাম এই বেদত্রয় হইতে ওঙ্কারের অবয়বীভূত অকার, উকার, মকার ও ভুঃ ভুবঃ স্বঃ এই তিন ব্যাহৃতি ক্রমে উদ্ধৃত করিয়াছেন। ৭৬॥
সৰ্বলােকপূজ্য ব্ৰহ্ম। ঋক, যজুঃ ও সাম এই বেদত্রয় হইতে তদিত্যাদি গায়ত্রীয় অর্থাৎ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো যাে নঃ প্রচোদয়াৎ এক এক পাদ করিয়া ক্রম তিন পাদ উদ্ধার করিয়াছেন। ৭৭
এই প্রণব ও ভূভুবঃ স্বঃ এই ব্যাহৃতিপূৰ্ব্বিকা ত্রিপদা গায়ত্রী সন্ধ্যার সময়ে যে ব্রাহ্মণ অবহিতমনে জপ করেন, তিনি বেদত্রয় অধ্যয়নের পুণ্যে যুক্ত হয়েন। ৭৮॥
সহস্রকৃত্বভ্যস্য
বহিরেতকিং দ্বিজঃ ।
মহতােহপেনসাে
মাসাত্ত্ববােহির্বিমুচ্যতে।
৭৯।
যে দ্বিজ এই প্রণবসহকতা ব্যাহৃতিযুক্ত ত্রিপদা গায়ত্রী নদীতীরাদি নির্জন প্রদেশে সহস্রবার জপ কয়েন, সর্প যেরূপ কুঞ্চক হইতে মুক্ত হয়, তদ্রুপ তিনি এক মাসের মধ্যেই মহৎ পাপ হইতে মুক্ত হয়েন;অতএব অবশ্য ইহা জপ করা কর্তব্য। ৭৯॥
এতয়র্চা
বিসংযুক্তঃ কালে চ ক্রিয়া স্বয়া।
ব্ৰহ্মক্ষত্রিয়বিড়
যােনির্গহণাং যাতি সাধু। ৮০।
ওঙ্কারপূৰ্বিকাস্তিস্রো
মহাব্যাহৃতয়ােহ ব্যয়াঃ।
ত্রিপদা
চৈব সাবিত্রী বিজ্ঞেয়ং ব্রহ্মণে মুখ ॥৮১।
সন্ধ্যাসময়ে অথবা অন্য কোন কালে যে দ্বিজ এই গায়ত্রী জপ না করে, অথবা সায়ং-প্রাতে হােমাদি না করে, সেই ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ইহারা সাধুলোকের নিকট নিন্দিত হয়। ব্ৰহ্মপ্রাপ্তির কারণ যে ওঙ্কার, ভূঃ ভুবঃ স্বঃ এই তিন মহাব্যাহৃতি এবং ট্রিপদা গায়ত্রী, ইহাকে বেদের আদি বলিয়া স্বীকার করিবে।৮১॥
যোহধীতেহহহন্যেতাং
ত্রীণি বর্ষাণ্যতক্রিত।
স
ব্ৰহ্ম পরমভ্যেতি বায়ুভূতঃ খমুৰ্ত্তিমা ॥৮২।
একাক্ষরং
পরং ব্রহ্ম প্রাণায়ামঃ পরং তপঃ।
সাবিত্র্যাস্তু
পরং নাস্তি মোনাৎ সত্যং বিশিষ্যতে।৮৩।
অতএব যে ব্যক্তি প্রতিদিন আলস্যশূন্য হইয়া তিন বৎসর প্রণব ও ব্যাহৃতিযুক্ত ত্রিপদা গায়ত্রী জপকরেন, তিনি বায়ুর ন্যায় যেখানে মনে করেন, তথায় যাইতে পারেন ও তিনি ব্রহ্মত্ব প্রাপ্ত হয়েন। ৮২॥
অকার-উকারমকারাত্মক একাক্ষর প্রণবই পরব্রহ্মস্বরূপ, প্রাণায়াময়ই চান্দ্রায়ণাদি, প্রণব ও ব্যাহৃতির সহিত গায়ত্রীজপই পরম তপস্যা জানিবে ; গায়ত্রী হইতে উৎকৃষ্ট মন্ত্র কিছুই নাই। মৌনাবলম্বন অপেক্ষা সত্য কথা বলা ভাল; ইহার তাৎপৰ্য এই যে, প্রণব, প্রাণায়াম, গায়ত্রী, সত্যকথা এই চারিটির সর্বদা উপাসনা করিবে। ৮৩॥
ক্ষরন্তি
সর্বা বৈদিকো জুহােতি যজতি ক্রিয়াঃ।
অক্ষরক্ষয়ং
জ্ঞেয়ং ব্রহ্ম চৈব প্রজাপতিঃ ॥ ৮৪ |
বিধিযজ্ঞাজ্জপযজ্ঞাে
বিশিষ্টো দশভিগুণৈঃ ।
উপাংশুঃ
স্যাচ্ছতগুণঃ সহস্রো মনসঃ মৃতঃ ॥ ৮৫।
বেদবিহিত
হােম-যাগাদি সমুদয় কর্ম্মই বিনষ্ট হয়, কেবল প্রণবই পরব্রহ্ম প্রাপ্তির হেতুভূত, এ জন্যই
অক্ষয়, ইহার বিনাশ নাই। ফলতঃ প্রণবই প্রজাদিগের অধিপতি পরব্রহ্ম হয়েন। দর্শপৌণমাস প্রভৃতি যাগাপেক্ষ। ওঙ্কারাদির জপরূপষজ্ঞ দশগুণে অধিক শুভপ্রদ। সেই জপ যদি উপাংশুরূপে অনুষ্ঠিত হয় অর্থাৎ সমীপস্থ লােকেও শুনিতে না পায়, তাহা হইলে তাহাতে শতগুণ ফল হয় ; উহার মানস জপ অর্থাৎ যাহাতে জিহ্বা অল্পও না নড়ে, তাহাতে সহস্র ফল জন্মে।॥৮৪-৮৫॥
যে
পাক্যজ্ঞাশ্চত্বরে বিধিযজ্ঞসমন্বিতাঃ।
সৰ্বে
তে জপযজ্ঞস্য কলাং নার্ফন্তি ষােড়শী। ৮৬।
জপ্যেনৈব
তু সংসিধ্যেদ ব্রাহ্মণাে না সংশয়ঃ ।
কুৰ্য্যাদন্যম
বা কুৰ্যামৈত্রো ব্রাহ্মণ উচ্যতে । ৮৭।
মহাযজ্ঞের অন্তর্গত বৈশ্বদেবহােম, বলিকৰ্ম্ম, নিত্যা ও অতিথিভােজন এই চারি পাকষজ্ঞ ও দর্শপৌৰ্ণমাস প্রভৃতি বিধিযজ্ঞ সমুদয় প্রণবাদি উচ্চারণরূপ জপযজ্ঞের ঘােড়শী কলাৱও যােগ্য হয় না। ৮৬॥
ব্রাহ্মণের কেবল জপ দ্বারাই সিদ্ধিলাভ করবেন, তাহাতে আর সংশয় নাই। বৈদিক যাগাদি অর্থ কর্মকরুন বা না করুন, মৈত্র অর্থাৎ পশুজীবাদির হিংসাশূন্য হইয়া জপপরায়ণ হইলেই তাহাকে ব্রাহ্মণ বলা যায় ; তিনি ব্রহ্মে লীন হয়েন। ৮৭॥
ইন্দ্রিয়াণাং
বিচরতাং বিষয়েপহারিয় ।
সংযমে
যতুমাতিষ্ঠেদ্বিদ্বান্
যন্তে বাজিমাম্ ॥৮॥
একাদশেয়ািণ্যাহুর্ষানি
পূর্বে মনীষিণঃ।
তানি
সম্যক্ প্রবক্ষ্যামি যথাবনুপূৰ্ব্বশঃ ॥ ৮৯।
শ্রোত্র
ত্বক্ চক্ষুষী জিহ্বা নাসিকা চৈব পঞ্চমী।
পায়ুপন্থং
হস্তপদং বা চৈব দশমী
স্মৃতা। ৯০।
যেমন সারথি রথে নিয়োজিত অশ্বসমূহের নিয়মনে যত্নবান্ হয়, তদ্রুপ বিদ্বান্ মানুষেরা চিত্তাকর্ষণকারী বিষয়সমূহে ভ্রাম্যমাণ ইন্দ্রিয়গণের সংযমনের জন্য যত্নবিধান করিবেন। ৮৮॥
পূর্বতন পণ্ডিতেরা যে একাদশ ইন্দ্রিয় বলিয়াছেন, আমি আনুপূর্ব্বাক্রমে সেই সকল ইন্দ্রিয়দিগের নামকরণ করিতেছি। ৮৯॥
কর্ণ, তক, চক্ষু,জিহ্বা, নাসিকা এই পাঁচ এবং পায়ু, উপস্থ, হস্ত, পদ ও বাক এই পাচ উভয়ে দশ ইন্দ্রিয় জানিৰে। ৯০॥
বুদ্ধীন্দ্রিয়াণি
পঞ্চমাং শ্রোত্রাদয়নুপূৰ্ব্বশঃ।
কৰ্ম্মেন্দ্রিয়াণি
পঞ্চাং পাযদীনি প্রচক্ষতে | ৯১।
একাদশং
মনাে জ্ঞেয়ং স্বগুণেনােভয়াত্মক।
যস্মিন্
জিতে জিতাবেতো ভবতঃ পঞ্চকো গণৌ ॥ ৯২।
ইন্দ্রিয়াণাং
প্রসঙ্গেন দোষমৃচ্ছত্যসংশয়।
সংনিয়ম্য
তু তাষ্ণেব ততঃ সিদ্ধিং নিগচ্ছতি। ৯৩।
ন
জাতু কামঃ কামানামুপভোগেন শামতি।
হবিষা
কৃষ্ণবত্মেব ভূয় এবাভিবর্ধতে। ৯৪
ইহার
মধ্যে আনুপূৰ্ব্ব ক্রমে শ্রোত্রাদি পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে বুদ্ধিন্দ্রিয় ও পায়ু প্রভৃতি
পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে
কৰ্ম্মেইন্দ্রিয় বলা যায়। ৯১॥
অন্তরিন্দ্রিয় মনকে লইয়া ইন্দ্রিয়ের একাদশ সংখ্যা পূর্ণ হয়, মন সঙ্কল্পসহকারে বুদ্ধীন্দ্রিয় ও কর্মেন্দ্রিয় উভয়ের প্রবর্তক হয়, অতএব মনকে জয় করতে পারিলেই প্রােক্ত দশ ইন্দ্রিয়কেই জয় করা হয়। ৯২॥
ইন্দ্রিয়গণের বিষয়ে একান্ত আসক্তি হওয়াতেই জীবেরা কেবল দৃষ্ট ও অদৃষ্ট দোষ প্রাপ্ত হয় সন্দেহ নাই, অতএব ইন্দ্রিয়দিগকে নিগ্রহ করিতে পারিলেই মনুষ্য অনায়াসে ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম, মােক্ষরূপ পুরুষাৰ্থ প্রাপ্ত হইতে পারে। ৯৩॥
বিষযোপভােগ দ্বারা কামনায় কখনই শান্তি হয় না বরং পূৰ্ব্বাপেক্ষা অধিকই হয়, যেমন ঘৃত দ্বারা অগ্নি নির্বাণ হয় না, প্রত্যুত আরও প্রজ্বলিত হইয়া উঠে। ৯৪॥
যশ্চৈতা
প্রাপ্তয়াৎ,সৰ্বান যশ্চৈত কেবলাংস্ত্যজেৎ।
প্রাপণাৎ
সর্বকামানাং পরিত্যাগগা বিশিষ্যতে ॥৯৫॥
ন
তথৈতানি শক্যন্তে সংনিয়মসেবয়া ।
বিষয়ে
প্রজুষ্টানি যথ। জ্ঞানেন নিত্যশঃ ॥ ৯৬।
যে ব্যক্তি সমুদয় বিষয় লাভ করে ও যে ব্যক্তি সমুদয় বিষয়বাসনা পরিত্যাগ করে, তন্মধ্যে বিষয়েপভােগী ব্যক্তি অপেক্ষা বিষয়বাসনাবিহীন ব্যক্তিই প্রশংসনীয় হয়। ৯৫॥
এক্ষণে ইন্দ্রিয়নিগ্রহের উপায় কহিতেছেন।-ইন্দ্রিয়গণ স্বভাবতঃ বিষয়ে আসক্ত, বিষয়ের নশ্বরত্বাদি দোষজ্ঞান দ্বারা তাহাদিগকে বিষয় হইতে যেমন নিবৃত্ত করিতে পারা যায়, বিষয়সেবা করিলে তেমন পারা যায় না; অতএব প্রথমােক্ত উপায় দ্বারা ইন্দ্রিয়গণের নিগ্রহ করা কর্তব্য। ৯৬॥
বেদান্ত্যাগশ্চ
যজ্ঞাশ্চ নিয়মাশ্চতপাংসি চ।
ন
বিপ্ৰদুষ্টভাবস্য সিদ্ধিং গছন্তি কহিচিৎ ॥ ৯৭।
ত্ব।
স্পৃষ্টা চ দৃষ্টা চ
ভুক্ত। স্রাত্বা চ যাে নরঃ।
ন
হৃষ্যতি গ্লায়তি বা স বিজ্ঞেয়াে
জিতেন্দ্রিয়ঃ ॥ ৯৮ |
ইন্দ্রিয়াণাস্তু
সর্বেষাং যদ্যেকং ক্ষরতীন্দ্রিয়ম্।
তেনাস
ক্ষরতি প্রজ্ঞা দৃতেঃ পাদাদিবােদক। ৯৯।
যাহারা বিষয়সেবায় একান্ত আসক্ত হইয়া দুষ্টভাবাপন্ন হইয়াছে, তাহাদিগের বেদাধ্যয়ন, দান, যজ্ঞ, বিষয় ও তপস্যা কখনই সিদ্ধ হয় না। ৯৭॥
স্তুতিবাদ বা নিন্দাবাদ শ্রবণ করিয়া, সুখস্পর্শ বা দুঃখস্পর্শ বস্তু স্পর্শ করিয়া, সুরূপ বা কুরূপ দশন করিয়া, সুস্বাদ বা বিস্বাদ বস্তু ভােজন করিয়া, সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ ঘ্রাণ লইয়া যে মনুষ্যের হর্ষ ও বিষাদ না হয়, তাহাকেই জিতেন্দ্রিয় বলা যায়। ৯৮॥
যেমন কোন জলপূর্ণ পাত্রে একটি ছিদ্র থাকিলে তদ্বারা সমুদয় জল বহির্গত হইয়া যায়, সেইরূপ সমুদয় ইন্দ্রিয়ের মধ্যে যাহার একটি ইন্দ্রিয়ও কোন বিষয়ে একান্ত আসক্ত হয়, তাহার আর সমুদয় ইন্দ্রিয় সংযত থাকিলেও তত্ত্বজ্ঞান বিলুপ্ত হইয়া যায়। ৯৯॥
বশে
কৃত্বেন্দ্রিয়গ্রামং
সংযম্য চ মনস্তথা।
সৰ্বান্
সংসায়েদৰ্থানক্ষিণ যােগতস্তম্ ॥ ১০০ ।
পূৰ্বাং
সন্ধ্যাং জপংস্তিষ্ঠেৎ সাবিত্রীমাকদর্শনাৎ।
পশ্চিমা সমাসীনঃ সম্যগৃক্ষবিভাবনাৎ। ১০১।
জ্ঞানেন্দ্রিয় ও ককর্ম্মেন্দ্রিয়দিগকে আয়ত্ত ও সংযত করিয়া এবং দেহকে যাতনা না দিয়া কোন উপায় দ্বারা সমুদয় পুরুষার্থের সাধন করিবে। ১০০॥
আসনে এক স্থানে দণ্ডায়মান হইয়া গায়ত্ৰীজপ করত সুৰ্যোদয়কাল পর্যন্ত প্রাতঃসন্ধ্যার উপাসনা করিবে এবং যে পর্যন্ত সম্যকরূপে নক্ষত্রমণ্ডলের সন্দর্শন না হয়, ততক্ষণ আসনে সমাসীন হইয়া সাংসন্ধ্যায় উপাসনা করিবে। ১০১॥
পূৰ্বাং
সন্ধ্যাং জপংস্তিমৈশমেনো ব্যপেহতি।
পশ্চিমা
সমাসীনে মলং হন্তি দিবাকৃতম্ ॥১০২
প্রাতঃকালে দণ্ডায়মান হইয়া সন্ধ্যোপাসনা করিলে অজ্ঞানকৃত নিশাসম্বন্ধীয় সমুদয় পাপ বিনষ্ট হইয়া যায় এবং আসনে সমাসীন হইয়া সাংসন্ধ্যার উপাসনা করিলে দিবসজনিত অজ্ঞানকৃত সমুদয় পাপ হইতে নিষ্কৃতিলাভ হইয়া থাকে। ১০২॥
ন
তিষ্ঠতি তু যঃ পূর্বাং
নােপান্তে যশ্চ পশ্চিমাম্।
স
শূদ্ৰবহিষ্কাৰ্যঃ সৰ্বশ্মদ্বিজকর্মণঃ ॥ ১০৩।
অপাং
সমীপে নিয়ত নৈত্যকং বিধিমাস্থিত।
সাবিত্রীমপ্যধীয়ীত
গত্বারণ্যং সমাহিতঃ ১০৪।
যে ব্যক্তি প্রাতঃসন্ধ্যার অনুষ্ঠান না করে ও যে সায়ংসন্ধ্যার আরাধনা না করে, সে শূদ্রের ন্যায় বিজাতিগণের সমুদয় কর্তব্য কৰ্ম্ম হইতে বহিষ্কৃত হয়। ১০৩॥
বিজাতির ইন্দ্রিয় সংযমন পূর্বক নির্জন কাননে গমন করিয়া, নদী-নির্ঝরাদি জলসমীপে নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম সকল সম্পন্ন করিয়া অনন্যমনে প্রণব-ব্যাহৃতি-সহকৃত গায়ত্রী অধ্যয়ন করিবে। ১০৪॥
বেদেপকরণে
চৈব স্বাধ্যায়ে চৈব নৈত্যকে।
নানুরােখােস্ত্যনধ্যায়ে
হােমমন্ত্রে চৈব হি। ১০৫।
নৈত্যকে
নাস্ত্যনধ্যায়ে ব্ৰহ্মসত্ৰং হি তৎ স্মৃতম্।
ব্ৰহ্মাহুতিহুতং
পুণ্যমনধ্যায়বটকৃতম্
॥ ১০৬।
অধ্যয়ননিষিদ্ধ দিনেও শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ, জ্যোতিষরূপ বেদাঙ্গে, নিত্যকর্তব্য সন্ধ্যাবন্দনাদিতে
এবং হােমমন্ত্রে অধ্যয়নের বাধা নাই। ১০৫
নিত্য কর্তব্য জপযজ্ঞাদিতে অধ্যয়নের নিষেধ নাই, যেহেতুে, ইহার বিরাম না থাকাতেই মন্বাদি ইহাকে ব্ৰহ্মসত্ৰ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন; ব্ৰহ্মাহুতি বেদরূপ যে হবনীয় দ্রব্য, তদ্বারা আহত যে অধ্যয়ন, তাহা অধ্যায়দিবসে অনুষ্ঠিত হইলেও পুণ্যজনক হয়, অর্থাৎ অনধ্যায়দিবসে বিরাম হোইলে উহায় নিত্যত্ব থাকে না। ১০৬
যঃ
স্বাধ্যায়মধীতেইদং বিধি নিয়তঃ শুচিঃ।
তথ্য
নিত্যং ক্ষরত্যেষ পয়াে দধি ঘৃতং মধু। ১০৭।
অমীনং
ভৈক্ষ্যচৰ্যামধঃশয্যাং
গুরােহিত।
আ
সমাবর্তনাৎ কুৰ্য্যাৎ কৃতােপনয়নাে দ্বিজঃ ॥ ১০৮ |
যে
ব্যক্তি শুদ্ধভাবে সংযত শরীরে বিধানানুসারে অন্তত এক বৎসর ব্যাপিয়া
জপ যজ্ঞের অনুষ্ঠান
কয়ে, সেই জপষজ্ঞ তাহার সম্বন্ধে ক্ষীর, দধি, ঘৃত, মধু ক্ষরণ করে অর্থাৎ এই সকল দ্রব্য
যারা তৎকর্তৃক দেবলােক ও পিৎলােকের তর্পন
করা হয়, তাঁহারা তাহাতে তৃপ্ত হইয়া অধ্যয়নকারীকে সকল অভিলাষ প্রদান করিয়া আপ্যায়িত করেন, কেবল বেদাধ্যয়নের এই ফল নহে, পুরাণাদির
অধ্যয়নেও এইরূপ ফল জানিবে। ১০৯
উপনীত
ব্রহ্মচারী সমাবর্তন পর্যন্ত অর্থাৎ যে অবধি পিত্রালয়ে
প্রতিনিবৃত্ত না হন, সে
পর্যন্ত গুরুকুলে
থাকিয়া প্রতিদিন প্রাতঃ-সায়াহ্নে হােমকাঠ ও ভিক্ষাঙ্গের আহরণ,
অশয্যায় শয়ন ও
গুরু সেবা করিবে ১০৮
আচাৰ্যপুত্রঃ
শুক্রযুনিদো ধাৰ্মিকঃ শুচিঃ।
আপুঃ
শক্তোহৰ্থদঃ সাধুঃ দােহধ্যাপ্যা দশ ধৰ্ম্মতঃ ॥
১০৯
নাপৃষ্টঃ
কস্যচিয়াম চান্যায়েন পৃচ্ছতঃ।
জানমপি
হি মেধাবী জড়বশ্লোক আচরেৎ। ১১০।
আচার্যের পুত্র, সেবাশুশ্রুষাদি পরিচর্যাকারক, জ্ঞানান্তরদাতা, ধাৰ্ম্মিক, মৃত্তিকাজলাদি দ্বারা শুদ্ধ, আত্মীয়, অধ্যয়নের গ্রহণধারণে সমর্থ, ধনদাতা, হিতেচ্ছু ও জ্ঞাতি এই দশ জনকে ধর্মানুসারে অধ্যয়ন কাইবে। ১০৯॥
কাহার অধ্যয়নে অক্ষরস্খলন হইতেছে, অথবা স্বররহিত অধীত হইতেছে দেখিয়া জিজ্ঞাসিত না হইলে বুদ্ধিমান গুরু শিষ্য বাতিরিক্ত কোন ব্যক্তিকে কোন কথা বলিবেন না; ভক্তি-শ্রদ্ধা সহকারে যেরূপ প্রশ্ন করিবার রীতি শাস্ত্রে উল্লিখিত আছে, যে ব্যক্তি তাহা উল্লম্বন করিয়া প্রশ্ন করে, তাহাকে কিছু বলিবে না; এই উভয় স্থলে জানিয়াও, জনসমাজে মুকের ন্যায় ব্যবহার করিবে।১১০॥
অধৰ্ম্মেণ
চ যঃ প্ৰাহ যশ্চাধৰ্ম্মেণ
পৃচ্ছতি।
তয়ােরন্যতরঃ
প্রৈতি বিদেষং বাধিগচ্ছতি ॥ ১১১
ধৰ্ম্মাথোঁ
যত্ৰ ন স্যাং শুশ্রুষা
বাপি তদ্বিধা।
তত্র
বিদ্যা ন বক্তব্য শুভং
বীজমিবােষরে ॥ ১১২।
বিদ্যয়ৈব
সমং কামং মৰ্তব্যং ব্রহ্মবাদিনা।
আপদ্যপি
হি ঘােরায়াং ন বেনামিরিণে বপেৎ॥১১৩।
যে
ব্যক্তি অধর্মানুসারে জিজ্ঞাসিত হইয়া উত্তর দেয়, এবং যে ব্যক্তি অন্যায়রূপে
জিজ্ঞাসা করে,
এই উভয়ের অন্যতর মরিয়া যায়, অথবা উভয়ে লােকের বিদ্বেষের পাত্র হয়। ১১১
যে শিষ্যের অধ্যাপনে ধৰ্ম বা অর্থ না থাকে, অথবা যাহার নিকট অধ্যাপনার অনুরূপ ও শুশ্রূষা না পাওয়া যায়, ক্ষারভূমিতে উৎকৃষ্ট বীজ বপন করিলে অঙ্কুরিত হয় না বলিয়া যেমন কে তথায় ব্রীহি-যবাদি বীজ বপন করে না, তদ্রুপ ঈদৃশ ছাত্রে বিদ্যাবীজ বপন করিবে না। ১১২॥
ব্রহ্মবাদীরা বরং বিদ্যার সহিত মরিয়া যাইবেন, তথাপি জীবনােপায়ের অতিশয় কষ্ট হইলে ও অধ্যাপনে যোগ্য শিষ্যের অভাবে অপাত্রে এই বিদ্যৰীজ বপন কৰিনে না । ১১৩॥
অসূয়কায়
মাং মাদাস্তথা স্যাং বীৰ্যবৰ্ত্তমা ॥ ১১৪।
যমেব
তু শুচিং বিদ্যামিয়তং ব্রহ্মচারিণম্।
তস্মৈ
মাং হি বিপ্রায় নিধিপায়াপ্রমাদিনে।
১১৫।
বিদ্যানুষ্ঠাত্রী দেবতা বিদ্বান্ ব্রাহ্মণের নিকট সমাগত হইয়া বলেন, “আমি তােমার নিধিস্বরূপ, আমার যত্নপূর্বক রক্ষা কর, অসুরাদি দোষবিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতি আমাকে অর্পণ করিও না, এরূপ রক্ষিত হইলেই আমি অতিশয় বলশালিনী থাকিব। ১১৪॥
যে
ব্যক্তিকে সর্ব্বদা শুদ্ধভাব, জিতেত্রিয় ও ব্রহ্মচারী বলিয়া
জানিবে, বিদ্যারূপ নিধির প্রতিপালক সেই সাবধান বিপ্রের হতে আমাকে সমর্পণ কর। ১১৫
ব্ৰহ্ম
যনসুজ্ঞাতমধীয়ানাদবায়াৎ।
স
ব্ৰহ্মন্তেয়সংযুক্তো
নরকং প্রতিপছতে। ১১৬ ।
লৌকিকং
বৈদিকং বাপি তথাধ্যাত্মিকমেব চ।
আদদীত
যত জ্ঞানং তং পূৰ্বমভিবাদয়েৎ ॥ ১১৭
॥ *
সাবিত্রীমাত্ৰসায়ােহপি
বরং বিপ্রঃ সুযন্ত্রিত।
নায়ন্ত্রিতস্ক্রিবেদোহপি
সৰ্বাশী সৰ্ববিক্রয়ী ॥ ১১৮ |
কেহ অভ্যাসের জন্য বেদ অধ্যয়ন করিতেছে কিম্বা কোন অধ্যাপক কোন শিষ্যকে বেদ অধ্যয়ন করাইতেছেন, যে ব্যক্তি অনুমতি ব্যতিরেকে সেই বেদ গ্রহণ করে, সে বেদাপহরণ জন্য পাতকী হইয়া নরক প্রাপ্ত হয়। ১১৬॥
যাহাদিগের নিকটে অর্থশাস্ত্রের বা বেদশাস্ত্রের অথবা আত্মতত্ত্বজ্ঞানের শিক্ষা পাওয়া যায়, অনেকানেক মাননীয় লােক থাকিলেও সেই শিক্ষকদিগকেই প্রথমে অভিবাদন করিতে হইবে, তাহারা তিন জন একত্ৰ থাকিলে প্রথমে ব্ৰহ্মজ্ঞানের গুরু, পরে বেদশাস্ত্রের গুরু, পরিশেষে অর্থশাস্ত্রের গুরুকে অভিবাদন করিবে। ১১৭॥
বিধিনিষেধের বশীভূত ব্রাহ্মণাদি বর্ণত্রয় যদি কেবল গায়ত্রীমাত্র পরিজ্ঞাত থাকেন, তথাপি যাহারা মাননীয় হয়েন, আর যিনি বিধিনিষেধের অবশীভূত, অর্থাৎ নিষিদ্ধ ভােজ্যদ্রব্যাদি-বিক্রেতা, তিনি ত্রিবেদজ্ঞ হইলেও শ্রেষ্ঠ নহেন। ১১৮॥
শয্যাসনেহধ্যাচরিতে
শ্রেয়সা ন সমাবিশেৎ।
শয্যাসনস্থশ্চৈবৈনং
প্রত্যুখীয়াভিবাদয়েৎ
॥ ১১৯।
উৰ্দ্ধং
প্রাণা স্থ্যৎজামন্তি যুনঃ স্থাবর আয়তি।
প্রত্যুত্থানাভিবাদাভ্যাং
পুনস্তান্ প্রতিপদ্যতে। ১২০।
বিদ্যা ও বয়সে অধিক গুরুতর লােক যে শয্যা বা আসন আপন নির্দিষ্টরূপে অধিকার করিয়া তাহাতে শয়ন বা উপবেশন করেন, বিদ্যাহীন বয়ঃকনিষ্ঠ ব্যক্তি কখন তাহাতে শয়ন বা উপবেশন করিবে না, আর ঐরূপ গুরুলােক সমাগত হইলে, বিদ্যাবয়ঃকনিষ্ঠ ব্যক্তি যদি শয্যায় বা আসনে উপবিষ্ট থাকে, তৎক্ষণাৎ প্রত্যুত্থান করিয়া তাহাকে অভিবাদন করিবে। ১১৯॥
বয়ােবিদ্যাদি দ্বারা জ্যেষ্ঠ আগমন করিলে, অল্পবয়স্ক যুবার প্রাণ যেন দেহ হইতে বহির্গমনের ইচ্ছা করে, অতএব আগন্তুক বয়ােজ্যেষ্ঠকে প্রত্যুত্থান অভিবাদন করিলে ঐ প্রাণ সুস্থ হয়, ইহা তাৎপর্য এই যে, আগত বিদ্যায়ােজ্যষ্ঠকে অবশ্য অভিবাদন করিবে। ১২০॥
অভিবাদনশীলস্য
নিত্যং বৃদ্ধোপসেবিনঃ।
চারি
তথ্য বর্ধন্তে আয়ুৰ্বিদ্যাযশাে বলম্ ॥ ১২১।
অভিবাদাৎ
পরং বিদ্রে জ্যায়াংসমভিবাদয়।
অসৌ
নামাহমশ্মীতি স্বং নাম পরিকীৰ্তয়েৎ। ১২২।
নামধেয়স্য
যে কেচিতিবাদং ন জানতে।
তান্
প্রজ্ঞাহহমিতি ক্ৰয়াৎ স্ত্রিয়ঃ সৰ্বাস্তথৈব চ। ১২৩।
যে যুবা বৃদ্ধ ব্যক্তি সমাগত হইলে সতত প্রণাম ও অভিবাদন এবং তাহার সেবা করে, তাহার পরমায়ু, বিদ্যা, যশ ও বল এই চারিটি সম্যকরূপে পরিবর্ধিত হয়। ১২১॥
ৰাহ্মণাদি বর্ণ যখন বৃদ্ধকে অভিবাদন করিবে, তখন অভিবাদনানন্তর "অভিবাদয়ে অমুক অমুক নামাহমস্মীতি" ‘আমি অমুক অভিবাদন করিতেছি বলিয়া আপন নাম উচ্চারণ করিবে। ১২২॥
যে ব্যক্তিকে অভিবাদন করিবে, তিনি যদি সংস্কৃত না জানেন, তাহা হইলে অভিবাদ্য ব্যক্তিকে অভিবাদনানন্তর ‘আমি অভিবাদন করি এই মাত্র বলিবে এবং স্ত্রীলােকদিগকেও আমি অভিবাদন করি এইরূপ বলিয়া অভিবাদন করিবে। ১২৩॥
0 comments:
Post a Comment